ব্যতিক্রমী ভাবনা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর বার্তা—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীর শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরের দুর্গাপূজার মণ্ডপ ‘রিপু রজনী’। এবার এই মণ্ডপ দেখতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে গেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরী। মণ্ডপের ভাবনা ও আয়োজন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি অন্যতম সেরা একটি পূজামণ্ডপ।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মণ্ডপটি পরিদর্শনে যান পূজা চেরী। পরে তিনি কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপও ঘুরে দেখেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আবির সরকার অভিনেত্রীর বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। মণ্ডপ ঘুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও ছবি পোস্ট করেন পূজা।
‘এই ভাবনাকে সাধুবাদ জানাই’

‘রিপু রজনী’ মণ্ডপের ব্যতিক্রমী থিমের প্রশংসা করে পূজা চেরী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি অন্যতম সেরা একটি মণ্ডপ হয়েছে। মূলত এ কারণেই এটি দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে আসা। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমি এই ভাবনাটিকে সাধুবাদ জানাই।’
অভিনেত্রীর এই বক্তব্যে মণ্ডপটির বিশেষ ভাবনার প্রতি তাঁর ভালো লাগার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রচলিত পূজামণ্ডপের সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে মানুষের মনের ভেতরের নানা প্রবৃত্তি, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আত্মশুদ্ধির বিষয়কে সামনে আনার চেষ্টা করেছে আয়োজকেরা। সেই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
ছয় রিপুকে কেন্দ্র করে ‘রিপু রজনী’

মানুষের মনের ভেতরে থাকা ছয়টি রিপু—লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ। মানুষের অন্তরের অন্ধকার, বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং নিজের ভুল উপলব্ধি করে শুদ্ধতার পথে ফিরে আসার বার্তা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সাধারণত দুর্গাপূজার মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পৌরাণিক কাহিনি ও বিভিন্ন শৈল্পিক উপস্থাপনা প্রাধান্য পায়। তবে ‘রিপু রজনী’তে ধর্মীয় আবহের সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আত্মোপলব্ধির বিষয়টিকে যুক্ত করা হয়েছে। মানুষের ভেতরে থাকা নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো কীভাবে আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, সেই ভাবনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আয়োজকেরা।
দুর্গোৎসবের ৫৮তম বছরে ব্যতিক্রমী আয়োজন

আয়োজকেরা জানান, নিজেদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বর্ষে এই ব্যতিক্রমী মণ্ডপের আয়োজন করেছেন তাঁরা। প্রচলিত ধর্মীয় অনুষঙ্গের সঙ্গে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক উপলব্ধির ভাবনা যুক্ত করে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।
এখানে দেবী দুর্গার আগমনকে শুধু অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে নয়, বরং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে থাকা লোভ, ক্রোধ, হিংসা ও অহংকারের মতো প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে শুভবোধ ও সংযমের চর্চা করার বার্তাও রয়েছে এই ভাবনায়।
আয়োজকদের মতে, ‘রিপু রজনী’ কেবল প্রতিমা দর্শনের আয়োজন নয়; এটি মানুষকে নিজের ভেতরের অন্ধকার চিনে নেওয়ার আহ্বান। ষড়্রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে আত্মোপলব্ধি ও শুভবোধের পথে এগিয়ে যাওয়াই এই মণ্ডপের মূল বার্তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় মণ্ডপ

ব্যতিক্রমী থিম ও সাজসজ্জার কারণে ‘রিপু রজনী’র ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মণ্ডপটি দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের ভিড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে চিন্তা ও উপলব্ধির বিষয় যুক্ত হওয়ায় আয়োজনটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।
পূজা চেরীর মতো জনপ্রিয় অভিনেত্রীর উপস্থিতিও মণ্ডপটিকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তাঁর পরিদর্শনের ছবি ও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আয়োজনটি আরও বেশি মানুষের নজরে এসেছে। দুর্গাপূজার আনন্দ, শিল্পের নান্দনিকতা এবং মানুষের আত্মশুদ্ধির বার্তা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে ‘রিপু রজনী’। পূজা চেরীর প্রশংসা সেই আয়োজনের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।
কালের আলো/এসএ/জেএন

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:০২ অপরাহ্ণ