চালকদের দক্ষতা ও যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে কথা বললে চালক ও মালিকেরা একজোট হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সব চালক অদক্ষ নন। তবে যাঁদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
পরিবহন মালিকদের উপযুক্ত চালক নিয়োগে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিকেরা যোগ্য চালক নির্বাচন করে তাঁদের নাম সুপারিশ করলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চালকের যোগ্যতার বিষয়ে মালিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক হারে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে সব ধরনের দুর্ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।
বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যু এবং প্রতিদিন গড়ে ৮৪ জনের প্রাণহানির যে তথ্য সামনে আসে, তা কতটা সঠিক, কারা কীভাবে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত তথ্য ছাড়া সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
মন্ত্রী বলেন, চালকদের আচরণ, সচেতনতা ও দক্ষতার ঘাটতি এবং যানবাহনের ফিটনেসের সমস্যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চালকদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চালকেরা নিজের জীবনের পাশাপাশি অন্যের জীবনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন ও নির্দেশনা না মানলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই চালকদের আচরণ ও দায়িত্ববোধে পরিবর্তন আনতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এসব এলাকার ঝুঁকি কমানোর কাজও চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকা সংযোগস্থলগুলো চিহ্নিত করে যান চলাচলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
যাত্রীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনুপযুক্ত যানবাহনে যাতায়াত, চলন্ত বাসে ঝুলে থাকা এবং যেখানে-সেখানে রাস্তা পার হওয়ার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। যথাযথ যাচাই ছাড়াই কোনো যানবাহন বা চালককে সড়কে চলাচলের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিক, চালক, যাত্রী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান, সড়ক সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস এবং সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি