নিয়ম ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা এক্সপ্রেসওয়েতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পুরো ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ককে আধুনিক নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু হলে অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দায়ের করা যাবে। রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সংখ্যাও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চার বছরে ৫৮৯ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৫২ জনের
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশ মুন্সিগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে গেছে। মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার বছরে এই সড়কে অন্তত ৫৮৯টি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫২ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯৫০ জন যাত্রী ও পথচারী। মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চালকদের ঘুম ঘুম ভাব, অসচেতনতা, অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করার কারণে এ মহাসড়কে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।

পুরো মহাসড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা
সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জের উন্নয়নকাজ এবং মুক্তারপুর-পঞ্চবটি দ্বিতল সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, পুরো ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার কাজ চলছে। এরপর জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এআই ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সড়ক আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা
এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার জানান, এক্সপ্রেসওয়ের পুরো অংশ এআই ক্যামেরার আওতায় এলে অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হলে মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা থাকবে। এতে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

সাধারণ সিসিটিভির পাশাপাশি এআই নজরদারি
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কে ইতোমধ্যে গতিসীমা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড এবং বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রয়েছে। তবে অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং ছাড়াও আকস্মিক ইউটার্ন, চালকদের অসচেতনতা এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। শীতকালে ঘন কুয়াশাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তার মতে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু করা গেলে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন