খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ- ২১ কর্মকর্তার বিদেশ সফর সংক্রান্ত আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য ও বানোয়াট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ- ২১ কর্মকর্তার বিদেশ সফর সংক্রান্ত আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি অসত্য ও বানোয়াট

দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় আজ প্রকাশিত “বিটিভির ডিজিটাল সম্প্রচার শিখতে তিন দেশে যাচ্ছেন ২১ কর্মকর্তা” শীর্ষক সংবাদটিকে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রকৃত তথ্য গোপন করে এই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর ১৬টি কেন্দ্র ও উপকেন্দ্রে অত্যাধুনিক সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা। প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়নের সময়েই বাস্তবায়ন ও পরিচালনার সাথে সরাসরি জড়িত কর্মকর্তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন’ (PSI) কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এটি করার মূল উদ্দেশ্য হলো যন্ত্রপাতি ক্রয়, সরবরাহ এবং এর যথাযথ পরিচালনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রশিক্ষণ ও প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন সংক্রান্ত সমস্ত ব্যয় ডিপিপির বরাদ্দ থেকে মেটানো হচ্ছে, যার সাথে বর্তমান সরকারের সরাসরি কোনো অতিরিক্ত আর্থিক সংশ্লেষ নেই। চুক্তির শর্তানুযায়ী, এই কার্যক্রমগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্তনযোগ্য এবং এই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। ফলে এই বিদেশ সফরে সরকারের রাজকোষ থেকে নতুন করে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ ভৌত অবকাঠামো এবং ৯৫ শতাংশ আর্থিক ব্যয় সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদটিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। সেখানে প্রকল্পটি ‘পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের’ আমলে গৃহীত বলে উল্লেখ করা হলেও, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সব অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে ইতিপূর্বেই বাতিল করেছে। বর্তমান প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনীয়তা ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবেই চলমান রয়েছে।

অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠ এবং যাচাইকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ পরিবেশনের জন্য ‘আমার দেশ’ পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

কালের আলো/এম/এএইচ

কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে সরকারের নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে সরকারের নতুন উদ্যোগ

চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএম সেন্টারে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারকে সমন্বয় করে পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ ধরে সরকার কাজ করছে। অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা খাতেও জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, শুধু গবেষণার পরিমাণ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে এবং কোথায় অর্থ ব্যয় করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং বাড়াতে তা সহায়ক হবে।

এ সময় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

ডলারের বাজারে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ডলারের বাজারে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দেখা দিয়েছে এক অস্বাভাবিক বৈপরীত্য। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমলেও খোলা বাজারে ঠিক তার উল্টো চিত্র। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে যেখানে প্রতি ডলারের দাম নেমে এসেছে ১২২ টাকায়, সেখানে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। অর্থাৎ ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যে প্রতি ডলারে দামের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই বড় ব্যবধান শুধু বাজারের দুই অংশের ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে না, বরং ডলারের সরবরাহ, চাহিদা এবং বৈদেশিক লেনদেনের প্রবাহ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর আরও পড়ে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজারে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে আবারও ডলার কেনার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বাজার থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন মনে করলে আগের মতো ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত ডলার নিলামের মাধ্যমে কিনতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকে ডলারের ‘জোয়ার’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যায়, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর কমার প্রধান কারণ সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধির ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি বিভিন্ন আমদানি ও কেনাকাটার বিপরীতে ডলারের পরিশোধও তুলনামূলক কম হয়েছে। ফলে একদিকে ডলারের জোগান বেড়েছে, অন্যদিকে চাহিদা কমেছে। স্বাভাবিক বাজারনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে দামে।

গত ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা। দুই সপ্তাহ পর বুধবার তা নেমে এসেছে ১২২ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৮১ পয়সা বা ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে এই পতনকে নিছক ‘টাকার শক্তিশালী হওয়া’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ার পেছনে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি আমদানি ও সরকারি বৈদেশিক পরিশোধের সাময়িক কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অথচ খোলা বাজারে কেন ১২৮ টাকা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। ব্যাংকে ডলারের সরবরাহ বাড়লেও খোলা বাজারে তার উল্টো চিত্র কেন? বুধবার খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। কেনা হয়েছে ১২৮ টাকায়। মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ীর ভাষ্য, খোলা বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে। বিক্রেতা কম, কিন্তু ক্রেতার চাপ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ছে। এর অর্থ হলো, দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে এখন একক একটি বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে যে ডলার প্রবাহিত হচ্ছে, তার সবটা খোলা বাজারে যাচ্ছে না। আবার খোলা বাজারে যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটিও আন্তঃব্যাংক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সরাসরি মিলে যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও মনে করেন, আন্তঃব্যাংক বাজারের সঙ্গে খোলা বাজারের দর সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ খোলা বাজারে ডলারের দাম ব্যবসায়ীদের নিজস্ব চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

বড় ব্যবধানের অর্থ কী?
দুই বাজারে ডলারের দামের ব্যবধান যত বাড়ে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তত বেশি বিকৃতির ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যাংকে ১২২ টাকায় পাওয়া ডলার খোলা বাজারে প্রায় ১২৮ টাকা—এই ব্যবধান বাজারে মধ্যস্থতাকারী ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের জন্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। আর এখানেই রেমিট্যান্সের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীরা সাধারণত বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যে বিনিময় হার পান, সেটি যদি খোলা বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়, তাহলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আকর্ষণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইভাবে রপ্তানিকারকরাও তাদের রপ্তানি আয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা পেলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও স্বীকার করেছেন, ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখন কঠিন ভারসাম্য
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য পরিস্থিতিটি তাই কিছুটা ‘দুই দিকের চাপ’-এর মতো। একদিকে রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে ডলারের দাম কমছে এবং টাকার মূল্য তুলনামূলক শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই জায়গাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সবশেষ গত ৮ জুন ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১ কোটি ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কোনো ডলার কেনেনি। এখন বাজারে আবার ডলার কেনা হলে এর মূল উদ্দেশ্য হবে শুধু রিজার্ভ বাড়ানো নয়; বরং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করে ডলারের দরকে একটি সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখা।

ডলারের দরপতন কি টাকার শক্তি, নাকি সাময়িক ভারসাম্য?
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আন্তঃব্যাংক বাজারে ১২২ টাকার ডলার কি নতুন স্থায়ী বাস্তবতা, নাকি এটি সাময়িক সরবরাহজনিত পতন? বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ৩০ জুন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট, এই হার ছিল ১২১ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে টাকার মূল্য খুব বেশি শক্তিশালী হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ সীমিত। বরং সাম্প্রতিক দরপতনকে রেমিট্যান্সের বাড়তি প্রবাহ, আমদানি ও সরকারি পরিশোধের সাময়িক পরিবর্তন এবং বাজারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যের ফল হিসেবে দেখাই বেশি যৌক্তিক।

ব্যাংক বনাম খোলা বাজার—দুই দামের বার্তা
বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সায় এবং কিনেছে ১২২ টাকা ৫০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকায়। জনতা ব্যাংক স্পট মার্কেটে বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় এবং কিনেছে ১২২ টাকা ৬০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রির দর ছিল ১২৪ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করেছে ১২২ টাকা ৭২ পয়সায় এবং কিনেছে ১২১ টাকা ৭২ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৫ টাকা ২৫ পয়সায়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর নগদ ও স্পট বাজারের মধ্যেও কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যবধানটি তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং চ্যানেল এবং খোলা বাজারের মধ্যে।

এখন নজর তিন জায়গায়
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে তিনটি সূচকের দিকে নজর থাকবে—রেমিট্যান্সের প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার নীতি। রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আবার আমদানি চাহিদা বাড়লে সেই অতিরিক্ত ডলার দ্রুত শোষিতও হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করলে সরবরাহের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে চলে যাবে এবং বাজারে ডলারের অতিরিক্ত চাপ কমবে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে একটি নতুন বৈপরীত্য সামনে এনেছে—ব্যাংকে ডলার যত সস্তা হচ্ছে, খোলা বাজারে ততই দাম বাড়ছে। এই দুই বাজারের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত কতটা কমানো যায়, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। কারণ ডলারের দাম শুধু একটি মুদ্রার বিনিময় হার নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে প্রবাসী আয়, রপ্তানি, আমদানি ব্যয়, রিজার্ভ এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতিশীলতা।

কালের আলো/এম/এএইচ

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

বঙ্গভবনে যাওয়ার আগেই রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।

রাজনীতির দীর্ঘ পথ চলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কবরে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন।

তবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ভিন্ন আবহে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে তার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যে কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর কড়াকড়ি ছিল।

এই সময়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী সঙ্গে ছিলেন।

কবর জিয়ারতের সময় সমাধি প্রাঙ্গণের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে থেকে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি আসেন শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে সুরা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে মোট ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন তিনি। এই বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার আগেই বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব তার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ