জাতীয় ক্রিকেট দলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে আপাতত জাকের আলী অনিকের ওপরই আস্থা রাখছেন নির্বাচকেরা। ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে রান করে অফ-ফর্ম কাটিয়ে তাঁর ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যদিকে, প্রতিভাবান ব্যাটার অমিত হাসানকে তাড়াহুড়ো করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন চ্যালেঞ্জে নামাতে চায় না নির্বাচক প্যানেল। তাঁকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর ফলে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জাকেরের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে অমিতের। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার কথা বিবেচনায় রেখে অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্বাচকেরা।
ব্যাকআপ উইকেটকিপারে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে জাকের
জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, উইকেটকিপার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় দলের মূল উইকেটকিপার হিসেবে লিটন দাসই তাঁদের প্রথম পছন্দ। তবে তাঁর বিকল্প হিসেবে কাকে রাখা হবে, সেই বিবেচনায় জাকের আলী এগিয়ে রয়েছেন। মাঝে অফ-ফর্মে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করে জাকের নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নির্বাচকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপের মুহূর্ত সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘মূল উইকেটকিপার হিসেবে আমাদের প্রথম পছন্দ লিটন দাস। বিষয় হলো ব্যাকআপ উইকেটকিপার কে হবেন। জাকের আলী মাঝে অফ-ফর্মে থাকার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে রান করে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে।’
অমিতকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
অমিত হাসানের প্রতিভা নিয়ে আশাবাদী নির্বাচকেরা। তবে মাত্র একটি টেস্ট খেলা এই তরুণ ব্যাটারকে এখনই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে চান না তাঁরা। সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি অমিতকে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
হাবিবুল বাশারের মতে, অমিতের সামনে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই পথ তৈরি করতে তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা রয়েছে, যেখানে চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে অমিত সবেমাত্র উঠে আসছে, তাকে হুট করে কঠিন চাপের মুখে না ফেলে ধীরে ধীরে সুযোগ দিতে চাই। সে অবশ্যই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় আছে।’
অমিতের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে আলোচনা
জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) অমিত হাসানকে ওপেনিংয়ে খেলানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রথম দুই রাউন্ডের পর তৃতীয় রাউন্ডে তাঁকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে দেখা যায়। রংপুরের বিপক্ষে ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।
জাতীয় দলের টপ অর্ডারে একজন ডানহাতি ব্যাটারের প্রয়োজন থেকেই অমিতকে ওপরে খেলানোর ভাবনা আসে। তবে এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন হাবিবুল বাশার। বরং ব্যাটিং পজিশন নিয়ে অমিতের সঙ্গে আলোচনা করেই সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচক বলেন, ‘এটি জোরপূর্বক কোনো ইনস্ট্রাকশন ছিল না, অমিতের সঙ্গে একটি আলোচনা ছিল। সে মূলত চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত। কিন্তু জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে সুযোগ পাওয়াটা কঠিন। আমাদের একজন ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটারের অভাব রয়েছে। তাই নতুন বল সামলানোর মতো টেকনিক থাকায় তাকে টপ অর্ডারে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’
ব্যাটিং পজিশনে স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব
একজন ব্যাটারের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করতে হলে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নির্বাচকেরা। অমিত সাধারণত চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করলেও টপ অর্ডারে খেলার সম্ভাবনা তাঁর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে নতুন পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ক্রিকেটারের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে হাবিবুল বাশারের বক্তব্য, ‘পজিশন পরিবর্তন সবসময় খেলোয়াড়ের কমফোর্টের ওপর নির্ভর করে, চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’ অর্থাৎ, জাতীয় দলের প্রয়োজন বিবেচনায় অমিতকে টপ অর্ডারে খেলানোর সম্ভাবনা থাকলেও তাঁর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান না নির্বাচকেরা। বরং নিজের সামর্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী সেরা অবস্থান খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দিতে চান তাঁরা।
জাকেরের বর্তমান, অমিতের ভবিষ্যৎ
জাতীয় দলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে জাকের আলীকে এগিয়ে রাখার পেছনে রয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে, অমিত হাসানকে নিয়ে নির্বাচকদের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত করে তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চান তাঁরা। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তবে অমিতের মতো তরুণদের জন্যও জাতীয় দলের দরজা বন্ধ নয়। বরং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ব্যাটিং পজিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতা দেখাতে পারলে ভবিষ্যতে তাঁর সুযোগের পথ আরও উন্মুক্ত হতে পারে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:৩২ অপরাহ্ণ