তাহসিফের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, হত্যার সন্দেহ বাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:৩১ অপরাহ্ণ

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তাঁর দাবি, প্রাণবন্ত ও সামাজিক স্বভাবের তাহসিফ আত্মহত্যা করতে পারেন না। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত কিংবা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা। সেখানে তাঁর ছেলের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

আত্মহত্যার প্রশ্নই আসে না
ছেলের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে মনে করেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, ‘আত্মহত্যার প্রশ্নই আসে না।’ তাঁর ভাষ্য, তাহসিফ ছিলেন প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বিমানবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি উড্ডয়নেও ভালো ছিলেন তিনি।

তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে তাঁর বাবা বলেন, ছেলে ব্যক্তিগত বিষয়সহ নানা কথা তাঁর সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন। ফলে ছেলের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণে তাহসিফের কিছুটা খারাপ লাগতে পারে বলে স্বীকার করেন তাঁর বাবা। তবে এ কারণে ছেলের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ
তাহসিফের বাবা জানান, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক ব্যক্তি তাঁদের বাসায় এসে তাহসিফকে ডাকেন। তখন মাকে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। তাহসিফের মা একাধিকবার তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত ১টার পর তাহসিফ তাঁর মাকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। কিন্তু এরপরও তাঁর ফেরার অপেক্ষায় থাকতে হয় পরিবারকে। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। স্বাভাবিকভাবে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিণতি হবে, তা তাঁরা কল্পনাও করেননি বলে জানান তাঁর বাবা।

ঘটনার দিন মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেন তাহসিফ
তাহসিফের বাবা বলেন, ঘটনার দিন তাঁর ছেলে দিনের বেশির ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে কাটিয়েছেন। মাকে নিয়ে কেনাকাটা করেছেন এবং বাবার জন্যও কেনাকাটা করেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে দ্বীপ তাঁকে ডাকতে এলে মাকে জানিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। কে এম এনায়েতুল করিম জানান, কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তাহসিফ বিশ্রামে ছিলেন। ছেলের সঙ্গে কারও বিরোধ বা ঝগড়া ছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল বলে তিনি জানেন না।

থানায় খোঁজ নিয়েও প্রথমে পাননি সন্ধান
তাহসিফের বাবা জানান, বুধবার দুপুরের দিকে তিনি থানায় গিয়ে ছেলের বিষয়ে খোঁজ করেন। তখন পুলিশ তাঁকে জানায়, তাহসিফ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। বাবা ও ছেলের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করার পর জানানো হয়, তুরাগ নদে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে। রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই এলাকায় তাহসিফ কখনো যেতেন না। তাই কীভাবে সেখানে তাঁর মরদেহ পাওয়া গেল, তা বুঝতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

আইনি পদক্ষেপের অপেক্ষায় পুলিশ
এর আগে বুধবার তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। মরদেহের পাঞ্জাবির পকেটে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ নদ থেকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তবে এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। থানায় অভিযোগ করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবার হত্যার সন্দেহের কথা সামনে এলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন