খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধের ধাক্কা দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধের ধাক্কা দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধের ধাক্কা বেশ ভালো মতোই লাগতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। সবার আগে প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশেই জ্বালানি তেল নিয়ে একরকম তুলকালাম চলছে। দেশে এখনও পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল থাকার পরও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি শুরু হয়েছে। ইরানের হামলার কারণে কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করায় এর প্রভাবও দৃশ্যমান হচ্ছে ক্রমেই।

ইরান হুরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় জ্বালানি পরিবহন যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বাংলাদেশের রফতানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে আতঙ্কে আছে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। তারা যেমন জীবনের ঝুঁকিতে আছেন, তেমনি বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্স আহরণও ঝুঁকিতে পড়ছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময় কঠিন সময়, সেটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হলো। এতে অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই যুদ্ধ যদি চলতে থাকে চাপটা আরও বাড়তে থাকবে।’

অপরদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন দিনদুয়েক আগে বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে, বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নয়।

তিনি বলেন, যেকোনো অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সবসময়ই নীতিগত আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব দেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তার এ সাবধান বাণীও ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি হুরমুজ প্রণালি মার্চের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকে, তা হলে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারেরও বেশি উঠতে পারে, যা রেকর্ড স্তরের কাছাকাছি। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে সত্তর দশকের মতো জ্বালানি শকের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস ঘটাবে। বাংলাদেশের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশে বছরে ছয় থেকে সাত মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার বাড়লে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। আর তা যদি ১৫০ ডলারে উঠে যায়, তা হলে আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের মাথার খুলি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
স্যুপের পাত্রে মিলল মডেলের মাথার খুলি

হংকংয়ের মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাবি চোইকে হত্যা করে দেহ খণ্ডিত করার ঘটনায় ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। এবার সেই হত্যা মামলার বিচার চলাকালে আদালতে উঠে এসেছে আরও ভয়াবহ কিছু তথ্য। প্রসিকিউশনের দাবি, গাজর ও অন্যান্য সবজি দিয়ে রান্না করা স্যুপের একটি বড় পাত্রে পাওয়া গিয়েছিল অ্যাবির মাথার খুলি।

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার অভিযোগ

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ের কাদোরিয়া আবাসিক এলাকায় থাকা একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে অ্যাবি চোইকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে আদালতে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। ২৮ বছর বয়সী অ্যাবি ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন। তিন দিন পর তাই পো এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাবিকে হত্যার পর তার দেহ খণ্ডিত করার জন্য ওই বাসাটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখান থেকে মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক করাতসহ বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করে পুলিশ। বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন অ্যাবির সাবেক শ্বশুর কোয়ং কাউ।

মামলার শুরুতে প্রসিকিউটর শার্লট ড্রেকট স্ক আদালতকে জানান, কোয়ং কাউ তার দুই ছেলেকে নিয়ে অ্যাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ওই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি।

৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলারের সম্পত্তি

আদালতে বলা হয়, ফ্ল্যাটটির মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ হংকং ডলার। ২০১৯ সালে অ্যাবি প্রায় ৬ কোটি হংকং ডলার দিয়ে সেটি কিনেছিলেন। সন্তানদের বাবার পরিবারের দাদা-দাদির কাছে রাখার সুবিধার জন্যই তিনি ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, পরবর্তী সময়ে সম্পত্তিটি নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে অ্যাবি তার সাবেক শ্বশুরকে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। আদালতে বলা হয়, অ্যাবির পরিবার আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল হলেও কোয়ং পরিবার তুলনামূলকভাবে কম সচ্ছল ছিল।

স্যুপের পাত্রে খুলি, ফ্রিজে দুই পা

আদালতে অ্যাবির দেহ উদ্ধারের ঘটনাটিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজর ও অন্যান্য সবজি থাকা একটি বড় পাত্রে অ্যাবির মাথার খুলি পাওয়া যায়। তার দুই পা উদ্ধার করা হয় ওই ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজ থেকে।

আদালতে আরও জানানো হয়, কথিত হত্যার পরিকল্পনায় তিন আসামির আলাদা ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে একটি বাসা ভাড়া নেওয়া এবং অ্যাবিকে গাড়িতে করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ও ছিল বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর রক্তের দাগ এড়াতে অভিযুক্তরা বাসাটির দেয়াল ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল। দেহ খণ্ডিত করার সময় সুরক্ষার জন্য মুখের ঢাল ও রেইনকোট ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়।

অ্যাবির দেহের কিছু অংশ এখনো পাওয়া যায়নি বলে এর আগে জানিয়েছিল পুলিশ। মামলার শুনানি আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।

ফ্যাশন জগতেও পরিচিত ছিলেন অ্যাবি

অ্যাবি চোই ধনী পরিবারে বেড়ে ওঠেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অ্যালেক্স কোয়ংকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের দুই সন্তান ছিল। পরে বিচ্ছেদ হলেও অ্যালেক্সের পরিবারের সদস্যদের আর্থিকভাবে সহায়তা করতেন অ্যাবি।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় সঙ্গীর সঙ্গে তার আরও দুই সন্তান হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নিজের ফ্যাশন শো, ফটোশুট এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ করতেন তিনি। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও প্যারিস ফ্যাশন উইকে ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন অ্যাবি।

তাকে হত্যার পর দেহ খণ্ডিত করার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এখন বিচার চলাকালে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আদালতে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদা, ছবিতে কূটনীতির নতুন দৃশ্য

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের নৈশভোজে তারেক-জুবাইদা, ছবিতে কূটনীতির নতুন দৃশ্য

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে তাঁর ও স্ত্রী জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের ছবি। শনিবার (০৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছবিটি প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী একটি গণমাধ্যমকে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে পাওয়া।

  • ভাষণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে উপস্থিতি
  • বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে ঢাকার নতুন বার্তা

গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বিশ্বনেতা ও তাঁদের স্বামী-স্ত্রীদের সম্মানে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ওই নৈশভোজের আয়োজন করেন। ছবিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ, নজর কূটনৈতিক যোগাযোগে

জাতিসংঘের অধিবেশনকে ঘিরে বিশ্বনেতাদের এমন সমাবেশ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুযোগও তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের একই ছবিতে উপস্থিতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের একটি দৃশ্যমান মুহূর্ত। নৈশভোজটি ছিল বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কূটনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে পুনর্গঠনের বার্তা

গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান তারেক রহমান। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভাষণ। ভাষণে দেশের পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’—এই তিন ভিত্তির ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন তিনি। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। এ জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

মেলানিয়ার আয়োজনে জুবাইদার অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মেলানিয়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্ত্রীদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। সেখানে শিশুদের কল্যাণে তাঁর উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ তুলে ধরা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফলে তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরে একদিকে যেমন উঠে এসেছে দেশের পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান, অন্যদিকে তেমনি দৃশ্যমান হয়েছে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের পরিসর। ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশিত ছবিটি সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে চিড়, হাসপাতালে নুসরাত বারুচা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে চিড়, হাসপাতালে নুসরাত বারুচা

বিদেশের মাটিতে নতুন সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নুসরাত বারুচা। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে শুটিং চলাকালে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। এতে তার মেরুদণ্ডে চিড় ধরেছে বলে জানিয়েছে অভিনেত্রীর পিআর টিম। বর্তমানে বালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য বালিতে গিয়েছিলেন নুসরাত। সেখানে শুটিংয়ের পাশাপাশি কয়েক দিন ছুটি কাটানোরও পরিকল্পনা ছিল তার। নির্ধারিত শুটিং শেষ হওয়ার পর আরও কিছুদিন বালিতে থাকার কথা ছিল অভিনেত্রীর। তবে এর মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার পরপরই নুসরাতকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। প্রথম দিকে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এলেও তার আঘাত কতটা গুরুতর, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরে অভিনেত্রীর পিআর টিমের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

পিআর টিমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নুসরাতের মেরুদণ্ডে চিড় ধরেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বালি থেকে তাকে মুম্বাইয়ে নেওয়া হবে। সেখানে তার মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিদেশে শুটিংয়ে এর আগেও বিপাকে নুসরাত

বিদেশে শুটিং করতে গিয়ে এর আগেও বিপাকে পড়েছিলেন নুসরাত বারুচা। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ইসরায়েলে শুটিং করতে গিয়ে সেখানে আটকা পড়েছিলেন তিনি। পরে শুটিং দলের সঙ্গে নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। সেই ঘটনার পর এবার ফের বিদেশের মাটিতে দুর্ঘটনার শিকার হলেন তিনি।

এদিকে নতুন সিনেমা নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন নুসরাত। হাস্যরস ও রহস্যের মিশেলে নির্মিত সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ। এটি দুই তারকার প্রথম সিনেমা। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, সিনেমাটিতে নুসরাতের চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রটির দৃঢ়তা ও আবেগ—দুই দিকই পর্দায় তুলে ধরা হবে।

সিনেমাটিতে নুসরাত ও টাইগার শ্রফ ছাড়াও অভিনয় করছেন পশমিনা রোশন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এলভিশ যাদবসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, নুসরাত বারুচাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘উফফ ইয়ে সিয়াপ্পা’ সিনেমায়। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন সোহম শাহ। এবার টাইগার শ্রফের সঙ্গে নতুন সিনেমায় জুটি বাঁধতে চলেছেন এই অভিনেত্রী। নতুন সিনেমার কাজের মাঝেই দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় আপাতত তার চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ