আগাম সবজিতে লাভের আশা, বাড়ছে কৃষকের ব্যস্ততা

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:১৫ অপরাহ্ণ

প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা মিলতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে কমছে রোদের তীব্রতা, বদলাচ্ছে আবহাওয়া। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মাঠে মাঠে শীতকালীন শাকসবজি চাষের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও চারা রোপণসহ নানা কাজে ব্যস্ত তাঁরা। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচ, রোগবালাইয়ের আক্রমণ এবং বাজারদরের অনিশ্চয়তা নিয়েও তাঁদের দুশ্চিন্তা রয়েছে।

মাঠে মাঠে চলছে শীতকালীন সবজির আবাদ
কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা শীতকালীন সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যায় ব্যস্ত। কেউ নিজের জমিতে কাজ করছেন, আবার কেউ শ্রমিক নিয়োগ করে আগাম সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মাঠের অধিকাংশ জমিতে ধান চাষ করা হলেও কিছু জমিতে ইতোমধ্যে শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। এসব জমিতে মূলা, পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, আলু, সরিষা, মরিচ, বেগুন, ধনিয়া, মিষ্টিকুমড়া ও গাজরসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল দেখা যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকলে আগাম উৎপাদিত ফসল ভালো দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ সম্ভাবনা থেকেই অনেক কৃষক এবার আগেভাগে সবজি চাষে মনোযোগ দিয়েছেন।

৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ
উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার কৃষক রমজান ৪০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী তিনি। রমজান জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন। তাঁর মতো উপজেলার আরও অনেক কৃষক শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। কৃষকদের কাছে ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আগাম সবজিতে লাভের সম্ভাবনা, খরচও বেশি
জালালপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফেকামারা গ্রামের কৃষক হেকিমের মতে, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে আগাম সবজি চাষে বাড়তি খরচ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও রয়েছে বলে জানান তিনি। সময়মতো জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, সেচ এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। অন্যদিকে, বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে। তাই আগাম সবজি চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের ফলন ও বাজারদর—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

সঠিক জাত ও সার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কৃষকেরা শীতকালীন আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক আগেভাগে ফসল বাজারে তুলতে চান।

তিনি জানান, আগাম সবজি চাষে সঠিক জাত নির্বাচন, জমি ও মাটির উপযোগী সার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি। সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ করলে ফসলের পরিচর্যা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় কৃষকেরা সহায়তা পাবেন।

আবহাওয়া ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করছে লাভ
কটিয়াদীতে শীতকালীন সবজি চাষ ঘিরে কৃষকদের ব্যস্ততা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের লাভ নির্ভর করবে ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের ওপর। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া কিংবা বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া কৃষকদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই কৃষকেরা একদিকে যেমন ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে তেমনি বাজার পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন