চা পাতার বদলে বাঁশপাতা, চমক দুই শিক্ষার্থীর

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

চা তৈরির জন্য সাধারণত চা গাছের পাতার কথাই সবার আগে মনে আসে। তবে চায়ের বিকল্প উপাদান হিসেবে বাঁশপাতা ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা দেখিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষার্থী। বাঁশপাতা থেকে পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ের এক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তাঁরা।

বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মাইদুল ইসলাম মাহিদ ও আজিজুল ইসলাম। তাঁদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে এক লাখ টাকার তহবিল। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ২৩৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁরা এ সাফল্য অর্জন করেন।

২৩৯ দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সেরা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন মাইদুল ইসলাম মাহিদ। পরে সহপাঠী আজিজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন তিনি।

প্রাথমিক বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁরা বুটক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে নিজেদের ব্যবসায়িক ধারণা আরও পরিমার্জন করে চূড়ান্ত পর্বে উপস্থাপন করেন। শেষ পর্যন্ত ২৩৯টি দলের মধ্যে তাঁদের ধারণাটি বিচারকদের কাছে সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

বাঁশপাতার গুণাগুণ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা
মাইদুল ইসলাম মাহিদ বলেন, বাংলাদেশে বাঁশপাতা ব্যবহার করে চা উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা চিন্তাভাবনা করছিলেন। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি আরও বলেন, বাঁশ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। বাঁশপাতায় সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা পরিবেশবান্ধব চা বাজারে আনতে চান।

বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পাশাপাশি প্রয়োজন গবেষণা
উদ্যোক্তাদের ধারণা, বাঁশপাতার চা স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য বিকল্প পানীয় হিসেবে বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাঁশপাতার চায়ের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং নিয়মিত পান করার নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের উপযোগিতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও যাচাই করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অর্জনে গর্বিত বিভাগ
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করায় বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের এই গৌরবময় অর্জন বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। বাঁশপাতা থেকে চা তৈরির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত চায়ের বাইরে নতুন একটি বিকল্প পণ্য বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের নতুন দৃষ্টান্তও তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক: মো: শামসুল আলম খান | ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান | কপিরাইট © কালের আলো সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন