শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার টানে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকের ঢল

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

শরতের শেষভাগে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে পঞ্চগড়ের নীলাকাশে উঁকি দিচ্ছে হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বরফে ঢাকা শুভ্র পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের আলো পড়তেই কখনো লাল, কখনো কমলা, আবার কখনো ধূসর রূপে ধরা দিচ্ছে পর্বতটি। স্বচ্ছ আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন তেঁতুলিয়ায়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তেঁতুলিয়ার মহানন্দা নদীর ওপারে বরফে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর পিরামিডের মতো চূড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে সব সময় দেখা মেলে না এই পর্বতশৃঙ্গের। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভোরের আলোয় ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয় পাহাড়টি। কিছুক্ষণ পর আবার হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।

এদিকে পঞ্চগড়ে দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গত দুই দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সোমবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। পর্যটকদের উপস্থিতিতে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শীতের আমেজ, ভোরের কুয়াশা ও শিশিরভেজা প্রকৃতি বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে ভ্রমণে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাকবাংলো এলাকা, মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক ও ভেরসা নদীর তীরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তবে আকাশ মেঘমুক্ত না থাকলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পর্বতটির দেখা নাও মিলতে পারে। এ কারণে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকদের অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, প্রতিবছর তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এই দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন।

তিনি জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিকনিক কর্নার নতুন করে সাজানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। পাশাপাশি মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, হিমেল আবহাওয়া ও কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের কারণে প্রতিবছরই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তেঁতুলিয়া। পর্যটনসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন