খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

জীবন উৎসর্গের শপথ ৪১৭ নবীন নাবিকের, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহায়তার অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
জীবন উৎসর্গের শপথ ৪১৭ নবীন নাবিকের, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহায়তার অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

বাদ্যের তালে তালে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ। ২২ সপ্তাহের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষের পর গৌরবের অনন্য এক অধ্যায়ে প্রবেশ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৫ ব্যাচের ৪১৭ নবীন নাবিকের পদচারণায় সোমবার (২৪ নভেম্বর) মুখর পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ড। লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়ে তাঁরা যোগ দিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। সন্তানের কুচকাওয়াজ দেখে তখন অনেক অভিভাবকের চোখে জলজমা আনন্দ। বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করা নবীন নাবিকদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অবলোকন করলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

‘শান্তিতে সংগ্রামে, সমুদ্রে দুর্জয়’ এই স্লোগান নিয়ে এই তরুণ নাবিকরা শুধু সমুদ্রসীমাই নয়, আগামী দিনে এক উন্নত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গঠনে রাখবে বলিষ্ঠ ভূমিকা এমন প্রত্যাশার কথাও উচ্চারিত হয় প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তিনি দেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেওয়া নবীন নাবিকদের কাছে বাংলাদেশের অপার সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এই সম্ভাবনার সঠিক বিকাশ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনীতি; সকল ক্ষেত্রে নৌবাহিনীর অপরিসীম গুরুত্ব ও অবদানের কথা ব্যক্ত করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নবীন নাবিকসহ সকল নৌসদস্যকে আরও যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে দেশ সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতেও আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে সার্বিক সহায়তার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। নৌবাহিনী দেশের সব সঙ্কটে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমানভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগামী নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নৌবাহিনী সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে ইনশাআল্লাহ।’

সাফল্যের সঙ্গে বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করায় নবীনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজের আনন্দানুভূতির কথা তুলে ধরেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি এ সময় বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ সপ্তাহ বুটক্যাম্প ট্রেনিং সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত করে আজকের এই প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে নবীন নাবিকরা দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। নৌবাহিনীর ন্যায় একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে কর্মজীবন শুরুর এই সন্ধিক্ষণে আমি তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের বিনিয়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন, শহীদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ও সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের। যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করে আমাদের সকলের মাঝে অমর হয়ে রয়েছেন। আমি তাদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

  • সাফল্যের সঙ্গে বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষ করায় নবীনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
  • পেশাদার ও দক্ষ নৌবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি
  • ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির অপরিসীম ভূমিকা
  • লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ

পেশাদার ও দক্ষ নৌবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি
এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি সঙ্কটময় মুহুর্তে বাঙালি নাবিক ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় নৌ কমান্ডো দল যারা অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে বহুল কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জনে বয়ে আনে অসামান্য সাফল্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় শুধুমাত্র দু’টি টহল জাহাজ পদ্মা ও পলাশ নিয়ে যে নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ তা একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। আমাদের নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন। আর এ কারণেই আমরা একটি প্রফেশনাল ও দক্ষ নৌবাহিনী হিসেবে বিশ্বের বুকে আমাদের পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’

ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ভূমিকা অপরিসীম
ইতিহাস পর্যালোচনা করে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পৃথিবীর যেসকল দেশ সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে উন্নতির চেষ্টা করেছে তুলনামূলক দ্রুত গতিতে তারা তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের জনবহুল এই দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাই সঙ্গত কারণেই ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির ভূমিকা অপরিসীম। স্বাধীনতার পর হতে আমাদের বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিপুল সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘মেরিটাইম গার্ডিয়ান’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক খুলনা শিপইয়ার্ডে আমরা লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এছাড়া নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দু’টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার ও দুটি আনম্যান্ড এরিয়াল সিস্টেম আমরা ক্রয় করেছি। গভীর সমুদ্রে জরিপ কার্য পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্য থেকে একটি হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবহরে যুক্ত হবে, ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চারটি মাল্টিমিশন ইন্টারসেপ্টর বোট ইতোমধ্যে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ সহায়তার জন্য জাপান থেকে ৫টি পেট্রোল বোট আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।’

লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ
বর্তমানে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তিনটি শিপইয়ার্ডের কর্মতৎপরতায় দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে বলে মন্তব্য করেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ডসমূহ লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য তিনটি ডাইভিং বোট নির্মাণ করেছে, যা ইতোমধ্যে নৌবাহরে যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যান্ডিং অপারেশন পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি এলসিটি (ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক) নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি অপারেশনাল কর্মকাণ্ড নিরবচ্ছিন্ন রাখার নিমিত্তে ডিডব্লিউ নারায়ণগঞ্জের একটি ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের ওপর সরকার ন্যস্ত করেছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং-এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে গতিশীলতা এসেছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নৌবাহিনীর
নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, নৌ সদস্য ও কন্টিনজেন্ট দায়িত্ব পালন করছে। ১৯৯৩ সাল থেকে এই পর্যন্ত নৌবাহিনীর প্রায় ৭ হাজার ৫০০ সদস্য ফিলিস্তিন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নৌবাহিনীর চারজন সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নৌবাহিনী প্রধান বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে সর্বসাধারণের জানমাল রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা প্রদান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আজকের এই আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর জন্য নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করলেন রিজান মোল্যা
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নৌবাহিনীর বি-২০২৫ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে রিজান মোল্যা পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। এছাড়াও মো. মারুফ হাসান মুন্না দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং মো. হাসান আলী তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ অর্জন করেন। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসও, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আমি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকে থাকত না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়তে থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলেও ইসরায়েল টিকে থাকত না। কারণ আমি যা করেছি, তা করার সাহস বা ইচ্ছা অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়িত না হলে ইসরায়েল অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।’

সম্প্রতি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তার মতে, বৈরুতে ইসরাইলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো ভালো। তবে লেবানন ইস্যুতে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে আরও সংযমী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিবির (নেতানিয়াহু) সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। কিন্তু এখন লেবাননের বিষয়ে তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একসময় লেবানন ছিল একটি মহান দেশ। সেখানে অসংখ্য অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবী ছিলেন। অনেক মেধাবী মানুষ লেবাননে বাস করতেন। কিন্তু এখন দেশটির অবস্থা খুবই খারাপ।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হামলার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিস্মিত হন। কারণ এর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে আক্রমণ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

ট্রাম্প বলেন, ‘এটি খুবই খারাপ ছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। আমাদের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে এটি ঘটেছে।’

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘বিবিকে কেন এই জঘন্য হামলাটি করতে হলো? আমি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েছি।’

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির অন্যতম শর্ত হবে লেবাননের যেসব এলাকা চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েল দখল করেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার।

আরাঘচির ভাষ্য, ‘যুদ্ধ চলাকালে দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে না যাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’

তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত নেই। এদিকে নেতানিয়াহুও বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরাইল দীর্ঘ সময় লেবাননে অবস্থান করবে।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
জোড়া গোলে দুটি রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে, পেছনে পড়লেন মেসি

পেনাল্টি না পাওয়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই ফ্রান্সকে এগিয়ে নিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তাতে ফ্রান্সের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে অলিভার জিরুদের পাশে বসেন তিনি। ওখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে আরেকটি গোল। তাতে এককভাবে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

এছাড়া বিশ্বকাপে নিজের ১৪তম গোলটি করে সাবেক ফরাসি লিজেন্ড জাস্ট ফন্টেইন ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে গেলেন তারকা স্ট্রাইকার। বলাবাহুল্য, বিশ্বমঞ্চে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি।

আর তিনটি গোল করলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন তিনি। ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা সবার উপরে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় এমবাপে যৌথভাবে তিন নম্বরে। ১৪ গোল করে গার্ড মুলারের পাশে তিনি।

ডি-বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল অলিসের এক দারুণ অ্যাসিস্ট সেনেগালের রক্ষণব্যুহকে ভেঙে দেয়। আর ছয় গজ বক্সের প্রান্ত থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে এদুয়ার মেন্দির পাশ দিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল তার ৫৭তম গোল। তারপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জাদুকরী শটে দ্বিতীয় গোল করেন তিনি

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ২:১৩ পূর্বাহ্ণ
ফ্রান্সের গোলপোস্ট কাঁপিয়ে বিরতিতে সেনেগাল

শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৪ বছর পর মাঠে নামল সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই অঘটনের স্মৃতি অনুপ্রাণিত রেখেছিল তাদের। প্রথমার্ধে তারাই গোল করার সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলো পেয়েছিল। দুর্ভাগ্য যে এগিয়ে যেতে পারল না। প্রথমার্ধ শেষে স্কোর গোলশূন্য।

নিকোলাস জ্যাকসন গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার শট পোস্টে গিয়ে আঘাত করে। এছাড়া প্রথমার্ধের খেলা শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ইসমাইলা সার-ও গোল করার একটি বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেন।

অন্যদিকে ফ্রান্সকে বেশ ক্লান্ত দেখা গেছে। সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করেছে।

গত দুইবারের ফাইনালিস্ট কোনো ধরনের অঘটনে না পড়তে চাইলে দ্বিতীয়ার্ধে নিশ্চিতভাবেই আরও অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি