পাঁচ ছেলে থাকতেও আশ্রয় মেলেনি ৮৫ বছরের জয়নব ভানুর

চাঁদপুর সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

পাঁচ ছেলে থাকলেও বার্ধক্যে এসে কারও ঘরে আশ্রয় পাননি ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানু। দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে ছেলেদের ঘরে ঠাঁই না পেয়ে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে স্বামীর ভিটায় একটি ছোট কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানান। শেষ পর্যন্ত মেয়ে ঝর্ণা বেগম মাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান।

ঘটনাটি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব কাদরা গ্রামের। জয়নব ভানু ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদের স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পাঁচ ছেলে থাকা সত্ত্বেও বার্ধক্যে এসে তাঁদের কারও ঘরেই তাঁর ঠাঁই হয়নি।

জয়নব ভানুর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে তিনি ছেলেদের ঘরে ঢুকতে পারেননি। একের পর এক দরজায় টোকা দিয়ে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার সামনেই বসে থাকেন তিনি। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নেন। তাঁদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে স্বামীর ভিটায় একটি ছোট কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

তবে জয়নব ভানুর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ছেলেদের পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। মেজো ছেলে আবুল কাশেম দাবি করেন, তাঁর মা দীর্ঘ এক বছর কোথায় ছিলেন, তা তিনি জানেন না। তবে মাকে কয়েকবার ডেকেছেন বলে জানান তিনি।

বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী বলেন, জয়নব ভানু তাঁদের ঘরের দরজার সামনে কয়েক মিনিট বসেছিলেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীও দাবি করেন, জয়নব ভানু কখন বাড়িতে এসেছেন, সে বিষয়ে তাঁরা অবগত নন।

মায়ের এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে ছুটে আসেন মেয়ে ঝর্ণা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। ছেলেরা মাকে নিজেদের বাড়িতে নিতে চান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান ঝর্ণা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের খান ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম বেলাল বলেন, তিনি আগে এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। একজন বৃদ্ধা মায়ের এমন পরিস্থিতির কথা শুনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ছেলেদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে এসআই আব্দুল বাতেনকে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়নি। ওই নারীর পাঁচ সন্তানই প্রবাসে থাকেন বলে জানান তিনি। এরপরও ছেলে-মেয়েদের কারও অবহেলা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জয়নব ভানুকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮৫ বছর বয়সে একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও পরিবারের সান্নিধ্য। জয়নব ভানুর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন