ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানের কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:০২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় জাপান। এ পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, যা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত, সেগুলোকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশটি। জাপানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রোববার (১৮ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতারবাড়ী বন্দরকে ঘিরে একটি ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে জাপান। এর মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, বরং বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরের আগে এ পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। সফরে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রকল্প এবং ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় টোকিও
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র মাতারবাড়ী বন্দরের সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা রাখে।

জাপানের পরিকল্পনার মূল ভাবনা হলো, গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পকারখানা, পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এ বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা পেতে পারে।

বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প পথ উন্মুক্ত হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলটির সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ উন্নত করা গেলে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে সেভেন সিস্টার্সকে মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এখনো সম্ভাবনাভিত্তিক। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরিবহনব্যবস্থা, সীমান্তপারের বাণিজ্যনীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পেতে পারে মাতারবাড়ী প্রকল্প
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ।

সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাতারবাড়ী প্রকল্প বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠলে কেবল আমদানি-রপ্তানি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপানের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

গভীর সমুদ্রবন্দর হলে কমতে পারে বিদেশি বন্দরের ওপর নির্ভরতা
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

গভীর সমুদ্রবন্দরে বড় আকারের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারলে পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে মধ্যবর্তী বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা থাকে।

মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে বন্দরটি শুধু বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহনের কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ, পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সীমান্তপারের লজিস্টিকস ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে।

ব্যাংকককে অনুসরণযোগ্য মডেল মনে করছে জাপান
আঞ্চলিক শিল্পমূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অভিজ্ঞতাকে অনুসরণযোগ্য বলে মনে করছে জাপান। দ্য হিন্দুকে লিখিত জবাবে জাপানের ওই কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, বন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডরকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছে।

থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে জাপান অর্থায়ন এবং অবকাঠামো পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের বিভিন্ন ধাপকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাপানি কর্মকর্তাদের ধারণা, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করেও এ ধরনের মডেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।

এ পরিকল্পনার তাৎপর্য হলো, একটি বন্দরকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে একই সরবরাহব্যবস্থার আওতায় আনা। এতে কোনো একটি দেশের শিল্পাঞ্চল অন্য দেশের বাজার কিংবা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। তবে এ ধরনের আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
ভারতের সেভেন সিস্টার্স—অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা—অঞ্চলটির সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্য রয়েছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এসব রাজ্যের পণ্য পরিবহন ও সমুদ্রবাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে সড়ক, রেল ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোর কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বঙ্গোপসাগরমুখী একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ পেতে পারেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবহন, গুদামজাতকরণ, সরবরাহ ও বন্দরসংশ্লিষ্ট সেবার চাহিদাও বাড়তে পারে।

এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে এ ধরনের যোগাযোগ চালু করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদন, পরিবহন চুক্তি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন হবে।

মৈত্রী সেতু চালু না হওয়ায় রয়ে গেছে সীমাবদ্ধতা
মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় সীমান্তপারের বিভিন্ন যোগাযোগ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু উল্লেখযোগ্য। সেতুটি ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। এটি কার্যকরভাবে চালু হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং মাতারবাড়ী বন্দরের দিকে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ।

জাপানের কর্মকর্তারা অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের ধারণা, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, তবে প্রয়োজন আঞ্চলিক সমঝোতা
মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জাপানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামনে বন্দরনির্ভর শিল্পায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পরিকল্পনাটির সাফল্য শুধু বন্দর নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না। বন্দরকে শিল্পাঞ্চল, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, সীমান্তপারের পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলে এ পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হতে পারে। তবে সেভেন সিস্টার্সকে মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ এখনো পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে; এটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর। সূত্র: দ্য হিন্দু

কালের আলো/জেএন/এসএ

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন