বাজারে স্বস্তি নেই, কমেছে শুধু আলু-পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:০৪ অপরাহ্ণ

রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েকটি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। গত সপ্তাহের তুলনায় আলু ও পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে কমেছে। দেশি রসুনের দাম কমেছে ২০ টাকা এবং চায়না আদার দাম কমেছে ৪০ টাকা। তবে ডিম, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার করতে আসা ক্রেতাদের ভাষ্য, সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসারের খরচ সামলানো ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।

বেশির ভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে
মিরপুরের বাজারে দেশি টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ভারতীয় টমেটো ১২০ টাকা এবং কাঁচা টমেটো ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি গাজরের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১৪০ টাকা এবং ভারতীয় নতুন আলু ১৬০ টাকা। এ ছাড়া লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম ও দেশি শসার দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। উচ্ছে ও করল্লা ৮০ টাকা, কাকরোল ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, হাইব্রিড পটল ৮০ টাকা এবং দেশি পটল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে চিচিঙ্গা, ধুন্দল, ঝিঙা ও বরবটির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা। কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা এবং কচুরমুখী ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা এবং ধনেপাতা ২০০ টাকা। হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচা কলা ও লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

দাম ওঠানামার পেছনে সরবরাহের প্রভাব
সবজির দামের পার্থক্যের বিষয়ে বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, পণ্যের মান ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর দাম নির্ভর করে। ভালো মানের সবজির দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। অন্যদিকে, ভ্যান বা বাজারের বাইরের রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া সবজির দাম কিছুটা কম হতে পারে।

আরেক বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন সবজির দাম ওঠানামা করে। বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ে। আবার পরিবহনের জন্য ট্রাক না পাওয়া কিংবা হঠাৎ বৃষ্টির মতো পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্রেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সবজির দাম নির্ধারণে সরবরাহ, পরিবহন ও পণ্যের মানের মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে। তবে ক্রেতাদের জন্য এসব ওঠানামার মধ্যেও প্রয়োজনীয় সবজি কেনার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।

‘নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বেঁচে থাকা কঠিন
টেংরা ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মেনি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। রূপচাঁদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং খোলা পোলাওয়ের চাল মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ছোট মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারির ডাল ৮৫ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং মাষকলাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ২০৫ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল লিটারপ্রতি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৌটাজাত ও খোলা ঘির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্যাকেটজাত ও খোলা চিনি ১১০ টাকা কেজি, দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৭০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট আটা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজি এলাচ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সাদা ও কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা করে এবং জিরা ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজুবাদামের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং কাঠবাদাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে, আলু-পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম কিছুটা কমলেও রাজধানীর বাজারে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। সবজি, মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বর্তমান দামে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নিয়মিত সংসার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন