খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জীবন উৎসর্গের শপথ ৪১৭ নবীন নাবিকের, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহায়তার অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
জীবন উৎসর্গের শপথ ৪১৭ নবীন নাবিকের, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহায়তার অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

বাদ্যের তালে তালে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ। ২২ সপ্তাহের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষের পর গৌরবের অনন্য এক অধ্যায়ে প্রবেশ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৫ ব্যাচের ৪১৭ নবীন নাবিকের পদচারণায় সোমবার (২৪ নভেম্বর) মুখর পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ড। লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়ে তাঁরা যোগ দিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। সন্তানের কুচকাওয়াজ দেখে তখন অনেক অভিভাবকের চোখে জলজমা আনন্দ। বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করা নবীন নাবিকদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অবলোকন করলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

‘শান্তিতে সংগ্রামে, সমুদ্রে দুর্জয়’ এই স্লোগান নিয়ে এই তরুণ নাবিকরা শুধু সমুদ্রসীমাই নয়, আগামী দিনে এক উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে রাখবে বলিষ্ঠ ভূমিকা এমন প্রত্যাশার কথাও উচ্চারিত হয় প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি দেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেওয়া নবীন নাবিকদের কাছে বাংলাদেশের অপার সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এই সম্ভাবনার সঠিক বিকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি; সকল ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর অপরিসীম গুরুত্ব ও অবদানের কথা ব্যক্ত করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নবীন নাবিকসহ সকল নৌসদস্যকে আরও যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশ সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতেও আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে সার্বিক সহায়তার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। নৌবাহিনী দেশের সব সঙ্কটে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমানভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগামী নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নৌবাহিনী সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে ইনশাআল্লাহ।’

সাফল্যের সঙ্গে বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করায় নবীনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতির কথা তুলে ধরেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি এ সময় বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ সপ্তাহ বুটক্যাম্প ট্রেনিং সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত করে আজকের এই প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে নবীন নাবিকরা দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নৌবাহিনীর ন্যায় একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে কর্মজীবন শুরুর এই সন্ধিক্ষণে আমি তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বিনিয়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের। যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করে আমাদের সকলের মাঝে অমর হয়ে রয়েছেন। আমি তাদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

  • সাফল্যের সঙ্গে বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করায় নবীনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
  • পেশাদার ও দক্ষ নৌবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি
  • ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির অপরিসীম ভূমিকা
  • লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ

পেশাদার ও দক্ষ নৌবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি সঙ্কটময় মুহুর্তে বাঙালি নাবিক ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় নৌ কমান্ডো দল যারা অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে বহুল কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জনে বয়ে আনে অসামান্য সাফল্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় শুধুমাত্র দু’টি টহল জাহাজ পদ্মা ও পলাশ নিয়ে যে নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ তা একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। আমাদের নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন। আর এ কারণেই আমরা একটি প্রফেশনাল ও দক্ষ নৌবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে আমাদের পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’

ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ভূমিকা অপরিসীম
ইতিহাস পর্যালোচনা করে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পৃথিবীর যেসকল দেশ সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে উন্নতির চেষ্টা করেছে তুলনামূলক দ্রুত গতিতে তারা তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের জনবহুল এই দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাই সঙ্গত কারণেই ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ভূমিকা অপরিসীম। স্বাধীনতার পর হতে আমাদের বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিপুল সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘মেরিটাইম গার্ডিয়ান’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক খুলনা শিপইয়ার্ডে আমরা লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এছাড়া নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দু’টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার ও দুটি আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম আমরা ক্রয় করেছি। গভীর সমুদ্রে জরিপ কার্য পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবহরে যুক্ত হবে, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চারটি মাল্টিমিশন ইন্টারসেপ্টর বোট ইতোমধ্যে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ সহায়তার জন্য জাপান থেকে ৫টি পেট্রোল বোট আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।’

লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ
বর্তমানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনটি শিপইয়ার্ডের কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে বলে মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তিনটি ডাইভিং বোট নির্মাণ করেছে, যা ইতোমধ্যে নৌবাহরে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যান্ডিং অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি এলসিটি (ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক) নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি অপারেশনাল কর্মকাণ্ড নিরবচ্ছিন্ন রাখার নিমিত্তে ডিডব্লিউ নারায়ণগঞ্জের একটি ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ওপর সরকার ন্যস্ত করেছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং-এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে গতিশীলতা এসেছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নৌবাহিনীর
নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, নৌ সদস্য ও কন্টিনজেন্ট দায়িত্ব পালন করছে। ১৯৯৩ সাল থেকে এই পর্যন্ত নৌবাহিনীর প্রায় ৭ হাজার ৫০০ সদস্য ফিলিস্তিন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নৌবাহিনীর চারজন সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নৌবাহিনী প্রধান বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে সর্বসাধারণের জানমাল রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা প্রদান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আজকের এই আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর জন্য নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করলেন রিজান মোল্যা
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনীর বি-২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে রিজান মোল্যা পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। এছাড়াও মো. মারুফ হাসান মুন্না দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. হাসান আলী তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ অর্জন করেন। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি