ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর সপরিবার দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যে তাঁর পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর পাসপোর্ট বাতিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ব্রাজিল ছাড়েন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
ব্রাজিলের ৪৫ বছর বয়সী এই সিনেটর দেশ ছাড়ার আগে জানিয়েছিলেন, তাঁর বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং দেশে থেকেই বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ও নির্বাচনে বিজয়ী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরোধিতার নেতৃত্ব দিতে চান তিনি। তবে পরে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর খবর সামনে আসে।
ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর খবর, অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন। সেখানে তাঁর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে তিনি ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ফ্লাভিওর সঙ্গে পরিবারের কোন কোন সদস্য দেশ ছেড়েছেন, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ফ্লাভিওর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এমনকি তিনি প্রতিবেশী আর্জেন্টিনায় গেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে সীমান্ত পারাপারের স্থানগুলো পরীক্ষা করেছিলেন ব্রাজিলের ফেডারেল কর্মকর্তারা। তবে আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটিতে ফ্লাভিওর প্রবেশের কোনো রেকর্ড তাদের কাছে নেই।
মানি লন্ডারিং তদন্তে পাসপোর্ট বাতিল
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে ব্রাজিলে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর মঙ্গলবার তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তিনি বরাবরই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত সোমবার একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছিলেন ফ্লাভিও। এরপর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে আর কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। তাঁর দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ইঙ্গিত
ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তাঁদের ভিসা দেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাস করেন। তবে নির্বাচনের পর তাঁকে মিয়ামিতে দেখা গেছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ফ্লাভিওর দেশত্যাগের ঘটনাকে আরও আলোচনায় এনেছে।
লুলার কাছে হেরে বিতর্কে ফ্লাভিও
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয় গত রোববার। নির্বাচনে ফ্লাভিওকে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করেন ৮১ বছর বয়সী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফল বাতিলের দাবি তুলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ডানপন্থী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ফ্লাভিওর এই পরাজয় ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
নির্বাচনে পরাজয়, মানি লন্ডারিং তদন্ত এবং পাসপোর্ট বাতিলের পর তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘটনা এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দেশত্যাগের সঙ্গে তদন্তের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন