খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর, উদযাপন বিপুল-বর্ণাঢ্য আয়োজনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর, উদযাপন বিপুল-বর্ণাঢ্য আয়োজনে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

১৯৭১’র ২৫ মার্চ কালো রাতে বাংলাদেশে পাক হানাদাররা ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যাযজ্ঞ চালায়। আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানেই উচ্চ মনোবল ও তীব্র দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ইতিহাসের মহানায়ক, সিদ্ধপুরুষের হাতে গড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আকাশছোঁয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আর অগ্রগতির নতুন নতুন সব মাইলফলক সৃষ্টি করে পূর্ণ করেছে নিজেদের ৫০ বছরের গৌরবদীপ্ত পথচলা। বঙ্গবন্ধু কন্যা, হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে একই সময়ে বীর বাঙালি উদযাপন করছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উন্নয়নের দিক থেকেও মর্যাদার আসনে উচ্চারিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’র নাম।

প্রধানমন্ত্রীর শতভাগ আন্তরিকতায় বাঙালি জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে লাভ করেছে ক্রমব্যাপ্তি। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে হয়ে উঠেছে অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ ও চৌকস। দেশের উন্নয়ন কাজে নিরলসভাবে অংশগ্রহণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাতেও অদম্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক এই বাহিনীটি।

শুধু তাই নয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ও নিজেদের অসামান্য দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশপ্রেমী এই বাহিনীটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার ফলেই সমৃদ্ধ ও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-নিজের প্রতিটি বক্তব্যেই কৃতজ্ঞচিত্তেই এমনটিই উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ব্যতিক্রম ছিল না নিজ নেতৃত্বাধীন বাহিনীটির সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটিতেও। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বিপুল আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে গত শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) আয়োজন করা বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানেও বঙ্গবন্ধু কন্যা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির এই মহোৎসবের আনন্দ ঢেউ কার্যত ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে। ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে সেদিন নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত করা হয় একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী সেনাবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জনের সারি সারি চিত্রপট।

অনুষ্ঠানটিকে মহিমান্বিত করেছে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক’র ভিডিও বার্তা।

এছাড়া বন্ধুপ্রতীম তিন দেশ ভারত, ভূটান ও মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী প্রধানের শুভেচ্ছা ভিডিও বার্তা গোটা অনুষ্ঠানটিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কোভিডকালের অযুত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রায় ১১ হাজার অতিথি আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন সাজে সাজানো হয় এই স্টেডিয়াম। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোখে পড়ে আকর্ষণীয় উপস্থাপনা। ছিল উৎসবের এক আমেজ। চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় ধরা পড়ে মনোমুগ্ধকর রূপ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাম।

জাতির পিতার বজ্রকন্ঠে হাজারো বঞ্চনা থেকে বাঙালির মুক্তির ইতিহাস, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র ও লাল সবুজের পতাকার সঙ্গে দেশের মানুষের পাশাপাশি সেনা সদস্যদেরও আবেগ-উচ্ছ্বাসও নিবিড়। শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) সুবর্ণরেখায় উজ্জ্বল এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ অনেকেই।

বঙ্গবন্ধুর সমর দর্শনের আলোকে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নের দৃঢ় ও শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী, দক্ষ, পেশাগত, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও যুগোপযোগী একটি বাহিনীতে রূপান্তরিত করার সর্বাত্মক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

অমিত দৃঢ়তার সঙ্গে সেনাপ্রধান উচ্চারণ করেন-‘প্রধানমন্ত্রীর একান্তিক আগ্রহ এবং প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে জেনারেল শফিউদ্দিন বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে বলেন, ‘২০২১ সালটি বাংলাদেশের জন্য একটি এতিহাসিক বছর, কারণ এই বছরে আমরা একই সাথে উদযাপন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী।

আর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ।

সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সেনা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে ও বিদেশে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

চলতি করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি মানব সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। এক্সেস কন্ট্রোল এক্সপ্রেসওয়ে, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল, ফ্লাইওভার এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণেও তাঁরা অর্জন করেছে ভূয়সী প্রশংসা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বপরিমন্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রদানকারী দেশ হিসেবেও ধরে রেখেছেন গৌরবের স্থান। এসবের পেছনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে মাঠের সৈনিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরলস পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই সুদৃঢ় অবস্থানে আসার জন্য সকল পদবীর সৈনিকদের অবদান অনেক। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই সেনাবাহিনী কাজ করেছে সেখানেই মাঠ পর্যায়ের সৈনিকরা কাজ করে গেছে অকাতরে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

হরমুজে জব্দ মার্কিন জাহাজ বিক্রি করবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
হরমুজে জব্দ মার্কিন জাহাজ বিক্রি করবে ইরান

হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরে যুদ্ধের সময় জব্দ করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে ইরান।

আর এসব জাহাজ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট মনিটর বলছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের বিচার বিভাগের আইনজীবী বিষয়ক কেন্দ্রের প্রধান হাসান আবদোলিয়ানপুর এ তথ্য জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

আবদোলিয়ানপুর বলেন, বিচারিক আদেশের আওতায় হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এসব জাহাজ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর জন্য ব্যবহার করা হবে।’

তিনি আরও জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

উভয়পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সব শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সব শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হোক কিংবা স্বাভাবিক—কোনো শিশুই শিক্ষার বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। এক দিনের নবজাতক থেকে শুরু করে সমাজের প্রবীণতম নাগরিক পর্যন্ত সব মানুষকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেনদিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে ‘লিডো বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘ইয়ং জার্নালিস্ট চেঞ্জমেকার্স: ভয়েস ফর ভালনারেবল চিলড্রেন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শিশুকে মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষার চর্চা শুরু করতে হবে। পরিবারহীন শিশুদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকার বিভিন্ন ছোটমণি নিবাস ও শিশু নিবাস পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় ও শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেকোনো জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ ও কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়; বরং সরকার ও জনগণ একে অপরের পরিপূরক।

এ সময় সংকীর্ণ সমালোচনা পরিহার করে বিদ্যমান সামর্থ্য ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে সবাইকে দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা সরাসরি মন্ত্রীর কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ সংগ্রহ ও নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী বিষয়গুলো সহমর্মিতার সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব, এসওএস চিলড্রেন ভিলেজের কান্ট্রি ডিরেক্টর, সেভ দ্য চিলড্রেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো) একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। পথশিশু, নির্যাতিত শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয় ও জরুরি সেবা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ব্যালন ডি’অর নিয়ে দিবু মার্তিনেস, ‘আমার কোনো সুযোগ নেই, মেসির আছে’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ব্যালন ডি’অর নিয়ে দিবু মার্তিনেস, ‘আমার কোনো সুযোগ নেই, মেসির আছে’

ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেস। বরং পুরস্কারটির জন্য নিজের চেয়ে লিওনেল মেসির সম্ভাবনাকেই এগিয়ে রেখেছেন চেলসির এই গোলরক্ষক।

ফিফার আন্তর্জাতিক সূচিতে আর্জেন্টিনার সামনে থাকা তিনটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন দিবু। আর্জেন্টিনায় পা রাখার পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো সুযোগ নেই। মেসির আছে, আমার নয়।’

তবে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার লেভ ইয়াসিন ট্রফির জন্য মনোনীত হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী দিবু। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই পুরস্কার জেতা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এবারও নিজেকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন না।

বরং বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনীত আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড়ের একজন মেসি, অন্যজন লাওতারো মার্তিনেস।

ফাইনালের হার এখনো মনে আছে

স্পেনের কাছে হেরে যাওয়া ফাইনালের কথাও স্মরণ করেছেন দিবু। সেই হারকে দীর্ঘদিন মনে থাকার মতো ‘কাঁটা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলে আবারও ফিরতে পেরে নিজের আনন্দের কথাও জানিয়েছেন।

দিবু বলেন, ‘এখানে ফিরে জাতীয় দলে খেলতে পেরে আমি উপভোগ করছি। যারা এখানে আছে, তারা নতুন কেউ নয়, সবাই আগে থেকেই দলের সঙ্গে ছিল। আর জাতীয় দল সবসময়ই জাতীয় দল থাকবে, যারা চলে যাবে তাদের বিষয়টি আলাদা।’

মেসির বিদায়ী ম্যাচ স্মরণীয় করতে চান দিবু

মেসির জাতীয় দল থেকে বিদায় নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচ হওয়ার কথা।

এ নিয়ে দিবু বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, সে এরই মধ্যে অবসর নিয়ে ফেলেছে। আর্জেন্টিনায় নিজের দেশে অবসর নেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য স্বপ্নপূরণের মতো। আমরা চেষ্টা করব দিনটিকে সুন্দর ও স্মরণীয় করে তুলতে।’

স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে জানেন না দিবু

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন দিবু। বছরের শেষেই স্কালোনির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের কোনো ধারণা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

দিবুর ভাষায়, ‘আমি জানি না। এটা তার এবং তার দলের সিদ্ধান্ত। সে যে সিদ্ধান্তই নিক, আমরা সবসময় তাকে সমর্থন করব।’

সামনে তিন প্রীতি ম্যাচ

আর্জেন্টিনা দলের সব খেলোয়াড় এখনো ক্যাম্পে যোগ দেননি। তবে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এজেইজা কমপ্লেক্সে অনুশীলন শুরু করার কথা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর বুয়েনস এইরেসে ফিরে ৩ অক্টোবর বুরকিনা ফাসোর মুখোমুখি হবে তারা। সবশেষ ৬ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা—যে ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে ঘিরে রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

কালের আলো/এসএ