এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্কলার্স। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে দলটি। জবাবে স্কলার্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ব্র্যাক। ১৮.৫ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে ১০৭ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্কলার্স।
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসের পর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল স্কলার্স। দুই ওপেনার আকাশ ও রাকিব আহমেদের ব্যাটে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দলটি। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ব্র্যাকের বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করেন আকাশ। দলীয় ৯১ রানে আউট হওয়ার আগে মাত্র ২৮ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ২৫৭.১৪ স্ট্রাইকরেটের এই ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং স্কলার্সকে দ্রুত বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়।অন্য প্রান্তে সমান কার্যকর ছিলেন রাকিব আহমেদ। তিনি ৪০ বলে ৬৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কা। দুই ওপেনারের অর্ধশতকে স্কলার্সের ব্যাটিংয়ে গতি আসে এবং বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি হয়।
ব্র্যাকের হয়ে দেবজ্যোতি ও নাফিস দুটি করে উইকেট নেন। তবে তাঁদের বোলিং স্কলার্সের রানের গতি পুরোপুরি থামাতে পারেনি। নির্ধারিত ইনিংস শেষে ৬ উইকেটে ২১৫ রান সংগ্রহ করে স্কলার্স। ২১৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। স্কলার্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।দ্বিতীয় ওভারেই কোনো রান না করে ফিরে যান ওপেনার অয়ন। এরপর ৯ রান করে আউট হন আকাশ। দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ব্র্যাকের বিপর্যয় আরও বাড়ে তাজওয়ার, অর্ক ও জারিফুলের বিদায়ে। তিনজনই শূন্য রানে ফেরেন, তাও মাত্র তিন বলের ব্যবধানে। এরপর রাফিন ২ রান করে আউট হলে মাত্র ৩৯ রানেই ষষ্ঠ উইকেট হারায় ব্র্যাক।
একপর্যায়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের শঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলটির সামনে। স্কলার্সের বোলাররা লাইন-লেংথ ধরে রেখে ব্র্যাকের ব্যাটারদের স্বাভাবিক খেলায় বাধা দেন। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে দেবজ্যোতি ও রোহান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের এই প্রচেষ্টা দলকে বড় পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি।
রোহান ২৬ বলে ২৯ রান করে রানআউট হন। পরে দেবজ্যোতিও ২৬ বলে ৩২ রান করে একইভাবে রানআউটের শিকার হন। তাঁদের বিদায়ের পর ব্র্যাকের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার পথে এগোয়। আজমাইন শূন্য রানে বোল্ড হলে নবম উইকেট হারায় দলটি। এরপর ১৮.৫ ওভারে নাফিসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ১০৬ রানে শেষ হয় ব্র্যাকের ইনিংস। স্কলার্সের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন মেহেদী। মাত্র ৩ রান খরচায় দুটি উইকেট নিয়ে ব্র্যাকের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ তৈরি করেন তিনি। এ ছাড়া মিরাজ, আকাশ, রাকিব আহমেদ ও ইমরান একটি করে উইকেট পান। দুই ওপেনারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ এবং বোলারদের কার্যকর পারফরম্যান্স—দুই মিলিয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে ব্র্যাকের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয় স্কলার্স।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি