ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এড়াতে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। চলতি মৌসুমেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের কয়েকটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। এসব ড্রোন দিয়ে ম্যাচ চলাকালে মাঠের বিভিন্ন ঘটনা ধারণ করা হবে। কোনো বিতর্ক তৈরি হলে ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রানআউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে মাঠ ছাড়ল দল
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ—বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। অতীতে এসব বিতর্ক বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটে বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমি ও মিরপুর ওয়ারিয়র্সের মধ্যকার ম্যাচে ঘটে এমনই একটি ঘটনা। রানআউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। মিরপুর ওয়ারিয়র্স আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না করলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিং প্রভাবিত করার অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারকে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের বাকি ম্যাচগুলোতে আর দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় রাখার পরিকল্পনা
আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক কমাতে এর আগেও মাঠে ক্যামেরা স্থাপন করেছিল সিসিডিএম। এবার ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়াতে চায় সংস্থাটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে মাঠে কী ঘটছে, তা ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা হবে। সিসিডিএমপ্রধান মঈন উদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, মাঠের সব মুহূর্তই যেন ক্যামেরাবন্দী থাকে, যাতে সব ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এ জন্য আমরা কয়েকটা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেগুলো পুরো ম্যাচে মাঠে কী কী ঘটনা ঘটে, সেসব ক্যামেরায় ধারণ করবে।’ ড্রোনের ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিসিডিএমের। ঢাকার সব ধরনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রথম বিভাগ লিগের আগেই ড্রোন কেনার লক্ষ্য
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে তৃতীয় বিভাগ বাছাই শেষ হওয়ার পর ১৫ নভেম্বর শুরু হবে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। তার আগেই ড্রোন ক্যামেরাগুলো কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিবি। ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য এডিআরএস (অ্যাডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। এই ব্যবস্থা চালু হলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে ক্রিকেটারদের তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রযুক্তিতে কমবে কি আম্পায়ারিং বিতর্ক?
ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রানআউট, মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের আচরণ কিংবা কোনো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য সহায়ক হতে পারে। তবে ড্রোনের ফুটেজ ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক আম্পায়ার নিয়োগ, নিরপেক্ষ ম্যাচ পরিচালনা এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক কমাতে এই উদ্যোগ কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।
কালের আলো/এমএএইচ/এসএ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:৪১ অপরাহ্ণ