সৌদির দিকে হুতিদের দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:২৭ অপরাহ্ণ

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। একই সঙ্গে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে আসা একটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জোট। এদিকে সৌদি আরবের বিমান হামলায় ইয়েমেনে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাঁদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও আকাশপথে নিরাপত্তা সতর্কতার ঘটনায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের তথ্য জানান। তাঁর দাবি, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রিয়াদে আকাশপথে হামলার সতর্কবার্তা
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের খবরের আগে রোববার স্থানীয় সময় ভোরে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে আকাশপথে হামলার হুমকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সতর্কবার্তায় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘরের ভেতরে অথবা জানালা ও দরজা থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় বলা হয়, এলাকায় শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকি রয়েছে। তবে সতর্কবার্তাটি পাঠানোর কয়েক মিনিট পর প্রত্যাহার করা হয়। হঠাৎ এমন সতর্কবার্তা ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তবে সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। জোটের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিয়াদের দিকে আসা একটি ড্রোন ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উৎক্ষেপণস্থল, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং সেগুলো ধ্বংস করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও ইয়েমেনের সংঘাতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নিহত অন্তত ১২
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) তাইজ প্রদেশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং আহতদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বেসামরিক মানুষের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে উদ্ধারকাজে দেরি হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।

ধামার প্রদেশেও হামলা, নিহত তিন শিশু
তাইজ প্রদেশের হামলার আগে ইয়েমেনের ধামার প্রদেশে রাতভর বিমান হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় তিন শিশু নিহত এবং আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। একাধিক এলাকায় হামলার খবর সামনে আসায় ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের প্রাণহানি এবং আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু, সামরিক অবস্থান কিংবা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সব ঘটনার ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।

ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ হুতিদের
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দাবি, সৌদি বিমান হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্লাস্টার বোমা বিস্ফোরিত হলে একটি মূল অস্ত্র থেকে বহু ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিস্ফোরক বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কিছু অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গেলে পরবর্তী সময়েও বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ইয়েমেনে সাম্প্রতিক হামলায় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, ঘটনাস্থলের প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি এবং ইয়েমেনে বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর একই সময়ে সামনে এসেছে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অংশ। এই সংঘাতে সামরিক অভিযান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ ঘটনাগুলোতে সৌদি আরবের সামরিক জোট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করলেও ইয়েমেনে হামলার অভিযোগ এবং ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে নতুন হামলা হয় কি না, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা কমাতে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তার ওপর। সূত্র: সিবিএস নিউজ ও বার্তা সংস্থা এএফপি

কালের আলো/এএএন/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন