মাত্র পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলার—বাংলাদেশের শিল্প অর্থনীতিতে জাপানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার ব্যাপ্তি তুলে ধরছে এই অঙ্ক। জাপানি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন। অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্প উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে এ বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘিরে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
- দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা, অটোমোবাইল, প্রযুক্তি ও বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা
- দেশীয় উদ্যোক্তা, দক্ষ জনশক্তি ও রপ্তানিতে বাড়তে পারে নতুন গতি
- বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার হাতছানি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন গতি পেয়েছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত অংশীদারত্বের সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিস্তৃত পরিকল্পনা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামনে শুধু নতুন কারখানা স্থাপনের সুযোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক উৎপাদনব্যবস্থায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরির সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
এই পরিকল্পনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে—দেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত করা এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানো। জাপানের প্রযুক্তি ও শিল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও উদ্যোক্তা সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো গেলে বিনিয়োগের প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শিল্প অর্থনীতিতে কী বদলাতে পারে?
আগামী পাঁচ বছরের ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী শিল্পায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি অবকাঠামো, প্রযুক্তি, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ সম্প্রসারিত হলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে নতুন উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিনিয়োগের সম্ভাব্য প্রভাব কেবল সরাসরি কারখানা স্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রাংশ উৎপাদন, কাঁচামাল সরবরাহ, পরিবহণ, গুদামজাতকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল সেবা ও বিপণনের মতো কার্যক্রমেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পরিকল্পনার সঙ্গে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা যুক্ত থাকায় দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিল্পভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্র পরিচালনা, মাননিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের তরুণেরা নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারবেন।
টয়োটার গাড়ি উৎপাদন, দেশীয় শিল্পের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক
জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অটোমোবাইল শিল্প বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা টয়োটা বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা সরকারকে জানিয়েছে। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে উন্নয়নকাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কারখানাটির চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, উৎপাদনক্ষমতা ও নির্দিষ্ট মডেলের বিষয়ে বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, টয়োটার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি সহযোগী শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একটি গাড়ি তৈরিতে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ধরনের যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়। এসব যন্ত্রাংশের একটি অংশ দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি হবে।
গাড়ি সংযোজনের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর, ইলেকট্রনিকস ও প্রকৌশল সেবায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারলে শিল্পটির অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও প্রকৌশলীরা উন্নত প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
জাপানের বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা জেট্রোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কাজুইকি কাতাওকার তথ্য অনুযায়ী, টয়োটা সুসো করপোরেশন ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিক্রয়, সার্ভিস এবং খুচরা যন্ত্রাংশের দুটি কেন্দ্রে প্রায় চার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এসব কেন্দ্রের নির্মাণকাজ নভেম্বর মাসে শুরু হওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়ি উৎপাদন ও যন্ত্রাংশ তৈরিতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে। এতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের আওতায় উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পপণ্যের পরিসর বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
শিল্প বিনিয়োগের ভৌগোলিক বিস্তার মাতারবাড়ী থেকে আড়াইহাজার
জাপানি বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সংযোগ রয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সহায়তায় এগিয়ে চলা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহণ, আমদানি-রপ্তানি সক্ষমতা এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে সুযোগ বাড়তে পারে। বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ, জ্বালানি সরবরাহ এবং শিল্পাঞ্চলের কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে সেখানে বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস কার্যক্রম বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও জাপান বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিগ-বি উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ হিসেবে সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে। মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে বন্দর, জ্বালানি, শিল্প ও পণ্য পরিবহণের সমন্বিত কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য এ উদ্যোগের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন। এখানে অটোমোবাইলের পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, হালকা প্রকৌশল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কার্যক্রম শুরু করলে স্থানীয় সরবরাহকারী, পরিবহণ সেবা ও সহায়ক শিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে।
পাঁচ খাতে বিনিয়োগে বহুমুখী উৎপাদনের সুযোগ
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এগুলো হলো অটোমোবাইল ও উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ।
অটোমোবাইল খাতে গাড়ি, যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস ও হালকা প্রকৌশল; জ্বালানি খাতে এলএনজি অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি; প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আধুনিক রেল যোগাযোগ ও সমন্বিত লজিস্টিকস ব্যবস্থা পণ্য পরিবহণকে আরও কার্যকর করতে পারে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়লে ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাপানি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।
ইপিএ চুক্তিতে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি বা ইপিএ দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের প্রথম এ ধরনের চুক্তির আওতায় ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যের জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা বাণিজ্য, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্য সহজীকরণ নিয়েও বিধান রয়েছে।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ জাপানে প্রায় ১৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে জাপান থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ইপিএর সুবিধা কাজে লাগানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগের সুফল ছড়িয়ে পড়বে দেশীয় শিল্পে
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি ডলারের নিচে। ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
জাতীয় অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, জাপান ও চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের ক্ষেত্রে অর্থায়নের পাশাপাশি তার অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করাও জরুরি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সহজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া, পূর্বানুমানযোগ্য শুল্ক ও করনীতি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং কার্যকর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত করা, দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিনিয়োগের সুফল দেশের শিল্প অর্থনীতিতে আরও বিস্তৃত হবে।
লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগ নয়, উৎপাদন সক্ষমতার বিস্তার
পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশের সামনে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তুলে ধরেছে। এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা শিল্পায়ন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
গাড়ি উৎপাদন থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ—প্রতিটি খাতে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে বিনিয়োগের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। জাপানি প্রযুক্তি ও বাংলাদেশের জনশক্তির সমন্বয় দেশীয় শিল্পকে আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি তাৎপর্য হবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে আরও বেশি পণ্য উৎপাদন, দেশীয় সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা। বিনিয়োগের পরিকল্পনাকে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের বাস্তব সুযোগে রূপ দিতে পারলে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে