খুঁজুন
                               
, ,
           

মিলনমেলা জাতির সূর্য সন্তানদের, শক্তিশালী-আধুনিক সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
মিলনমেলা জাতির সূর্য সন্তানদের, শক্তিশালী-আধুনিক সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

নানা উপমায় বরণ করে নেওয়া হলো জাতির বীর সেনানীদের। ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কঠিন লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ঔপনিবেশিক অপশক্তির শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মর্মবাণীই যেন উচ্চারিত হচ্ছিল অনুষ্ঠানটির পরতে পরতে।

‘খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য এবং ২০২০/২০২১ সালে শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সেনাসদস্যগণকে সেনাবাহিনী প্রধান কর্তৃক সংবর্ধনা ও পদক প্রদান’ শীর্ষক আত্মগৌরব অর্জনের বিজয়গাঁথার এমন বাক্য জাগিয়ে তুলেছিল প্রাণের স্পন্দন। আবেগ-আপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য এবং তাঁদের নিকটআত্মীরাও।

একাত্তরের সুমহান চেতনায় বাঙালির বীরত্ব, ত্যাগ আর সংগ্রামের চিহ্ন নিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নিমন্ত্রণেই তাঁরা ছুটে এসেছিলেন আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়েই। যুদ্ধ দিনের স্মৃতিমাখা দিনগুলোর মতোই একসুতোয় গেঁথেছিলেন নিজেদের।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এবারো এই আয়োজনটি কার্যত স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে নিয়ে আসা জাতির বীর সন্তানদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এই মিলন মোহনায় মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের পথ ধরেই আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পানসিতে চড়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত থেকে শক্তিশালী ও আধুনিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয়দীপ্ত উচ্চারণ করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনিতে প্রজ্বলিত হয়ে সেনাপ্রধান শত্রু সেনাদের খতম করতে মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় আলিঙ্গণ করা জাতির সূর্য সন্তানদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের সার কথা তুলে ধরেন। উপস্থাপন করেন পাকিদের ২৩ বছরের শাসন-শোষণ আর পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী, ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও দূরদর্শীতার কথা।

সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের এই শুভলগ্নে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।’

জেনারেল শফিউদ্দিন কৃতজ্ঞচিত্তেই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। বলেন, ‘আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি ইতিহাসের এই বিশেষ বছরে আমার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে চাই যে, তাঁরই একান্ত আগ্রহ এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ সশস্ত্র বাহিনীর অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য সেনাবাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্যদের সম্মানে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২০২০/২০২১ সালে শান্তিকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রশংসনীয় ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অসামান্য সেবা পদক’ (ওএসপি) প্রাপ্ত ০৬ জন এবং ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ (বিএসপি) অর্জনকারী ২০ জনসহ সর্বমোট ২৬ জন সেনাসদস্যকে সেনাবাহিনী প্রধান পদকে ভূষিত করেন। সেনাপ্রধান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য এবং তাঁদের নিকটআত্মীয়ের সাথে কুশলাদি বিনিময় ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। পরে তিনি শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সাথে আলাপ করেন।

মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া সেনাপ্রধানের
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘চলমান কোভিড মহামারির সময়ে মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থ দেহে এখানে সমবেত হওয়ার সুযোগ প্রদান করেছেন। সেই সাথে আমি আরো শুকরিয়া আদায় করছি এই কারণে যে মহান আল্লাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বিশেষ বছর অর্থাৎ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে আমাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে সম্মানিত করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের স্মরণ
সেনাপ্রধান গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ৩০ লক্ষ শহীদসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন এবং আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা।

মুক্তিযুদ্ধের সেই শহীদদের মধ্যে আছেন সশস্ত্র বাহিনীর ১৫৩২ জন বীর সেনানী, যার মধ্যে রয়েছে ০৫ জন বীরশ্রেষ্ঠ এবং ৩৩৫ জন খেতাবপ্রাপ্তসহ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি সেই সাথে স্মরণ করছি, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন অভিযানে জীবন উৎসর্গ করা ১৭০ জন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ১২৫ জন, বিডিআর বিদ্রোহে আত্মদানকারী ৫৯ জন্য বীর শহীদসহ সকল সেনা শহীদদের, যাঁরা দেশের স্বার্থে দেশে ও বিদেশে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। আমি সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং সেই সাথে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এছাড়াও সকল শহীদদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

সেনাবাহিনী সবসময়ই স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংগঠিত হয়ে কেবল কলেবরেই বৃদ্ধি পায়নি, সেই সাথে দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। সেনাবাহিনী আজ কেবল তার নিজস্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং বিভিন্ন সামাজিক ও জাতি গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে।

দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়, সেনাবাহিনী সবসময়ই স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিপন্ন জনসাধারণকে সাহায্য প্রদান, সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ এবং আশ্রয়হীন মানুষের সেবায় সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় সড়ক নির্মাণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙ্গন রোধ কার্যক্রম, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ-সংকট নিরসন, জাতীয় দিবস উদ্যাপন এবং অন্যান্য জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সক্রিয় অবদান সর্বজনবিদিত।’

তিনি বলেন, ‘বিরাজমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন কোভিড শীল্ড’ পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা ও শৃংখলার সাথে দায়িত্ব পালন করে দেশব্যাপী কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলমান রাখতে নির্বাচন কমিশনকে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে ছবিসহ নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও, সেনাবাহিনী নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরীতে সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে হাতির ঝিল প্রজেক্ট, মিরপুর-বিমানবন্দর ফ্লাইওভার, ঢাকা-মাওয়া চার লেন সড়ক, নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পসহ অনেক জাতি গঠন ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে সেনাবাহিনী জড়িত। স্মরণকালের বৃহত্তম শরণার্থী সমস্যা-রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ ও পূনর্বাসন দায়িত্বে সেনাসদস্যরা দিবারাত্রি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।’

সুসংহত ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান সেনাবাহিনীকে
দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আমাদের সেনাবাহিনী দেশের জন্য প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশনে Highest Troops Contribution Country হিসেবে স্থান দখল করে আছে। এই অর্জন বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করে।

তিনি বলেন, ‘আমি, সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সুসংহত ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সহজ কাজ নয় এবং অল্প সময়ে অর্জনও সম্ভব নয়। তবে, একনিষ্ঠতা, ঐকান্তিকতা ও সকলের সর্বাত্মক পরিশ্রমে এটি অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের যুগে একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত করতে হবে আমাদের অগ্রযাত্রা।’

মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ এবং শান্তিকালীন পদক প্রাপ্তদের অভিনন্দন
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ ও শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত— থেকে কষ্ট করে এখানে এসে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য আমি আবারও আপনাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একইসাথে ২০২০/২১ সালে সেনাবাহিনীর যে ২৬ জন সদস্য তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বীরত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ‘অসামান্য সেবা পদক’ এবং ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি