খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

লজিস্টিক এফটিএক্স অনুশীলনের যুগে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের ‘টার্গেট’ বিশ্বমানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
লজিস্টিক এফটিএক্স অনুশীলনের যুগে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের ‘টার্গেট’ বিশ্বমানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

১৯ ডিসেম্বর থেকে ১৪ জানুয়ারি। সেনাবাহিনীর চার সপ্তাহের শীতকালীন বহিরঙ্গন প্রশিক্ষণ। ক্যান্টনমেন্ট থেকে মাঠ সংযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দেশের দায়িত্বপূর্ণ প্রতিটি এলাকায় প্রায় শতভাগ সেনা সদস্য। নব উদ্যম নিয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ।

প্রবেশ করেছেন লজিস্টিক এফটিএক্স অনুশীলনের যুগেও। ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সূচিত হয়েছে নতুন এক ধারা। যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এই ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজের (এফটিএক্স) মাধ্যমে নিজেদের যুগোপযোগী করতে সুচিন্তিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সেনা সদর দপ্তর।

সেনাবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় সব ফরমেশনের মধ্যে ওয়্যারলেস, ভিস্যাট ও ইন্টারনেট কমিউনিকেশন যেমন স্থাপন করা হয়েছে, তেমনি প্রশিক্ষণে পরীক্ষা করা হচ্ছে সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজিত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির কৌশলগত ব্যবহারও।

আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন সেনাবাহিনী গড়তে উন্নত-আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ভূমিকা পালন করবে যুগান্তকারী, এমটিই বলছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য হচ্ছে- নিজ নেতৃত্বাধীন বাহিনীর দীর্ঘ ৫০ বছরের উজ্জ্বল-গৌরবময় পথপরিক্রমার ধারাবাহিকতায় নতুন বছরে নতুন প্রত্যাশায় সম্ভাবনার পথে স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে যেতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ফলশ্রুতিতে প্রশিক্ষণকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে তিনি বিশ্বমানের একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে প্রবলভাবেই আশাবাদী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশিক্ষণ পরিদর্শনকালে নিজের প্রতিটি বক্তব্যেই এই বিষয়টিকে ফোকাস করেছেন সেনাপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশিত পেশাদারিত্বের কাঙ্খিত মান অর্জনের মতোই উদয়াস্ত নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণেই তাই পূর্ণ মনোনিবেশ করেছেন তার বাহিনীর সেনা সদস্যরা। পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দক্ষতার শিখরে পৌঁছতে চায় প্রতিটি সেনা সদস্য। সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই সামরিক বিশ্ব পরিমন্ডলে নিজেদের নতুন চেহারায় মেলে ধরার মাধ্যমে দুর্বৃত্তদেরও আবারও জানান দিতে চায়- ‘বাংলার মাটি, দুর্জয় ঘাঁটি’।

সূত্র মতে, উন্নয়নের সোপানে প্রশিক্ষণ অগ্রগতির সাফল্য নিশ্চিতে তৃণমূলে ছুটছেন সেনাপ্রধান। একেকদিন একেক এলাকায় যাচ্ছেন। আধুনিক প্রশিক্ষণ সাফল্যের নবযাত্রাকে বেগবান করতে গত ১২ দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, নড়াইল, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় স্বচোখে প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করেন জেনারেল শফিউদ্দিন। বাহিনী প্রধানের সরাসরি উপস্থিতিতে আরও চাঙ্গা ও উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

সূত্র মতে, সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণসমূহের এলাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সার্বভৌম মানবিকতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড় করিয়েছেন দেশপ্রেমিক নিজ বাহিনীকে।

ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ‘জনগণের সেনাবাহিনী’ বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। দেশজুড়ে অসহায় ও দু:স্থ মানুষের শরীরে সেনারা জড়িয়ে দিচ্ছেন উষ্ণতার উপহার। ত্রাণ আর চিকিৎসা সেবাসহ নানামুখী জনকল্যাণমুখী কর্মযজ্ঞে সম্পৃক্ত রেখে স্থানীয়দের বুলিয়ে দিচ্ছেন মমতার পরশ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, প্রতি বছরই শীতকালীন প্রশিক্ষণে বের হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত বছর অপারেশন কোভিড শিল্ড পরিচালিত হওয়ায় হয়নি প্রশিক্ষণ। ফলে এক বছরের বিরতিতে পূর্ণোদ্যমে অনুশীলনে মনোযোগ দিয়েছে বাহিনীটির সদস্যরা।

সেনাসদর দপ্তরসহ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশন মোতায়েন হয়েছে বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়। এই প্রশিক্ষণে সেনাবাহিনী সদর দপ্তর বহিরঙ্গনে এসে পূর্ণাঙ্গরূপে অনুশীলন করছে।

একই সূত্র বলছে, লজিস্টিক’র র ওপর ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ (এফটিএক্স) পরিচালনার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণে সড়কপথের পাশাপাশি আকাশপথ, নদীপথ এবং রেলপথে সফলভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রসদ সম্ভার পরিবহন করা হচ্ছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০’র আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজিত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির কৌশলগত ব্যবহারও এবারের শীতকালীন প্রশিক্ষণে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সেনা সদর মনে করছে, চলতি বছরের শীতকালীন প্রশিক্ষণ অনেক বেশী অভিনব ও বাস্তবধর্মী। দেশের সেবায় নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে সরেজমিনে বাস্তবধর্মী বিভিন্ন সামরিক বিষয়াদি অনুশীলনের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন সাধন করাই মাসব্যাপী পরিচালিত এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।

আইএসপিআর জানায়, এবারের অনুশীলনে সেনাবাহিনী প্রধান, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জিওসি আর্মি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, কমান্ড্যান্ট ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন ফরমেশনে অনুশীলন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিকভাবে একটি বিশ্বমানের বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদী সেনাপ্রধান।

যুদ্ধ বা বৈরিতা চান না প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আক্রান্ত হলে মোকাবিলার শক্তি অর্জন করতে চান। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও চৌকস বাহিনীতে রুপ দিতে নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মপ্রয়াসের সফল বাস্তবায়নে ব্রত প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতা সুরক্ষার পবিত্র দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীটিতে অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান, মাঝারি ও দূরপাল্লার এমএলআরএস রেজিমেন্ট, আকাশ বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় সোরাড, ভিসোরাড ও সর্বাধুনিক অরলিকন মিসাইল রেজিমেন্টসহ নানাবিধ অস্ত্র-সরঞ্জামাদি সংযোজন করেছেন।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন দিকনির্দেশনায় জেনারেল এস এম শফিউদ্দিনের নেতৃত্বে এখন উন্নত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এবারের শীতকালীন প্রশিক্ষণে পুরোমাত্রায় সাফল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনারা লজিস্টিক এফটিএক্স অনুশীলন অভিষেক নিজেদের প্রাণে প্রাণে শুভ কল্যাণের দোলার মাধ্যমে সামরিক বিশ্বে নিজেদের সমৃদ্ধির নতুন এক বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে যেন!

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সাত দিনের অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া ও ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, তিনটি বালুমহাল, তিনটি মাদক, তিনটি চাঁদাবাজি, দুটি ডাকাতি, একটি চুরি এবং চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এসএকে