যুদ্ধের ধাক্কা দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ধাক্কা বেশ ভালো মতোই লাগতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। সবার আগে প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশেই জ্বালানি তেল নিয়ে একরকম তুলকালাম চলছে। দেশে এখনও পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল থাকার পরও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি শুরু হয়েছে। ইরানের হামলার কারণে কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করায় এর প্রভাবও দৃশ্যমান হচ্ছে ক্রমেই।
ইরান হুরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় জ্বালানি পরিবহন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বাংলাদেশের রফতানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে আতঙ্কে আছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। তারা যেমন জীবনের ঝুঁকিতে আছেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্স আহরণও ঝুঁকিতে পড়ছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময় কঠিন সময়, সেটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হলো। এতে অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরও বাড়তে থাকবে।’
অপরদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন দিনদুয়েক আগে বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে, বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নয়।
তিনি বলেন, যেকোনো অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সবসময়ই নীতিগত আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব দেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তার এ সাবধান বাণীও ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি হুরমুজ প্রণালি মার্চের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকে, তা হলে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারেরও বেশি উঠতে পারে, যা রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সত্তর দশকের মতো জ্বালানি শকের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস ঘটাবে। বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশে বছরে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বাড়লে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। আর তা যদি ১৫০ ডলারে উঠে যায়, তা হলে আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array