ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে গেছে ধানবোঝাই একটি ট্রাক। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২৯ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
খাড়া ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধানবোঝাই ট্রাকটি চিনোর দিক থেকে গোয়ালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরের দিকে আসছিল। মন্দিরে যাওয়ার পথে একটি খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নামার সময় চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীদের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকেও ধাক্কা লাগে।
নবরাত্রি উপলক্ষে ওই মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়েছিল। তাঁদের অনেকে মন্দিরে যাওয়ার পথে সড়কে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় দ্রুতগতিতে নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি তাঁদের ওপর উঠে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
নিহত ১৫, আহত প্রায় ২৯ জন
গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন পাঠানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং প্রায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর ছিল।
গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। এ সময় সড়কে থাকা তীর্থযাত্রীরা ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, তবু কীভাবে গেল ট্রাক
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নবরাত্রি উপলক্ষে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকার পাশাপাশি সড়কে প্রতিবন্ধক ও পুলিশের তল্লাশিচৌকিও স্থাপন করা হয়েছিল। এরপরও ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড অতিক্রম করে মন্দিরের কাছে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং কী কারণে সেটি বাঁ দিকে ঘুরে চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা খতিয়ে দেখতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, ট্রাকটির চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অমান্য করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাকের অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীর
দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ট্রাকটি অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের একজন তাঁর ভাই বলেও জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের উদ্ধার এবং হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজও জরুরি হয়ে পড়ে। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত
নবরাত্রির মতো ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশের ব্যারিকেড থাকার পরও এমন দুর্ঘটনা ঘটায় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে ট্রাকটির যান্ত্রিক অবস্থা, অতিরিক্ত বোঝাইয়ের অভিযোগ এবং সড়কে স্থাপিত ব্যারিকেড অতিক্রমের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
সূত্র: এনডিটিভি
কালের আলো/জেএন/এসএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৭ অপরাহ্ণ