মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণের পর রাজধানীতে নম্বর প্লেট তৈরির দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। চাহিদা বাড়ায় অনেক দোকানে দিন-রাত কাজ চললেও কোথাও কোথাও প্লেট পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময়।
রাজধানীর বংশাল, পল্টন, মগবাজার, ডেমরা, ধোলাইখাল ও শ্যামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ধাতব প্লেট প্রস্তুতকারীদের কাছে অর্ডার বাড়ছে। সরাসরি দোকানের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর বিক্রেতারাও এ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেটের জন্য ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়লেও চাহিদার চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে আগে প্রায় ৪০ মিনিটে প্লেট তৈরি করা সম্ভব হলেও বর্তমানে অপেক্ষার সময় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
- অপরাধ শনাক্তকরণে বাড়তি নজরদারির সম্ভাবনা
- নির্দেশনা বাস্তবায়নে মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিই চ্যালেঞ্জ
দাম ও মান নিয়ে প্রশ্ন
প্লেটের উপকরণ, আকার ও মানভেদে দামেও পার্থক্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ প্লেটের দাম প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। অন্যদিকে, কিছু দোকানে আকার ও উপকরণভেদে দাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। অ্যালুমিনিয়ামের প্লেট তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্লেট লাগানোর তাড়াহুড়ায় যেন মান ও নকশার শর্ত উপেক্ষিত না হয়। বাজারে একাধিক বিক্রেতা সক্রিয় হওয়ায় ক্রেতাদেরও নিশ্চিত হতে হবে, কেনা প্লেটটি বিআরটিএর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
নিরাপত্তা বাড়বে, প্রয়োজন কার্যকর তদারকি
সামনে ও পেছনে নিবন্ধন নম্বর দৃশ্যমান থাকলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী কিংবা অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। বিশেষ করে পেছনের নম্বর প্লেট আড়াল করে রাখার প্রবণতা মোকাবিলায় সামনের প্লেট সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতাও এতে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শুধু নম্বর প্লেট লাগানো নিশ্চিত করলেই প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না। নম্বরের পাঠযোগ্যতা, প্লেটের যথাযথ অবস্থান, নিয়মিত তদারকি এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য নির্দেশনা সহজলভ্য করা এবং মানসম্মত প্লেট ন্যায্য দামে পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
নির্ধারিত মাপেই তৈরি করতে হবে প্লেট
বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের প্লেটের মাপ হবে ২০০ বাই ১০০ মিলিমিটার। অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে মাপ ২৮৫ বাই ৫০ মিলিমিটার। প্লেট তৈরি করতে হবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে। পটভূমি সাদা, আর বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা কালো হতে হবে। অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখার পাশাপাশি নকশা বা বাড়তি সাজসজ্জা পরিহার করতে হবে। সামনের নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ সড়কে যান শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদারের সুযোগ তৈরি করছে। তবে এর বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নির্দেশনার যথাযথ অনুসরণ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের ওপর। ১৫ নভেম্বরের সময়সীমা তাই শুধু প্লেট লাগানোর তাগিদ নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাটি কতটা সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তারও পরীক্ষা।
কালের আলো/এসএ/এএএএন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:২৯ অপরাহ্ণ