বিএনসিসিকে আরও যুগোপযোগী করার অঙ্গীকার নৌবাহিনী প্রধানের
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
দেশের যুব সমাজের নৈতিক উন্নতি সাধন এবং তাদের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)। ‘জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও একতা’ এই মূলমন্ত্রকে ধারন করে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়ক শক্তি হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে তৈরি করছে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। সেনা, নৌ ও বিমান-এই তিনটি শাখার ক্যাডেটদের চারিত্রিক, সামরিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলছে নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী।
দেশের যেকোন দুর্যোগে-দুর্বিপাকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহায়তার হাত। জনসচেতনতা তৈরি ও উন্নয়ন কাজে নিজেদের যুক্ত করায় বিএনসিসি’র সামগ্রিক কর্মযজ্ঞে অভিভূত বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের ক্রান্তিকালে দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে বিএনসিসি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) সাভারের বাইপাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অধিদপ্তরের বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং ২০২৫/২৬ এর সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ক্যাডেটদের মনোমুগ্ধকর ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনা উপভোগ করেন।

জানা যায়, ১৯২৩ সালে প্রণীত ইন্ডিয়ান টেরিটোরিয়াল ফোর্সেস অ্যাক্ট এর অধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত বিএনসিসি’র কার্যক্রমের গোড়াপত্তন ঘটে। সেই থেকেই তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান, বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য দ্বিতীয় সারির প্রতিরোধ বাহিনী গঠন এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য স্বেচ্ছাসেবী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর তাঁর কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বিএনসিসি ক্যাডেটসহ সকল শহীদ, আহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্ট এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সকল ছাত্র জনতার আত্মত্যাগকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ক্যাডেটরা দুর্যোগ মোকাবিলা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকটে ও মানবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশের ভবিষ্যতে উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করতে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও আধুনিক চিন্তা ধারার তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে বিএনসিসিকে আরও যুগোপযোগী করা হচ্ছে।’ তিনি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিএনসিসি ক্যাডেটদের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সংস্থার সকল সদস্যকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা এরিয়া কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল মাকসুস, অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ নেভাল স্টাফ (পারসোনেল) রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী, বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array