ফেসবুক লাইভের পর হামলা, দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সাথীর

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৬ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহের ভালুকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার। তাঁর ছেলে মো. জুনায়েদের দাবি, চাঁদা দাবির কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড হওয়ায় তাঁর মায়ের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতারের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) আদালত সাথী আক্তারকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় জামিন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ নভেম্বর।

চুরির ঘটনায় ক্ষোভ থেকে ফেসবুক লাইভ

সাথী আক্তার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেসে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠানে একাধিক চুরির ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

সাথী জানান, তাঁর তিনটি শোরুমের এসির তার ও বিদ্যুতের মিটার থেকে তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৫ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে নিজের কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

সাথী আক্তারের অভিযোগ, ফেসবুক লাইভের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাঁকে গালাগাল ও মারধর করেন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাথীর ছেলে মো. জুনায়েদ বলেন, তাঁর মায়ের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হচ্ছিল। একপর্যায়ে ক্ষোভ থেকে তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলেন। এরপর কয়েকজন নেতা এসে ঝামেলা করেন এবং দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

জুনায়েদের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় এবং মোবাইল ফোনে কথোপকথন রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার পর তাঁর মাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে চাঁদা দাবি, হামলা ও ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

‘দলকে ভালোবেসেছি, আজ সেই দলের লোকেরাই অপদস্থ করেছে’

সাথী আক্তার জানান, বিএনপির দুঃসময়ে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারেও ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না বলে জানান সাথী।

তিনি বলেন, “আমি এই দলকে ভালোবাসি। দলের দুঃসময়ে যখন অনেকে ভয়ে কথা বলতো না, তখন আমি নেত্রীর জন্য আন্দোলনে ছিলাম। আজ সেই দলের নেতাকর্মীদের হাতেই আমাকে অপদস্থ হতে হয়েছে। আমি শুধু আমার মনের কষ্ট প্রকাশ করেছি।”

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ছবিসংবলিত একটি কার্ড পোস্ট করা হয়েছিল। ওই পোস্টে স্থানীয় নেতার প্রতি তাঁর সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী

সাথী আক্তারের আইনজীবী মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাথী একজন নারী উদ্যোক্তা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাথীকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে কেন তাঁকেই গ্রেফতার করা হলো।

আইনজীবী জানান, ২৫ অক্টোবরের একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালতে শুনানির সময় পুলিশের প্রতিবেদনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কার পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ভালুকা থানা পুলিশ ২৬ অক্টোবর সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবেন।

এর আগে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লাইভকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

 

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন