খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর, উদযাপন বিপুল-বর্ণাঢ্য আয়োজনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর, উদযাপন বিপুল-বর্ণাঢ্য আয়োজনে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

১৯৭১’র ২৫ মার্চ কালো রাতে বাংলাদেশে পাক হানাদাররা ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যাযজ্ঞ চালায়। আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানেই উচ্চ মনোবল ও তীব্র দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ইতিহাসের মহানায়ক, সিদ্ধপুরুষের হাতে গড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আকাশছোঁয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা আর অগ্রগতির নতুন নতুন সব মাইলফলক সৃষ্টি করে পূর্ণ করেছে নিজেদের ৫০ বছরের গৌরবদীপ্ত পথচলা। বঙ্গবন্ধু কন্যা, হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে একই সময়ে বীর বাঙালি উদযাপন করছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে উন্নয়নের দিক থেকেও মর্যাদার আসনে উচ্চারিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা’র নাম।

প্রধানমন্ত্রীর শতভাগ আন্তরিকতায় বাঙালি জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে লাভ করেছে ক্রমব্যাপ্তি। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে হয়ে উঠেছে অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ ও চৌকস। দেশের উন্নয়ন কাজে নিরলসভাবে অংশগ্রহণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাতেও অদম্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক এই বাহিনীটি।

শুধু তাই নয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ও নিজেদের অসামান্য দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশপ্রেমী এই বাহিনীটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টার ফলেই সমৃদ্ধ ও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-নিজের প্রতিটি বক্তব্যেই কৃতজ্ঞচিত্তেই এমনটিই উপস্থাপন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ব্যতিক্রম ছিল না নিজ নেতৃত্বাধীন বাহিনীটির সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানটিতেও। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বিপুল আয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে গত শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) আয়োজন করা বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানেও বঙ্গবন্ধু কন্যা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ বছর পূর্তির এই মহোৎসবের আনন্দ ঢেউ কার্যত ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে। ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে সেদিন নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত করা হয় একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী সেনাবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্জনের সারি সারি চিত্রপট।

অনুষ্ঠানটিকে মহিমান্বিত করেছে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক’র ভিডিও বার্তা।

এছাড়া বন্ধুপ্রতীম তিন দেশ ভারত, ভূটান ও মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনী প্রধানের শুভেচ্ছা ভিডিও বার্তা গোটা অনুষ্ঠানটিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। কোভিডকালের অযুত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রায় ১১ হাজার অতিথি আর্মি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন সাজে সাজানো হয় এই স্টেডিয়াম। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোখে পড়ে আকর্ষণীয় উপস্থাপনা। ছিল উৎসবের এক আমেজ। চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জায় ধরা পড়ে মনোমুগ্ধকর রূপ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে গর্বিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাম।

জাতির পিতার বজ্রকন্ঠে হাজারো বঞ্চনা থেকে বাঙালির মুক্তির ইতিহাস, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র ও লাল সবুজের পতাকার সঙ্গে দেশের মানুষের পাশাপাশি সেনা সদস্যদেরও আবেগ-উচ্ছ্বাসও নিবিড়। শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) সুবর্ণরেখায় উজ্জ্বল এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকসহ অনেকেই।

বঙ্গবন্ধুর সমর দর্শনের আলোকে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি বাস্তবায়নের দৃঢ় ও শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী, দক্ষ, পেশাগত, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও যুগোপযোগী একটি বাহিনীতে রূপান্তরিত করার সর্বাত্মক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করায় তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

অমিত দৃঢ়তার সঙ্গে সেনাপ্রধান উচ্চারণ করেন-‘প্রধানমন্ত্রীর একান্তিক আগ্রহ এবং প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ অভূতপূর্ব আধুনিকায়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে জেনারেল শফিউদ্দিন বাঙালি জাতির চির আরাধ্য পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে বলেন, ‘২০২১ সালটি বাংলাদেশের জন্য একটি এতিহাসিক বছর, কারণ এই বছরে আমরা একই সাথে উদযাপন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী।

আর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ-বাংলাদেশ।

সেনাপ্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সেনা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে ও বিদেশে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন।’

চলতি করোনা দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি মানব সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত। এক্সেস কন্ট্রোল এক্সপ্রেসওয়ে, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল, ফ্লাইওভার এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণেও তাঁরা অর্জন করেছে ভূয়সী প্রশংসা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিশ্বপরিমন্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রদানকারী দেশ হিসেবেও ধরে রেখেছেন গৌরবের স্থান। এসবের পেছনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে মাঠের সৈনিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের নিরলস পরিশ্রম ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই সুদৃঢ় অবস্থানে আসার জন্য সকল পদবীর সৈনিকদের অবদান অনেক। দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই সেনাবাহিনী কাজ করেছে সেখানেই মাঠ পর্যায়ের সৈনিকরা কাজ করে গেছে অকাতরে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সাত দিনের অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া ও ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, তিনটি বালুমহাল, তিনটি মাদক, তিনটি চাঁদাবাজি, দুটি ডাকাতি, একটি চুরি এবং চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এসএকে