খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মিলনমেলা জাতির সূর্য সন্তানদের, শক্তিশালী-আধুনিক সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
মিলনমেলা জাতির সূর্য সন্তানদের, শক্তিশালী-আধুনিক সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

নানা উপমায় বরণ করে নেওয়া হলো জাতির বীর সেনানীদের। ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কঠিন লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে ঔপনিবেশিক অপশক্তির শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মর্মবাণীই যেন উচ্চারিত হচ্ছিল অনুষ্ঠানটির পরতে পরতে।

‘খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য এবং ২০২০/২০২১ সালে শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সেনাসদস্যগণকে সেনাবাহিনী প্রধান কর্তৃক সংবর্ধনা ও পদক প্রদান’ শীর্ষক আত্মগৌরব অর্জনের বিজয়গাঁথার এমন বাক্য জাগিয়ে তুলেছিল প্রাণের স্পন্দন। আবেগ-আপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য এবং তাঁদের নিকটআত্মীরাও।

একাত্তরের সুমহান চেতনায় বাঙালির বীরত্ব, ত্যাগ আর সংগ্রামের চিহ্ন নিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নিমন্ত্রণেই তাঁরা ছুটে এসেছিলেন আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়েই। যুদ্ধ দিনের স্মৃতিমাখা দিনগুলোর মতোই একসুতোয় গেঁথেছিলেন নিজেদের।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এবারো এই আয়োজনটি কার্যত স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে নিয়ে আসা জাতির বীর সন্তানদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এই মিলন মোহনায় মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের পথ ধরেই আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পানসিতে চড়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত থেকে শক্তিশালী ও আধুনিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয়দীপ্ত উচ্চারণ করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনিতে প্রজ্বলিত হয়ে সেনাপ্রধান শত্রু সেনাদের খতম করতে মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় আলিঙ্গণ করা জাতির সূর্য সন্তানদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের সার কথা তুলে ধরেন। উপস্থাপন করেন পাকিদের ২৩ বছরের শাসন-শোষণ আর পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী, ঐতিহাসিক নেতৃত্ব ও দূরদর্শীতার কথা।

সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের এই শুভলগ্নে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।’

জেনারেল শফিউদ্দিন কৃতজ্ঞচিত্তেই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। বলেন, ‘আমি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি ইতিহাসের এই বিশেষ বছরে আমার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলতে চাই যে, তাঁরই একান্ত আগ্রহ এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ সশস্ত্র বাহিনীর অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য সেনাবাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্যদের সম্মানে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২০২০/২০২১ সালে শান্তিকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রশংসনীয় ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অসামান্য সেবা পদক’ (ওএসপি) প্রাপ্ত ০৬ জন এবং ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ (বিএসপি) অর্জনকারী ২০ জনসহ সর্বমোট ২৬ জন সেনাসদস্যকে সেনাবাহিনী প্রধান পদকে ভূষিত করেন। সেনাপ্রধান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য এবং তাঁদের নিকটআত্মীয়ের সাথে কুশলাদি বিনিময় ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন। পরে তিনি শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের সাথে আলাপ করেন।

মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া সেনাপ্রধানের
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘চলমান কোভিড মহামারির সময়ে মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থ দেহে এখানে সমবেত হওয়ার সুযোগ প্রদান করেছেন। সেই সাথে আমি আরো শুকরিয়া আদায় করছি এই কারণে যে মহান আল্লাহ বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বিশেষ বছর অর্থাৎ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে আমাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে সম্মানিত করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের স্মরণ
সেনাপ্রধান গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ৩০ লক্ষ শহীদসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন এবং আমরা পেয়েছি আমাদের কাঙ্খিত স্বাধীনতা।

মুক্তিযুদ্ধের সেই শহীদদের মধ্যে আছেন সশস্ত্র বাহিনীর ১৫৩২ জন বীর সেনানী, যার মধ্যে রয়েছে ০৫ জন বীরশ্রেষ্ঠ এবং ৩৩৫ জন খেতাবপ্রাপ্তসহ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি সেই সাথে স্মরণ করছি, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন অভিযানে জীবন উৎসর্গ করা ১৭০ জন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ১২৫ জন, বিডিআর বিদ্রোহে আত্মদানকারী ৫৯ জন্য বীর শহীদসহ সকল সেনা শহীদদের, যাঁরা দেশের স্বার্থে দেশে ও বিদেশে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। আমি সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং সেই সাথে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এছাড়াও সকল শহীদদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

সেনাবাহিনী সবসময়ই স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে
সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংগঠিত হয়ে কেবল কলেবরেই বৃদ্ধি পায়নি, সেই সাথে দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। সেনাবাহিনী আজ কেবল তার নিজস্ব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং বিভিন্ন সামাজিক ও জাতি গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে।

দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়, সেনাবাহিনী সবসময়ই স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিপন্ন জনসাধারণকে সাহায্য প্রদান, সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ এবং আশ্রয়হীন মানুষের সেবায় সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় সড়ক নির্মাণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙ্গন রোধ কার্যক্রম, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ-সংকট নিরসন, জাতীয় দিবস উদ্যাপন এবং অন্যান্য জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সক্রিয় অবদান সর্বজনবিদিত।’

তিনি বলেন, ‘বিরাজমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন কোভিড শীল্ড’ পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা ও শৃংখলার সাথে দায়িত্ব পালন করে দেশব্যাপী কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলমান রাখতে নির্বাচন কমিশনকে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে ছবিসহ নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও, সেনাবাহিনী নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরীতে সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে হাতির ঝিল প্রজেক্ট, মিরপুর-বিমানবন্দর ফ্লাইওভার, ঢাকা-মাওয়া চার লেন সড়ক, নির্মাণাধীন বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পসহ অনেক জাতি গঠন ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে সেনাবাহিনী জড়িত। স্মরণকালের বৃহত্তম শরণার্থী সমস্যা-রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ ও পূনর্বাসন দায়িত্বে সেনাসদস্যরা দিবারাত্রি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছে।’

সুসংহত ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান সেনাবাহিনীকে
দেশের সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও আমাদের সেনাবাহিনী দেশের জন্য প্রশংসা কুড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশনে Highest Troops Contribution Country হিসেবে স্থান দখল করে আছে। এই অর্জন বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার স্বাক্ষর বহন করে।

তিনি বলেন, ‘আমি, সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে আমাদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সুসংহত ও মর্যাদাপূর্ণ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সহজ কাজ নয় এবং অল্প সময়ে অর্জনও সম্ভব নয়। তবে, একনিষ্ঠতা, ঐকান্তিকতা ও সকলের সর্বাত্মক পরিশ্রমে এটি অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের যুগে একটি শক্তিশালী এবং আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও মূল্যবোধের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত করতে হবে আমাদের অগ্রযাত্রা।’

মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ এবং শান্তিকালীন পদক প্রাপ্তদের অভিনন্দন
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধন্যবাদ ও শান্তিকালীন পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত— থেকে কষ্ট করে এখানে এসে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য আমি আবারও আপনাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একইসাথে ২০২০/২১ সালে সেনাবাহিনীর যে ২৬ জন সদস্য তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বীরত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ‘অসামান্য সেবা পদক’ এবং ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সাত দিনের অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া ও ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, তিনটি বালুমহাল, তিনটি মাদক, তিনটি চাঁদাবাজি, দুটি ডাকাতি, একটি চুরি এবং চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এসএকে