দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারী ২৪ কোটি, বাড়ছে ডিজিটাল অর্থনীতি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:২৩ অপরাহ্ণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। অঞ্চলটিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৪ কোটি ছাড়িয়েছে। প্রযুক্তিটির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ই-কমার্স, অনলাইন ভ্রমণ, পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের মতো ডিজিটাল সেবার প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

এ প্রবণতার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ৩৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। গত বছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৭ শতাংশ। গুগল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান টেমাসেক এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কম্পানির যৌথ প্রতিবেদন ‘ই-কনমি এসইএ’-তে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

ই-কমার্সে বদল আনছে এআই
জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার অনলাইন কেনাকাটার অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিক্রেতারা এআই ব্যবহার করে পণ্যের প্রচারমূলক ভিডিও ও বিপণনসামগ্রী তৈরি করছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ, প্রয়োজন ও কেনাকাটার ধরন অনুযায়ী পণ্যের সুপারিশ পাচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টি দেশের ভোক্তাদের ওপর পরিচালিত জরিপে ৬৯ শতাংশ ক্রেতা জানিয়েছেন, পণ্য তুলনা করার কাজে তাঁরা এআই ব্যবহার করেন। এতে ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন পণ্যের বৈশিষ্ট্য, দাম ও সুবিধা যাচাই করা সহজ হচ্ছে। বেইন অ্যান্ড কম্পানির অংশীদার ফ্লোরিয়ান হপের মতে, এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে ই-কমার্সে বিক্রির সম্ভাব্য রূপান্তর হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে।

২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে ই-কমার্স
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত ই-কমার্স। প্রতিবেদনটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ খাতের বাজারের আকার ২২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এর আকার ছিল ১৯১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৮ শতাংশ। এআইয়ের মাধ্যমে পণ্য খোঁজা, বিকল্প পণ্যের তুলনা, ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সুপারিশ এবং বিপণন কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ায় অনলাইন কেনাকাটার বাজার সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অনলাইন ভ্রমণেও বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার
ডিজিটাল অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত অনলাইন ভ্রমণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ খাতের লেনদেন ২০২৬ সালে ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল ও ছুটির আবাসন বুকিংয়ের চাহিদা এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভ্রমণের গন্তব্য নির্বাচন, ভ্রমণসূচি তৈরি, বুকিং এবং পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।

এআইভিত্তিক সহকারীর মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প খুঁজে নিতে পারছেন। এতে ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিবহন ও খাবার সরবরাহের বাজারেও প্রবৃদ্ধি
প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইনে পরিবহন বুকিং ও খাবার সরবরাহের বাজারের আকার চলতি বছর ৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে এ বাজারের আকার ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১৫ শতাংশ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, অনলাইনে সেবা গ্রহণের অভ্যাস এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এ বাজারের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে।

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আশাবাদী পূর্বাভাস
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আসিয়ান অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি এ অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভিযোজন এবং ডিজিটাল সেবার প্রতি মানুষের আস্থার ওপর।

কালের আলো/এসএ/জেএন

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন