খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

খুদে ফেন্সারদের সঙ্গে অন্যরকম সন্ধ্যা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
খুদে ফেন্সারদের সঙ্গে অন্যরকম সন্ধ্যা স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

মুহুর্ত কয়েকের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি নিজেও যেন হয়ে উঠলেন আপাদমস্তক এক ফেন্সার। অনুষ্ঠান মঞ্চেই ফেন্সিং খেলার মূল হাতিয়ার ফয়েল বা হালকা তরবারি নিয়ে পৃথকভাবে চার ফেন্সার শ্যামা-সুবর্ণা ও হাসান-ফাইজুরের সঙ্গে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেন।

অবিকল তরবারি নিয়ে দ্বন্দ্ব যুদ্ধ! সোমবার (০৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মিরপুর শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অবাক বিস্ময়ভরা নয়নে এই লড়াই উপভোগ করছেন প্রায় দেড় শতাধিক খুদে ফেন্সার। আদতে এই যুদ্ধ প্রতীকী। মূলত শেখ রাসেল প্রথম জাতীয় জুনিয়র ও ক্যাডেট ফেন্সিং প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রথা মেনেই তলোয়ারের খেলায় মেতে উঠলেন স্বয়ং মন্ত্রী তাজুল ইসলাম!

উজ্জ্বল মঞ্চে তাঁর দু’পাশে তখন বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড.আতিউর রহমান ও পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিনসহ অন্যরা। এরপর নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধন ঘোষণা করলেন প্রতিযোগিতার। পরে মন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে আলাপ-কুশল বিনিময়ের মাধ্যমেও উৎসাহিত করলেন খুদে ফেন্সারদের।

কথার ফাঁকেই দৃষ্টি কাড়লো ভবিষ্যতের ইতালিয়ান কিংবদন্তি তারকা ফেন্সার ভ্যালেন্তিনা ভেৎসালিদের উদ্দেশ্যে তাঁর গভীর যুক্তিবোধের শাণিত উচ্চারণ-‘জয় বাংলা বলো, বাংলাদেশকে ভালোবাসো।’ সঙ্গে সঙ্গেই কোমলমতি ফেন্সারদের হৃদয় থেকে উৎসারিত হলো ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। এ যেন অন্যরকম এক সন্ধ্যা।

প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যেও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মর্মকথাই মোটা দাগে উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে মোকাবেলা করতো। এই স্লোগান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করেছিল সেই যুদ্ধে।

বাঙালির অনুভূতি, বিজয় আর মুক্তির এই স্লোগানকে নিজেদের কন্ঠে ধারণের জন্যও আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তার পূর্বে আমি স্কুলের ছাত্র ছিলাম। আমি তখন নিজের কানে শোনেছি, দেখেছি। পাকিস্তানিরা জিন্দাবাদ বলতো, আমাদেরকে শোষণ করতো, আমাদের সম্পদ লুন্ঠন করতো; আমাদের উপর অত্যাচার করতো।

সেদিন সেজন্য আমরা বাঙালিরা বলেছিলাম, ‘জিন্দাবাদে লাথি মারো, জয় বাংলা কায়েম করো’। ‘জয় বাংলা’ আমাদের হৃদয়ের স্লোগান, স্বাধীনতার স্লোগান। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা ‘জয় বাংলা’ বলে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। অতএব যারা নাকি জয় বাংলা বলতে লজ্জা পায়, তারা আমাদের দেশটাকে মানতেও লজ্জা পায়। তারা আমাদের দেশের নাগরিক হিসেবে স্বস্তিবোধ করে না।’

আয়োজক সূত্র জানায়, ১৫ দলের দেড়শ ফেন্সার নিয়ে এদিন শুরু হয়েছে শেখ রাসেল প্রথম জাতীয় জুনিয়র ও ক্যাডেট ফেন্সিং প্রতিযোগিতা। মিরপুর শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টে ১২টি করে স্বর্ণ ও রুপা এবং ২৪টি ব্রোঞ্জের জন্য লড়বে খুদে ফেন্সাররা।

ফেন্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম শোয়েব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম ওমরাও খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড.আতিউর রহমান, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন, অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো.শামস উল ইসলাম।

শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে কাজ করতেন
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, ‘শেখ রাসেল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধু আমাদের হৃদয়ের মানুষ, যিনি আমাদের বাংলাদেশটাকে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। আমরা সবাই সোনার মানুষ হবো।

সারা পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের একটি গর্বিত অবস্থান থাকবে। শিল্প-সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, মেধা-বুদ্ধি, খেলাধুলাসহ সবকিছুতেই আমরা একটি শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আমাদের স্থান করে নিবো। দুভার্গজনকভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনকের পরিবারের সকল সদস্যের সাথে শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়। জাতির জনক তার আশা-স্বপ্ন পূরন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘শেখ রাসেল যদি বেঁচে থাকতো স্বাভাবিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে দেশ-জাতি ও মানুষের জন্য বহুমূখী প্রতিভা নিয়ে কাজ করতেন এবং অবদান রাখতেন। আজকে হয়তো একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে দেশের জন্য অবদান রাখতেন।’

খুদে ফেন্সাররাই হবে সোনার বাংলার কারিগর
বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড.আতিউর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ১৯৭২ সালে মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই অর্থনীতি এখন ৩৫৫ বিলিয়ন ডলার। ৭৫’র পর অর্থনীতি যতোটা বেড়েছে তাঁর ৭৩ শতাংশ বেড়েছে ২০০৯ সালের পর বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে।

তিনি বলেন, ‘গত এক দশক ধরে সারা এশিয়ার মধ্যে মাথাপিছু আয়ে বাংলাদেশ এক নম্বরে আছে। আমরা একটি সম্ভাবনায় বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখছি। তোমরাই হবে এই সোনার বাংলার কারিগর। তোমরা উজ্জ্বল করবে স্বদেশের নাম। তোমরা এই স্বদেশকে ভালোবাসবে এবং স্বদেশের জন্য তোমরা জীবন দেওয়ার মতো মানসিকতা তৈরি করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের নিবেদিত রাখবে।’

উন্নত দেশের উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন বলেন, ফেন্সিং খেলাটি অনেক পুরনো। তিন হাজার বছর আগে থেকেই চলে আসছে খেলাটি। প্রাচীন গ্রিস, পার্সিয়া, বেবিলন ওখানেও ফেন্সিং হতো। কিন্তু তখন এটা হতো যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে।

যখন আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি হয়নি, বন্দুক বা রাইফেলও সৃষ্টি হয়নি। তখন তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করতো এবং তার জন্য এই প্র্যাকটিস হতো। অষ্টদশ শতাব্দীতে ইতালিতে এটা খেলা হিসেবে প্রথম চালু হয় দীর্ঘ দুই হাজার বছরের বেশি সময়ের পরে। এরপর থেকে অলিম্পিকে মাত্র চারটি খেলা আছে যেটা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার ভেতর ফেন্সিং একটি।

খুদে ফেন্সারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে ভালো একজন ফেন্সার হওয়ার জন্য তোমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। তোমাদের সামনে এখনো অনেক সময় আছে। তোমরা এখন থেকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারলে জাতীয় পর্যায়ে পদক পাবে। জাতীয় পরিসরের বাইরে গিয়েও পদক আনতে পারবে। দেশের জন্য সুনাম বইয়ে আনতে পারবে।

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। তিনি আমাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। একটি উন্নত রাষ্ট্রের উপযোগী নাগরিক হিসেবে তোমাদেরকে গড়ে উঠতে হবে।’

সারা দেশে ফেন্সিংকে ছড়িয়ে দিতে হবে
সারা দেশে ফেন্সিংকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো.শামস উল ইসলাম বলেন, ‘ফেন্সিং অনেক পুরোনো একটা খেলা। বাংলাদেশে হয়তো প্রচলন কম। স্পেন থেকে উৎপত্তি হয়েছে এই খেলার। পরবর্তীতে সেটা অলিম্পিকে গিয়েছে। আমি আশা করবো ভবিষ্যতে এটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং কৃতিমান ফেন্সার তৈরি হবে। ফেন্সিং এসোসিয়েশনের প্রতিটি পদক্ষেপে অগ্রণী ব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সাত দিনের অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া ও ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, তিনটি বালুমহাল, তিনটি মাদক, তিনটি চাঁদাবাজি, দুটি ডাকাতি, একটি চুরি এবং চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এসএকে