দুর্গাপূজার টানা ছুটির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় মাছ-মাংসের বেচাকেনাও আগের তুলনায় কমেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও মাংসের দামে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মিরপুরের ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকার বাজার এবং মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। ফার্মগেট ও সেগুনবাগিচার সিটি করপোরেশন বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানা গেছে।
মিরপুর ২ নম্বর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাংসের আটটি দোকানের মধ্যে তিনটি বন্ধ রয়েছে। খোলা দোকানগুলোতেও বিক্রি তুলনামূলক কম। একটি দোকানে হোটেলে জবাই করা গরুর মাথা, পা ও কম দামের বিভিন্ন অংশ বিক্রি করতে দেখা যায়। বন্ধ থাকা একটি মাংসের দোকানের বিক্রেতা মো. জসিম বলেন, এবার দুর্গাপূজার ছুটি ঈদের ছুটির মতো দীর্ঘ হয়েছে। গতকাল থেকেই বাজারে মানুষের আনাগোনা কমেছে। সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন ধারণা থেকে অনেক বিক্রেতা গরু জবাই করেননি। জসিমের ভাষ্য, গরুর দামও বেশি। সব মিলিয়ে গরুর মাংসের দাম বেশি পড়ছে। অন্য সময়ে কিছুটা কম দামে মাংস বিক্রি করা গেলেও বর্তমানে প্রতি কেজি ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন দামে। দেশি কৈ মাছ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বড় বোয়াল ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা, ভেনামি চিংড়ি ৮০০ টাকা এবং রূপচাঁদা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি ছোট চিংড়ি প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, শরপুঁটি ২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, মাঝারি বাইম ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং বড় বাইম ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে বাটা প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, ছোট সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বড় সিলভার কার্প ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজলি মাছের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, গুঁড়া মাছ ৬০০ টাকা, কাচকি ৫৫০ টাকা এবং পাবদা ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।
ওজনভেদে রুই মাছের দামেও পার্থক্য রয়েছে। এক কেজির কম ওজনের রুই প্রতি কেজি ২৯০ টাকা এবং দুই কেজি পর্যন্ত ওজনের রুই ৩৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছ। অন্যদিকে, এক কেজি ওজনের আইড় মাছের দাম ৬০০ টাকা। মাছটির ওজন বেশি হলে দাম বেড়ে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে।
মিরপুর বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সজল বলেন, গত শুক্রবারের তুলনায় এবার বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুজনের সংখ্যাই কম। টানা ছুটির কারণে চাকরিজীবীদের পাশাপাশি অনেক মাছ ব্যবসায়ীও বাড়ি গেছেন কিংবা অন্য কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ক্রেতার উপস্থিতিও কম থাকায় সামগ্রিকভাবে বেচাকেনা কম হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যাঁরা কেনাকাটা করতে আসছেন, তাঁদের অনেকেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে চলে যাচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বাজারে মানুষের ভিড় কম।
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী আলী আসগর বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত বাজারে ক্রেতার ভিড় বেশি থাকে। এ সময় মাছও তুলনামূলক তাজা পাওয়া যায়। তবে মঙ্গলবার বাজারে ক্রেতার ভিড় কম ছিল, মাছ বিক্রেতার সংখ্যাও ছিল কম। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ায় মাছ-মাংসের বেচাকেনায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও গরু ও খাসির মাংসের দাম এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:৪৩ অপরাহ্ণ