রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’তে অভিযান চালিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির এ মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। ২০১৬ সালে কল্যাণপুরের একটি বাড়িতে পুলিশের অভিযানে নয় তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অভিযানে কথিত জঙ্গি আস্তানার পরিচয় দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
আসামিপক্ষের আবেদনে শুনানি পেছাল
মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময় আবেদন করায় ট্রাইব্যুনাল শুনানি পিছিয়ে ১৭ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের কল্যাণপুর অভিযানে কথিত জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির পর মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৬ সালে কল্যাণপুরে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ভবনটির আকৃতির কারণে স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল।
‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে নয় তরুণ গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং আরেকজন পালিয়ে যান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই অভিযানে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নয় তরুণকে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।
কারাগারে দুই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। এ ছাড়া মামলার ছয় আসামি পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।
পরবর্তী শুনানি ১৭ নভেম্বর
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করায় ওই দিন মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে। অভিযোগ গঠন হলে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি