তেলের দাম নির্ভর করবে বিশ্ববাজার ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৬:২৯ অপরাহ্ণ

আসন্ন রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেশীয় বাজারে ডালের সরবরাহ নিয়ে এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমদানির পাইপলাইনে থাকা পণ্যের পরিমাণ দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। তবে আমদানি করা পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে। এ দুই ক্ষেত্রে পরিবর্তন হলে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে।

রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম উৎসবাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলে আমদানি খরচেও প্রভাব পড়ে। আগামী কয়েক মাসে বিশ্ব পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

সরকার ও ভোক্তা—সবাই চান পণ্যের দাম যতটা সম্ভব কম থাকুক এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে থাকুক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহনব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কারণে কয়েক মাস পরের দাম নিয়ে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের উদ্যোগ

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো আকস্মিক পরিস্থিতিতে যেন পণ্যের ঘাটতি তৈরি না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত বুকিং ও আমদানির পাইপলাইনে পণ্য রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে রমজান পর্যন্ত সব পণ্যের বুকিং এখনই নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা যায় না বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এটি ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয়। কারণ, এখন বেশি দামে পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়তে পারেন।

এ ছাড়া পণ্য আমদানির বুকিং দেওয়া হলেও জাহাজে পণ্য ওঠানোর সময় পরিবহনভাড়া নির্ধারিত হয়। ফলে পণ্যের চূড়ান্ত আমদানি ব্যয় একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

ছোলার দাম নিয়ে আলোচনা

বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছিল। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার।

ছোলার দাম আবার কমবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস না দিয়ে তিনি বলেন, সবাই চান পণ্যের দাম কমুক। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

এলসি খোলায় বাড়তি সুবিধার পরিকল্পনা নেই

আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন দেখছে না সরকার।

তবে ব্যবসায়ীরা কোথাও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লে সরকারকে জানাতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কের ভিত্তিতে এলসির মার্জিন নির্ধারিত হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা বা ব্যত্যয় দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংককে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সমস্যা সরকারের নজরে আসেনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন