প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, আপত্তিকর ভিডিওতে অর্থ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৫ অপরাহ্ণ

প্রেমের শুরু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তারপর ঘনিষ্ঠতা, নির্দিষ্ট বাসা বা হোটেলে দেখা করার আমন্ত্রণ। কিন্তু সেই সাক্ষাৎই পরিণত হতো ভয়াবহ ফাঁদে—এমন অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন, ধারণ করা হতো আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। এরপর সেসব প্রকাশের ভয় দেখিয়ে চলত অর্থ আদায়। এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন এক মামা। তাঁর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ভাগনে ও ভাগনের স্ত্রী।  রাজধানীর তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে চক্রটির কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

  • প্রেমের ইনবক্স থেকে টর্চার রুম! বিত্তবানদের টার্গেট, ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল
  • মামা ‘মাস্টারমাইন্ড’, ভাগনে ও তাঁর স্ত্রীও অভিযুক্ত
  • তুরাগে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫ 
  • উদ্ধার ফাঁকা চেক ও নির্যাতনের সরঞ্জাম 

ইনবক্সে প্রেম, আড়ালে ব্ল্যাকমেইলের ছক
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন চক্রের নারী সদস্যরা। বিশেষ করে মধ্যবয়সী, বয়স্ক, ব্যবসায়ী ও বিত্তবান পুরুষদের নিশানা করা হতো।

সম্পর্কের সূত্র ধরে ভুক্তভোগীদের ডাকা হতো নির্ধারিত বাসা কিংবা হোটেলে। সেখানে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যেত। অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রের পুরুষ সদস্যরা তাঁদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। একপর্যায়ে ধারণ করা হতো আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। আর সেগুলোই হয়ে উঠত অর্থ আদায়ের হাতিয়ার।

একবার টাকা দিয়েও রেহাই নেই!ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো বলে জানিয়েছে ডিবি। অভিযোগ, টাকা পাওয়ার পরও শেষ হতো না চাপ। একই ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরবর্তী সময়ে আবারও অর্থ দাবি করা হতো। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁসের আতঙ্ককে পুঁজি করে চলত বারবার টাকা আদায়ের চেষ্টা।

মামা-ভাগনে-স্ত্রীসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জিৎ ভক্ত চক্রটির মূল হোতা। প্রীতম বিশ্বাস তাঁর ভাগনে এবং সাবরিন কবির প্রেমা প্রীতমের স্ত্রী।

চার অভিযোগ, দীর্ঘ নজরদারি, তারপর অভিযান
চারজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পর চক্রটিকে শনাক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালায় ডিবি। কিন্তু ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা বদল এবং ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার কারণে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর তুরাগ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার যা যা
অভিযানে পাঁচটি মুঠোফোন, তিনটি ফাঁকা চেক, একটি টর্চার বেল্টসহ নির্যাতনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ডিবি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা অবশ্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন