খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বিজয় দিবস প্যারেডে ৫ দেশের সশস্ত্র বাহিনী, পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়ের বার্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বিজয় দিবস প্যারেডে ৫ দেশের সশস্ত্র বাহিনী, পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়ের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বাংলাদেশের ৫০ তম বিজয় দিবসে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আনন্দ। মুজিববর্ষের দৌলতে এই আনন্দ হয়ে উঠে আরও তাৎপর্যময়। বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে এবারই প্রথম বন্ধুপ্রতীম ৫ টি দেশ বিজয় দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণ করে নজর কাড়ে।

বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ মহিমান্বিত করে পুরো কুচকাওয়াজকে। ভারত, ভুটান, রাশিয়া, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র কনটিনজেন্ট ও পর্যবেক্ষক দল পাঠনোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করারই বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এক সাগর রক্ত পেরিয়ে বিজয়ের নিশানে স্বাধীনতা এসেছিল বাঙালির জীবনে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির বিজয় আজ মহিরুহ। বাঙালি জাতির জীবনে এক অনন্য প্রাপ্তির সময়ে দেশের সতেরতম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বিজয়ের ৫০’র কুচকাওয়াজকে আকর্ষণীয় ও জৌলুসময় হিসেবেই উপহার দিয়েছেন। ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশই কেবল হননি, নিজের সেনাপ্রধানের অধ্যায়টিকেও রাঙিয়েছেন। 

জাঁকজমক বিজয় প্যারেডের মাধ্যমে সতের কোটি বাঙালির উৎসব-আনন্দকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ব্যস্ত সময়ও অতিবাহিত করছিলেন জেনারেল শফিউদ্দিন। তার সময়েই প্রথমবারের মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীরা বিজয় প্যারেডে অংশ নিয়ে সূচনা করেছে নতুন দিগন্তের। গত মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং বিজয় দিবস প্যারেড উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে আগত বিভিন্ন দেশের অতিথিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। 

সেনাপ্রধান জেনারেল ড. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের আমন্ত্রণে নৈশভোজে যোগ দেন মেক্সিকো’র সেনাবাহিনী প্রধান, রাশিয়া’র ডেপুটি ল্যান্ড ফোর্স কমান্ডার। এছাড়া ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সদস্য, ভারত, রাশিয়া ও ভুটান সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর পর্যবেক্ষকরা নৈশভোজে যোগ দেন। 

স্বাধীনতা যুদ্ধে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। নিজস্ব বাদকদলের ব্যান্ডের তালে তালে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদকে সালাম জানান ভূটান সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত সামরিক কন্টিনজেন্ট। এ সময় রাষ্ট্রপতির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদসহ তিন বাহিনীর প্রধানরা।

ভুটানের কনটিনজেন্টের নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুনাম। এই দলে মোট সদস্যের সংখ্যা ৩৫। আঞ্চলিক প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ ও ভূটানের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বিশ্বের দরবারে ভূটানই প্রথম স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭১ সাল থেকে দু’দেশের মধ্যে গড়ে উঠা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। ভবিষ্যতের কৌশলগত উন্নয়নের ব্যাপারে দু’দেশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বন্ধুত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। নিজস্ব বাদক দলের ব্যান্ডের তালে তালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মানিশ বাড়ালের নেতৃত্বে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত সামরিক প্যারেড কন্টিনজেন্ট। কর্নেল বিনয়ের নেতৃত্বে গত ১০ ডিসেম্বর ১২২ সদস্য বিশিষ্ট ভারতীয় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক রয়েছে ভবিষ্যতে এটি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে মনে করা হচ্ছে।

রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত সামরিক প্যারেড কন্টিনজেন্ট দেশটির কর্নেল জেনারেল কে এম অ্যালেক্সের নেতৃত্বে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে। রাশার প্রতিনিধি দলে মোট সদস্য ছিলেন ৩৫ জন।

এরপর রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানায় মেক্সিকোর পর্যবেক্ষক দল। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল সিয়ারা হোসেএকুবোস। এই পর্যবেক্ষক দলে সদস্য সংখ্যা ৫। বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে সশস্ত্র বাহিনীর একটি কন্টিনজেন্ট মেক্সিকো সিটিতে আয়োজিত প্যারেডে অংশগ্রহণ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন অ্যালেকজেন্ডার ব্রাউন ওয়াচকিংস। এই পর্যবেক্ষক দলে ১১ জন সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে তাদের অংশগ্রহণ দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ