খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর, উদযাপন বিপুল-বর্ণাঢ্য আয়োজনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর, উদযাপন বিপুল-বর্ণাঢ্য আয়োজনে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

১৯৭১’র ২৫ মার্চ কালো রাতে বাংলাদেশে পাক হানাদাররা ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যাযজ্ঞ চালায়। আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানেই উচ্চ মনোবল ও তীব্র দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ইতিহাসের মহানায়ক, সিদ্ধপুরুষের হাতে গড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আকাশছোঁয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আর অগ্রগতির নতুন নতুন সব মাইলফলক সৃষ্টি করে পূর্ণ করেছে নিজেদের ৫০ বছরের গৌরবদীপ্ত পথচলা। বঙ্গবন্ধু কন্যা, হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে একই সময়ে বীর বাঙালি উদযাপন করছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উন্নয়নের দিক থেকেও মর্যাদার আসনে উচ্চারিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’র নাম।

প্রধানমন্ত্রীর শতভাগ আন্তরিকতায় বাঙালি জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে লাভ করেছে ক্রমব্যাপ্তি। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে হয়ে উঠেছে অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ ও চৌকস। দেশের উন্নয়ন কাজে নিরলসভাবে অংশগ্রহণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাতেও অদম্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক এই বাহিনীটি।

শুধু তাই নয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ও নিজেদের অসামান্য দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশপ্রেমী এই বাহিনীটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার ফলেই সমৃদ্ধ ও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-নিজের প্রতিটি বক্তব্যেই কৃতজ্ঞচিত্তেই এমনটিই উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ব্যতিক্রম ছিল না নিজ নেতৃত্বাধীন বাহিনীটির সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটিতেও। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বিপুল আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে গত শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) আয়োজন করা বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানেও বঙ্গবন্ধু কন্যা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির এই মহোৎসবের আনন্দ ঢেউ কার্যত ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে। ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে সেদিন নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত করা হয় একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী সেনাবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জনের সারি সারি চিত্রপট।

অনুষ্ঠানটিকে মহিমান্বিত করেছে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক’র ভিডিও বার্তা।

এছাড়া বন্ধুপ্রতীম তিন দেশ ভারত, ভূটান ও মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী প্রধানের শুভেচ্ছা ভিডিও বার্তা গোটা অনুষ্ঠানটিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কোভিডকালের অযুত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রায় ১১ হাজার অতিথি আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন সাজে সাজানো হয় এই স্টেডিয়াম। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোখে পড়ে আকর্ষণীয় উপস্থাপনা। ছিল উৎসবের এক আমেজ। চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় ধরা পড়ে মনোমুগ্ধকর রূপ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাম।

জাতির পিতার বজ্রকন্ঠে হাজারো বঞ্চনা থেকে বাঙালির মুক্তির ইতিহাস, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র ও লাল সবুজের পতাকার সঙ্গে দেশের মানুষের পাশাপাশি সেনা সদস্যদেরও আবেগ-উচ্ছ্বাসও নিবিড়। শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) সুবর্ণরেখায় উজ্জ্বল এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ অনেকেই।

বঙ্গবন্ধুর সমর দর্শনের আলোকে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নের দৃঢ় ও শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী, দক্ষ, পেশাগত, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও যুগোপযোগী একটি বাহিনীতে রূপান্তরিত করার সর্বাত্মক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

অমিত দৃঢ়তার সঙ্গে সেনাপ্রধান উচ্চারণ করেন-‘প্রধানমন্ত্রীর একান্তিক আগ্রহ এবং প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে জেনারেল শফিউদ্দিন বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে বলেন, ‘২০২১ সালটি বাংলাদেশের জন্য একটি এতিহাসিক বছর, কারণ এই বছরে আমরা একই সাথে উদযাপন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী।

আর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ।

সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সেনা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে ও বিদেশে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

চলতি করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি মানব সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। এক্সেস কন্ট্রোল এক্সপ্রেসওয়ে, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল, ফ্লাইওভার এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণেও তাঁরা অর্জন করেছে ভূয়সী প্রশংসা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বপরিমন্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রদানকারী দেশ হিসেবেও ধরে রেখেছেন গৌরবের স্থান। এসবের পেছনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে মাঠের সৈনিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরলস পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই সুদৃঢ় অবস্থানে আসার জন্য সকল পদবীর সৈনিকদের অবদান অনেক। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই সেনাবাহিনী কাজ করেছে সেখানেই মাঠ পর্যায়ের সৈনিকরা কাজ করে গেছে অকাতরে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি