রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিমানবন্দরের আদলে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। নতুন ব্যবস্থায় স্টেশনে প্রবেশের আগে যাত্রীদের শরীরে ধাতব বস্তু শনাক্ত করতে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং ব্যাগ ও মালামাল পরীক্ষায় লাগেজ স্ক্যানার ব্যবহার করা হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
স্টেশনে প্রবেশের আগে হবে নিরাপত্তা তল্লাশি
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের মাধ্যমে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রী ও তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো হবে। আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে শরীরে বহন করা ধাতব বস্তু শনাক্ত করা যাবে। অন্যদিকে, লাগেজ স্ক্যানারের মাধ্যমে ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, এ ব্যবস্থা চালু হলে নিরাপত্তা তল্লাশি আরও কার্যকর হবে এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা মিলবে।
নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনতে দরপত্র আহ্বান
নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের লক্ষ্যে গত ১৯ অক্টোবর অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এ দরপত্র আহ্বান করেন। দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে আগ্রহী ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা পোর্টালটিতে পাওয়া যাবে।
কবে চালু হবে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা?
নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কতটি যন্ত্র কেনা হবে, প্রথম পর্যায়ে কোন কোন স্টেশনে সেগুলো স্থাপন করা হবে এবং কবে থেকে যাত্রীদের নিয়মিত তল্লাশি শুরু হবে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফলে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে একযোগে চালু হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একই দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপোতে স্থাপিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আওতায় লো-ভোল্টেজ (এলভি) ব্যবস্থা, ডিজেল জেনারেটর সেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা (ইউপিএস), বায়ু চলাচলব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদ্যুতিক কাজের রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্রের নথি কেনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগের মাধ্যমে মেট্রোরেলের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি