খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নিরাপদ উড্ডয়ন ঘণ্টার অনন্য মাইলফলক, মাতৃভূমি রক্ষায় প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার বিমান বাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ মে, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
নিরাপদ উড্ডয়ন ঘণ্টার অনন্য মাইলফলক, মাতৃভূমি রক্ষায় প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার বিমান বাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

উড়োজাহাজকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ভ্রমণ-বাহন এবং দ্রুত ছুটতে থাকা আধুনিক জীবনব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি। ‘সম্মিলিত প্রয়াস’ নিরাপদ উড্ডয়নের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত। ফলত উড্ডয়ন নিরাপত্তার স্বার্থে অভিজ্ঞতা, পেশাদারিত্ব এবং সহযোগিতার সংমিশ্রণের নিজ বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনন্য এক সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কমান্ড সেফটি সেমিনার পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উড্ডয়ন নিরাপত্তা বজায় রাখা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন এবং উড্ডয়ন দুর্ঘটনা ঝুঁকি হ্রাস করে উন্নত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেখে চলেছে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

নিরাপদ উড্ডয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বরাবরই বিশেষ যত্নবান বিমান বাহিনী। প্রতি বছরের মতো এবারও তেজগাঁওস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার’র ফ্যালকন হলে সোমবার (০৫ মে) অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কমান্ড সেফটি সেমিনার। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেনা প্রদান করেন। সেমিনারটিতে উড্ডয়ন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আপোসহীন মান অর্জনের লক্ষ্যে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হয়। উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করা হয় ২০২৪ সালের বিমান উড্ডয়নের কার্যক্রম এবং উড্ডয়ন সংক্রান্ত সকল ঘটনা প্রবাহ।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী নিরাপদ উড্ডয়নে ছাপিয়ে গেছে গত বছরকে। ২০২৩ সালে যেখানে নিরাপদ উড্ডয়ন ঘণ্টা ছিল ২২ হাজার ৯২৯ সেখানে ২০২৪ সালে ২৩ হাজার ১৬ ঘণ্টা নিরাপদ উড্ডয়নের মাধ্যমে চমক তৈরি করেছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি বাহিনীর ২৩ হাজার ১৬ ঘণ্টা নিরাপদ উড্ডয়নকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কার্যক্রমের সাফল্য এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন। একই সঙ্গে মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সর্বদা প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

জানা যায়, আরও আগেই বিমান বাহিনী বিমান পরিচালনায় অ্যানালগ ব্যবস্থা থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় উত্তরণ করছে। উড্ডয়ন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান অর্জনেও তাঁরা আপোসহীন। সংশ্লিষ্টদের জন্য মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান। এই কমাণ্ড সেফটি সেমিনার নিরাপত্তা সচেতনতাকে আরও জোরদার করে উড্ডয়ন কার্যক্রমের পরিবেশকে আরও নিরাপদ করবে বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সাল বিমান বাহিনীর অপারেশনাল কার্যক্রমে পরিপূর্ণ ছিল। ওই সময় তারা জাতিসংঘ মিশন রোটেশন ফ্লাইট, যুক্তরাজ্য এবং চেক রিপাবলিকের জন্য ফেরি ফ্লাইট, র‌্যাপেলিং ও ফাস্ট রোপিং, প্যারা ট্রুপিং, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য মেডিকেল ইভাকুয়েশন, বিভিন্ন ভিভিআইপি ফ্লাইট, পুনরুদ্ধার এবং ফেনীর বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়ায় বাহিনীটির বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে ফ্লাইট সেফটি ট্রফি বিতরণকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘এই সেমিনারটি বিমান বাহিনী অভিজ্ঞ সদস্যদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি মূল্যবান প্লাটফর্ম, যা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং উড্ডয়ন নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়তা করে।’ বিমান বাহিনী প্রধান উপস্থিত সকল এয়ারক্রু, টেকনিশিয়ান, কন্ট্রোলারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিবিড় তত্ত্বাবধান বাড়ানোর পাশাপাশি অতীত অভিজ্ঞতালব্ধ ব্যবহারিক জ্ঞানের সফল প্রয়োগ ও উড্ডয়ন নিরাপত্তা প্রক্রিয়াসমূহ কঠোরভাবে অনুসরণেরও আহবান জানান।

পরে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারকে ‘আন্তঃঘাঁটি ফ্লাইট সেফটি ট্রফি’ ও ৫ নম্বর বহরকে ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ নিরাপদ উড্ডয়ন ঘন্টা অর্জনের জন্য ‘আন্তঃবহর খাদেমুল বাশার ফ্লাইট সেফটি ট্রফি’ প্রদান করেন। এছাড়া এই বছর সেরা বিমান প্রকৌশল বহর হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক বিমান প্রকৌশল বহরকে ‘বেষ্ট এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারিং স্কোয়াড্রন ট্রফি’ প্রদান করা হয়।

এ সময় সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) শরীফ উদ্দিন সরকার, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল জাহিদুল সাঈদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার কারাকাসের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ‘ফোরশক’ বা পূর্বকম্প এবং দ্বিতীয়টি ছিল মূল কম্পন বা ‘মেইনশক’।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাত নামার পর রাজধানী কারাকাসে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি কর্মীরা। স্বজনেরা আটকা পড়া প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধার করা কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কারাকাসের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নামলাম, দৃশ্যটা ছিল একটি ভৌতিক সিনেমার মতো। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক তার শিশুসন্তানকে নিয়ে এবং অন্য প্রতিবেশীরা নিচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু আমি শুধু একটি পরিবারকে ওই ভবন থেকে বের হতে দেখেছি।’

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য, যেখানে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি।’

ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে এবং ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর তৈরি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন