খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের হীরকদ্যুতিতে জ্বলজ্বল মুক্তিযুদ্ধ, দিনমান কর্মযজ্ঞ শৈশব ‘স্মৃতি জাগানিয়া’ নড়াইলে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
সেনাপ্রধানের হীরকদ্যুতিতে জ্বলজ্বল মুক্তিযুদ্ধ, দিনমান কর্মযজ্ঞ শৈশব ‘স্মৃতি জাগানিয়া’ নড়াইলে

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

রাজা-জমিদারদের তীর্থ ভূমি নড়াইলে কেটেছে সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের দুরন্ত উচ্ছ্বাসে ভরপুর শৈশব। ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি’, আত্নসমর্পণে বাধ্য পাকবাহিনীকে ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা শেখ রোকন উদ্দিন আহমেদ। জাতির একজন সূর্য সন্তানের আত্নজ হিসেবেই স্বচোখে তিনিও দেখেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্ত-অশ্রু।

সেই রুদ্ধশ্বাস সমরের দিনলিপি গভীরভাবে আন্দোলিত করেছিল তাঁর শিশুমনকেও। হৃদয়ের মনিকোঠরে দাগকাটা সেই সময়ে তাঁর বয়স ৭ কী ৮ বছর। তখন মহাবিজয়ের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকন্ঠের আহ্বানে তাঁর বাবার মতোই অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা অসামান্য শৌর্য আর বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে হটিয়েছিলেন পাকিদের।

জেনেছেন নিশ্চিত মৃত্যু; কিন্তু দ্বিধার একটি পলকও ফেলেননি ওইসব চোখ। শৈশবের সোনার খাঁচায় খসে যাওয়া দিনগুলো আজও যেন মনে পড়ে সেনাপ্রধানের। জ্বলজ্বল করে মনের হীরকদ্যুতিতে! পরম সম্পদ মেনে এই দিনগুলোর স্মৃতিকেই যেন জীবনভর আগলে রেখেছেন। অত:পর মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) ছুটে গেছেন নিজের পৈতৃক ভিটা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার করফা গ্রামে।

কেবল-ই কী তাই? নিভৃত মানবিকতার মুক্তদানার বিচ্ছুরণে জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন দাঁড়িয়েছেন নড়াইলের গরিব ও অসহায় মানুষের পাশেও। স্থানীয় মল্লিকপুর করফা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রায় দু’হাজার মানুষের হাতে তিনি তুলে দিয়েছেন দেশপ্রেমী বাহিনীর ভালোবাসার শীতবস্ত্র।

প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শীতকালীন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশজুড়ে অসহায় ও দু:স্থ মানুষের শরীরে জড়িয়ে দিচ্ছে উষ্ণতার উপহার। ত্রাণ আর চিকিৎসা সেবাসহ নানামুখী জনকল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত রেখেছেন নিজেদের, উদ্ভাসিত করেছেন কালজয়ী চেহারায়।

প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলা শীতার্ত মানুষ দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর এমন অনির্বাণ মানবিকতায় খুশি। এবার তাদের পরম মমতার পরশে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসেই অনিন্দ্য সুন্দর একটি দিন পার করেছেন শীতের সঙ্কটে বেদনাবৃত্তে নিমজ্জিত নড়াইলের অসহায় মানুষেরাও।

অতীতের কাছে জমা রেখে আসা নিজের সোনালী শৈশবের সঙ্গে নিবিড়ভাবে অঙ্কিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের নড়াইল অধ্যায়। জীবনের পূর্ণতার এই সময়ে অতীত স্মৃতি হৃদয়ে উঁকি দেয়া মাত্রই যেন ভালো লাগারই এক মুগ্ধতা ছড়ায়।

শাশ্বত আত্মার অন্তর্নিহিত মর্মরধ্বনিতে চির মাধুর্যের সুরে সতত বহমান তাঁর শৈশব জীবনের নড়াইলের গল্পগাঁথা। নিজের জবানীতে তুলে আনলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহ্নিশিখাকে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের উত্তরে অতীতের হীরন্ময় প্রকোষ্ঠে হারিয়ে গিয়ে জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলতে থাকলেন- ‘নড়াইল আমার জন্মভিটা নয়, আমার জন্ম খুলনায়; আমি বড় হয়েছি খুলনায়। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমি নড়াইলে ছিলাম। কারণ এটা হলো আমার বাপ-দাদার জন্মস্থান।’

সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথরেখায় দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে তাঁর শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়া। নড়াইলের স্মৃতির গ্রামেও সম্ভবত মঙ্গলবার (০৪ জানুয়ারি) তিনি খুঁজে ফিরেছেন সেই ধূলোমাখা পথচিহ্ন আর স্মৃতির সরণি। স্মৃতি-সত্ত্বা-ভবিষ্যতকে সঙ্গী করেই এগিয়ে গেছেন জীবনের অনিবার্যপথে, যেখানে সাফল্যে রাঙিয়েছেন নিজেকে।

হয়তো এদিন নিজের গ্রামে চোখে পড়েনি সেই পুরনো কাঠামো বা বিন্যাস। গ্রামীণ জীবনের পাশাপাশি ল্যান্ডস্কেপও হয়েছে পরিবর্তিত। বদলেছে জীবনের সীমা-পরিসীমা। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় নিজের স্মৃতির গ্রামের সুন্দর প্রতিচ্ছবিই যেন ভেসে উঠলো সেনাপ্রধানের দু’নয়নজুড়ে।

অযুত নিযুত পালাবদল সত্ত্বেও শৈশবের উজ্জ্বল দিনগুলো নিয়ে তাঁর স্মৃতিচিত্র মলিন হয়নি মোটেও। শান-শওকতে ভরা জমিদার বাড়ির আবছায়া আর নেই। কালের গর্ভে অনেক কিছুই হয়েছে বিলীন। হারিয়েছে নিজের বাপ-দাদা’র বাড়ির প্রাচীন ইমরাত বা সাংস্কৃতিক দ্যোতনা।

মানুষগুলোও চলে গেছেন জীবনের চেয়ে বহুদূরের ঠিকানায়। আবেগমথিত কন্ঠেই তাই সেনাপ্রধানের উচ্চারণ-‘এই নড়াইলে আমাদের বাড়ি ছিল। এখানে একটি বড় জমিদারবাড়ি ছিল আমাদের। সেই বাড়িটি দেখলাম এখন অনেকটাই ভেঙে গেছে নদী ভাঙনে। কিন্তু এখানে এসে একটি আলাদা অনুভূতি কাজ করছে আমার ভেতর। স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা, অনেক স্মৃতিই আজ মনে পড়ছে।’

সেনাবাহিনীতে প্রথমবারের মতো লজিস্টিক এফটিএক্স অনুশীলন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মান বিশ্ব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ারও দৃঢ় অঙ্গীকার করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আর্মি লেভেল লজিস্টিক এফটিক্স (ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ) পরিচালিত হচ্ছে।’

জেনারেল শফিউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন শীতকালীন প্রশিক্ষণে সারাদেশে মোতায়েন রয়েছে। আমরা যখন প্রশিক্ষণে জনগনের কাছে যাই তখন আমরা এই সুযোগটা গ্রহণ করি; তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এই প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে আমরা আজকে এখানে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি।

শুধু এখানেই নয়, আমরা বাংলাদেশের সব জায়গায়, যেখানেই সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণের জন্য মোতায়েন করেছি সেখানেই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কিছু কম্বল বা অন্যান্য সাহায্য দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা কম্বল বিতরণের বাইরেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে যুগোপযোগী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যুগোপযোগী এক বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বে শান্তিরক্ষায় সেনা প্রেরণকারী দেশ হিসেবেও শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ সেনবাহিনী।

পেশাদারিত্বের কারণেই আমরা এটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও যাতে আমরা আরও সুনাম ছড়িয়ে দিতে পারি এজন্য প্রশিক্ষণকেই মূল ফোকাস রেখেছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার সক্ষমতার জায়গায় পৌঁছতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, এর আগে সেনাপ্রধান লোহাগড়ায় এসে পৌঁছালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক মেজর জেনারেল এফ এম জাহিদ হোসেন ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. নূরুল অনোয়ার তাকে অভ্যর্থনা জানান।

মধুমতি নদীর উপর নির্মিতব্য রেল সেতু পরিদর্শন
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ পরে মধুমতি নদীর উপর নির্মিতব্য রেল সেতু প্রজেক্ট ও মধুমতি আর্মি ক্যাম্প পরির্দশন করেন। এ সময় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক এবং ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর সাথে রাজধানী ঢাকার রেল সড়ক সংযুক্তি বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম সংযুক্তি প্রকল্প। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ১৭২ কিলোমিটার রেল পথের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় নয়টি জেলা রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি সংযুক্ত হবে। এই রেলপথ ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, যশোর এবং খুলনা জেলাকে রেলপথ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করবে।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালে জুলাই মাসে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের জুলাই মধ্যে সমাপ্ত হবে। প্রকল্প সমাপ্তির পর জাতীয় অর্থনীতিতে আনুমানিক ১.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটবে বলে আশা করা যায়। সরকারের জি টু জি প্রকল্পের আওতায় চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে রেল মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পে ‘চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী’ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মরত রয়েছে।

প্রকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রকল্প সুপারভিশন এবং পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছে। এই প্রকল্পে ১৭২ কিলোমিটার রেলপথে মোট ৫৯ টি রেল সেতু, ১২৪ টি কালভার্ট ও ১৩২ টি আন্ডারপাসসহ মোট ২০ টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৪৫.৭৮ শতাংশ।

কালের আলো/এমএএএমকে

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন, দায়িত্ব পেলেন আলীমুল আমীন

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) এবং সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাকে নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন এখন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি সংকোচনের  ছক, বড় পরীক্ষায় ন্যাটো

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) ইউরোপে মোতায়েন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাসের একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এসব পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন।

  • সেনা-অস্ত্র সরানোর পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপে পুনর্মোতায়নের পরিকল্পনা
  • ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
  • সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ নিরাপত্তা সম্পর্কে

বড় আকারের প্রত্যাহারের সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। আলোচনায় থাকা একটি বিকল্পে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এতে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব পড়তে পারে।

আরও বড় পরিসরের একটি পরিকল্পনায় প্রায় ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো এখনো সম্ভাব্য বিকল্প; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে না গিয়ে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু সেনাকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সেনাসংখ্যা কমলেও পূর্ব ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
এই আলোচনা সামনে আসার সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপের কয়েকটি মিত্রদেশ মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনের ইরাননীতি নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপও আলোচনায় রয়েছে।

জার্মানি ঘিরে বাড়ছে নজর
ইউরোপে সম্ভাব্য পুনর্বিন্যাসে জার্মানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি। ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনাদের অর্ধেকের বেশি দেশটিতে অবস্থান করছে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির খবর এসেছে।

গত বছর রোমানিয়া থেকেও প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করার পর জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে অন্তত ২৫ হাজার সেনা একসঙ্গে প্রত্যাহার না করার বিষয়ে রাজি করেছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়া ও ন্যাটোর সমীকরণ
ইউরোপ থেকে বড় পরিসরে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোয় তার প্রভাব পড়তে পারে। জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, এতে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা তৈরি হতে পারে।

তবে প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সেনারা কোথা থেকে এবং কীভাবে সরানো হচ্ছে তার ওপর। পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ন্যাটো সীমান্তে পাঠানো হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকি
সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ওয়াশিংটন দ্রুত ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলে সেনা, বিমান ও অন্যান্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে পারে। উপস্থিতি কমলে সেই দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ন্যাটো সম্মেলনে সদস্যদেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফলে আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু সেনা প্রত্যাহারের হিসাব নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপনীতি, ন্যাটোর দায়িত্ব বণ্টন এবং রাশিয়াকে ঘিরে জোটের প্রতিরোধ কৌশলে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এম/এএইচ

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিজভী

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে পারে। তবে কর্মসূচির নামে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার দায়ও তাদের নিতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রে সংসদের ভেতরে-বাইরে কথা বলার অধিকার রয়েছে। বিরোধী দল কর্মসূচি করুক, এতে আপত্তি নেই। তবে হুমকি-ধমকি, মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

৪৫০ গাড়ির লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে ৪৫০টি গাড়ি নিয়ে রংপুরে লংমার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর দাবি, যমুনা সেতুর টোল আদায়ের হিসাব অনুযায়ী ওই বহরে প্রায় ৪৫০টি গাড়ি ছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতগুলো গাড়িতে কত জ্বালানি ব্যয় হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশে যখন ডিজেল সরবরাহে সংকট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে, তখন এত গাড়ি নিয়ে লংমার্চের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের বিকল্প প্রস্তাব কী—এ প্রশ্নও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকারে যেতে পারে, তাই বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাদেরও পরিকল্পনা জানানো উচিত।

জ্বালানি সংকট নিয়ে বক্তব্য

রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটকে শুধু সরকারের একক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, সরকার বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে গ্যাস ও এলএনজি আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি ঠিক হওয়ায় গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাসে আগুন, বোমাবাজি নিয়েও প্রশ্ন

দেশ অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, কাফরুল ও মিরপুরে বাসে আগুন এবং হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জামায়াতের লোক বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে—এমন দাবি করে জামায়াতের আমিরের প্রতিও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের আমিরকে লংমার্চ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী

এক দফার আন্দোলনের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এক দফার কথা শুনে বিএনপি গলি দিয়ে পালিয়ে যাবে না কিংবা প্রাচীর টপকে পালাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৭ বছর ধরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দলটি আন্দোলন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনও দীর্ঘদিনের সেই আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

বিএনপি ক্ষমতায় আছে ক্ষমতার জোরে নয়, জনগণের শক্তির জোরে—এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সমাবেশে তিনি পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ হাজার কোটি গাছ লাগানো, হৃদরোগীদের রিংয়ের দাম কমানো এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিজয়নগর নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি