ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধের লড়াই, কী পরিকল্পনা বাংলাদেশের?

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

লিগ পর্বে ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত নিয়েই ফাইনালের মঞ্চে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল। এবার বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই হারের জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে। তবে প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বপ্নের পাশাপাশি আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

ফাইনালের আগে দলের অনুশীলনে গুরুত্ব পেয়েছে দুটি বিষয়—ভারতের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করা এবং বলের দখল ধরে রাখা। আগের ম্যাচে ভারতের গতি সামলাতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

ভারতের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই প্রধান লক্ষ্য
বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, আগের ম্যাচে ভারত পুরো ৬০ মিনিট একই গতিতে খেলতে পেরেছিল। বিশেষ করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে এসে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলেছিল তারা। সেই আক্রমণগুলো থামাতে না পারাই বড় ব্যবধানের হারের অন্যতম কারণ।

তাই ফাইনালের প্রস্তুতিতে কোচের মূল পরিকল্পনা, ভারতকে সহজে ফাস্ট ব্রেকের সুযোগ না দেওয়া। বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরে আসা, আক্রমণে অপ্রয়োজনীয় ভুল কমানো এবং প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতকে এবারের আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করলেও লড়াইয়ের আশা ছাড়েননি আলোনসো। তাঁর বিশ্বাস, আগের ম্যাচের তুলনায় ভালো খেলতে পারলে ভারতকে সমানতালে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তবে সে জন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এবং ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।

৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
হ্যান্ডবলে একটি ছোট ভুলও দ্রুত বড় ব্যবধানে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণে দক্ষ, তখন বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা আক্রমণে ভুল পাস দেওয়া বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের জন্য তাই শুধু আক্রমণ গড়ে তোলাই নয়, বল হারানোর পর দ্রুত নিজেদের রক্ষণ সাজানোও গুরুত্বপূর্ণ।

কোচের মতে, ভালো ফলের সম্ভাবনা তৈরি করতে হলে আক্রমণে ভুলের সংখ্যা কমাতে হবে এবং পুরো ম্যাচে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। মাঝপথে একাগ্রতা হারালে আগের ম্যাচের মতো ব্যবধান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে আরও বেশি অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন কোচ। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা ও ম্যাচের গতি সামলানোর সক্ষমতা বাড়তে পারে।

ভুল শুধরে ভালো ম্যাচ উপহার দিতে চান খেলোয়াড়েরা
ফাইনালের আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও নিজেদের ভুল সংশোধনের প্রত্যয় দেখা যাচ্ছে। দলের সদস্য মাসুদা আক্তার মনে করেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলে ফাইনালে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া সম্ভব। মাসুদা আক্তারের কথায়, ‘ভুলগুলো শোধরাতে পারলে ভালো একটা ম্যাচ উপহার দেওয়া যাবে।’

তাঁর বক্তব্যে জয়ের নিশ্চয়তার চেয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অঙ্গীকারই বেশি স্পষ্ট। আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার অন্তত আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ। গোলের ব্যবধান কমিয়ে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দেখানোও দলের অন্যতম লক্ষ্য।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় সমন্বয়ে আস্থা
দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সমন্বয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই সমন্বয় ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ভারতের আক্রমণ থামানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণে কার্যকর হতে হবে বাংলাদেশকে। সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হবে। তাই বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণে ধৈর্য দেখানো এবং ভুল কমানোর বিষয়গুলোই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিশোধের স্বপ্ন, বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা
লিগ পর্বে ৪৭-১৩ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ফাইনালে সেই ব্যবধানের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুনভাবে শুরু করতে হবে দলকে। তবে ভারতের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও ম্যাচের ফল নির্ভর করবে মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ তাই দ্বিমুখী—ভারতের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকানো এবং নিজেদের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফাইনালে বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু আগের হারের জবাব দেওয়া নয়, নিজেদের খেলায় উন্নতির প্রমাণও রাখা। ৬০ মিনিটের লড়াইয়ে সেই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর নারী হ্যান্ডবল দলের সমর্থকদের।

কালের আলো/এসএ/টিসি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন