খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শৈল্পিক কারুময়তায় বিজয় দিবসের লোগোর প্রশংসায় স্পিকার; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
শৈল্পিক কারুময়তায় বিজয় দিবসের লোগোর প্রশংসায় স্পিকার; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বিজয়ের মাসের প্রথম দিন। আলোর খেলায় বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসের নান্দনিক উপস্থাপনের দৃশ্যপট। কাউন্ট ডাউনের অবসান ঘটিয়ে সুইচ চাপলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। পাশেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠান মঞ্চে সারফি লাইটের মুগ্ধতার বিচ্ছুরণ। এলইডিতে থ্রিডি অ্যানিমেশন’র মাধ্যমে চোখের সামনে চলতি বছরের মহান বিজয় দিবসের লোগোর অবয়ব। শৈল্পিক কারুময়তায় প্রথমেই দেখা গেলো ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ছবি, এর মধ্যে ৩ জন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। এরপর মাথা উঁচু করে ভেসে উঠলো দিগন্তজুড়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতার স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধ; রক্তের দামে কেনা লাল-সবুজের মানচিত্র।

বাম পাশে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের ছবি, ডান পাশে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। ওপরের দু’দিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষের লোগো। সবার ওপরে ‘মহান বিজয় দিবস-২০২১’। ইলেকট্রিক কনফেটির মাধ্যমে উদযাপিত হলো মাহেন্দ্রক্ষণটি। তখন অমর স্বপ্নের জ্যোতি সবার চোখে।

বিজয়ের বৈজয়ন্তী উড়ানোর সূচনা দিনে বুধবার (০১ ডিসেম্বর) স্বপ্নিল-আলোকোজ্জ্বল এক মুহুর্তের স্বাক্ষী তখন ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স। উন্মোচিত হলো সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১’র লোগো।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী সেনাবাহিনীর তৈরি অনবদ্য-অনিন্দ্য সুন্দর লোগো’র প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর বিজয় দিবসের লোগো’র মাধ্যমে দেশাত্নবোধ জাগ্রত হবে বলেও মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সম্পন্ন হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সহযাত্রী হতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।

মহান জাতীয় সংসদের এই অভিভাবক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ও যন্ত্রপাতি সংযোজন করে সশস্ত্রবাহিনীকে আরো সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দূর্দান্ত কাজ করার মধ্যে দিয়ে জাতির আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তুতকৃত মহান বিজয় দিবস লোগো’র মাধ্যমে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হবে দেশের প্রতিটি প্রান্তে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্দোলন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা অর্জন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে লোগোটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহে সেনাবাহিনী অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে
বাঙালির কাঙ্ক্ষিত মুক্তিসংগ্রামে বিজয় অর্জনের মাস ডিসেম্বরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে সেনাপ্রধান জেনারেল ড. এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ’র। ১৯৬৩ সালের পহেলা ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ফলশ্রুতিতে এই দিনটি তাঁর জন্মদিনও।

বাঙালি জাতিসত্তা আর নিজস্ব ভূমির গৌরবদীপ্ত বিজয় ও অহংকারের মাসটিতে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি হৃদয়ের অতল থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে বলেন, ‘২০২১ সালটি বাংলাদেশের জন্য একটি এতিহাসিক বছর, কারণ এই বছরে আমরা একই সাথে উদযাপন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী।

আর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ।

সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমরদ্ধ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একান্তিক আগ্রহ এবং প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সকল সেনা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে ও বিদেশে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

এর আগে অনুষ্ঠানে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ লোগো’র পটভূমি বর্ণনা করেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। অনুষ্ঠানে বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান এবং সশস্ত্রবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ডিভাইডার ভেঙে এক বাসে অন্য বাসের ধাক্কা, নিহত ৪

রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহণের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহণের বাসে ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন বাগেরহাটের মংলার লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জের রবিউল ইসলাম (২২)।

জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহণের বাসটি দুমড়ে-মুছড়ে গেছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন বলেন, নর্দায় একটা কাউন্টার থাকায় জায়গাটি সব সময় ব্যস্ত থাকে। পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহন একটি বাস বেপরোয়া গতিতে নতুন বাজার থেকে উত্তরামুখী সড়ক ক্রস করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

বেপরোয়া গতির কারণে গাড়িটি রোড ডিভাইডার ভেঙ্গে বিপরীত লেনের উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী সড়কে থাকা আকাশ পরিবহনে ধাক্কা দেয়। গুলিস্তানগামী আকাশ পরিবহনে যাত্রী ছিল বেশি। আর ঘাতক ইসলাম পরিবহনে যাত্রী ছিলেন ৫-৭ জন। ইসলাম পরিবহনের ধাক্কায় আকাশ পরিবহন ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই এক নারী যাত্রী নিহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। বাকি একজনের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইসলাম পরিবহনের যাত্রীদের বরাত দিয়ে এসআই নেসারউদ্দিন জানান, পটুয়াখালী থেকেই বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলাচ্ছিল। চালক ও হেলপারও ছিল বেপরোয়া। রাস্তায় যাত্রী নামাতে নামাতে আসছিল। সারা রাস্তায় চিল্লাচিল্লি করেছে চালক।

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিস্তানমুখী আকাশ পরিবহণের বাসটি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসটিসহ ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস পুলিশ সরিয়ে নিয়েছে।

পরে যান চলা স্বাভাবিক হয়। ইসলাম পরিবহনের চালক হেলপারকে খোঁজা হচ্ছে। এছাড়া হতাহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা সন্তোষজনক: সড়কমন্ত্রী

দেড় কোটি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশু পরিবহনের মতো বিশাল চাপের মধ্যেও দেশের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন এবং বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ঈদযাত্রা স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলছে।

বুধবার (২৭ মে) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে পরিবহন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সব চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েও আমরা চেষ্টা করেছি একটি সাবলীল ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষ বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করছে, যা একটি বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর পরিবহনও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। পরিবহন খাতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে কিছু কিছু জায়গায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে, যা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ওই অংশে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে চাপ তৈরি হয়।

তবে এটি ব্যবস্থাপনার কোনো বড় ত্রুটি নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, বড় ধরনের চাপের সময় এ ধরনের ধীরগতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা চলাকালে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি সর্বনিম্ন রাখা যায়।

রেলপথে বিশেষ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে আলাদা কোচ সংযোজন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তবে সব ট্রেনে তা সম্ভব হয়নি, কারণ আগেই অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং পর্যাপ্ত কোচের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। নৌপথেও অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা ইজারা দিয়েছে বা অর্থ নিয়েছে, দায় তাদের ওপরই বর্তায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন