খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস: ‘লুটপাটকারীদের’ মালিকানায় ফেরার সুযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস: ‘লুটপাটকারীদের’ মালিকানায় ফেরার সুযোগ!

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ’ এখন সংসদে পাস হয়ে স্থায়ী আইনে পরিণত হয়েছে। তবে, এই আইনে নতুন একটি ধারা যুক্ত হওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

নতুন এই বিধান অনুযায়ী, একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক শেয়ারহোল্ডার বা মালিকরা চাইলে আবারও সেই ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ পাবেন। এতে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, যাদের অনিয়ম আর লুটপাটের কারণে একসময় ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিল, এই আইনের ফলে সেই বিতর্কিত মালিকরাই আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আসার আইনি পথ পেয়ে গেলেন।

সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হলো, মালিকানা ফিরে পেতে সাবেক মালিকদের পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের সংকট কাটাতে যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, তার মাত্র ৭.৫ শতাংশ জমা দিয়েই তারা পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শিথিল শর্তের ফলে নামমাত্র অর্থ খরচ করেই পুরোনো অনিয়মকারীদের জন্য ব্যাংকের দরজা আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

পাস হওয়া নতুন বিলের ১৮ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার ধারক অথবা শেয়ার ধারকেরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজোল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবেন। তবে, শেয়ার পুনরায় ধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

যেসব অঙ্গীকার করতে হবে তার মধ্যে আছে— ক. রেজোল্যুশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনায় ইচ্ছা প্রকাশ। খ. বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন জোগান ও বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। গ. সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধা সরকারি উৎস থেকে দেওয়া ঋণ, ঋণের সুদ অথবা মুনাফা, ইকুইটি, গ্যারান্টি, সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া। ঘ. একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি ও দায়সমূহ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা। ঙ. সরকারের সব কর এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ও অন্যান্য আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা।

এই ধারার উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুরের তিন মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণ বা ধারণের বাস্তবিক দখল হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশের পে-অর্ডার দিতে হবে।

উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দেবে।

অধ্যাদেশের মূল কাঠামোর বেশিরভাগ অংশই কোনো পরিবর্তন ছাড়াই নতুন বিলে পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোল্যুশন কর্তৃত্ব, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক, সরকারি সহায়তা, রেজোল্যুশন তহবিল, অবসায়ন ও দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই আইনের কারণে আগের মালিকেরা খুব সহজেই আবার ব্যাংকের মালিক হতে পারবেন। কারণ, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক যে মোট টাকা দিয়েছে, তার মাত্র ৭.৫ শতাংশ জমা দিলেই তারা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। আর আমাদের দেশে একবার কেউ মালিকানা পেলে পরে তাকে সরানো কঠিন হয়।

শুরুর দিকে বিরোধী দল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনটি পাসে রাজি ছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি ভালোভাবে দেখার জন্য একটি কমিটি করা হয়। গত ১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছিলেন।

আগের অধ্যাদেশে ৯৮টি ধারা ছিল, যা কমিয়ে ৭৪টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কম গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি ধারা বাদ দিয়ে পরে আলাদা নিয়মে রাখার কথা বলা হয়, যাতে আইনটি সহজ হয়। এছাড়া, কিছু ভুল-ত্রুটি ঠিক করে সংশোধিত খসড়া সরকারকে দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সবচেয়ে বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারাটি আগে ছিল না; সংসদে তোলার আগেই এটি নতুন করে যোগ করা হয়েছে।

কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, কমিটি গঠনের পর থেকে একটি পক্ষ এই ধরনের ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। তবে, অধিকাংশ সদস্য এতে আপত্তি জানান, তাই চূড়ান্ত খসড়ায় এটি রাখা হয়নি। কিন্তু বিল পাসের ঠিক আগে, ৯ এপ্রিল রাতে এই ধারা যুক্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারে। পরের দিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়কে এটি না করার অনুরোধ জানায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, যদি নতুন এই ধারাটি যোগ করতেই হতো, তবে সেখানে আরও কঠোর শর্ত থাকা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যাদের কারণে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়েছে, তাদের মালিকানায় ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ রাখার প্রস্তাব ছিল তাদের। পাশাপাশি মালিকানা ফিরে পাওয়ার আগে আমানতকারীর টাকা, সরকারি সহায়তা এবং অন্যান্য সব দেনা পুরোপুরি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কঠোর শর্তগুলো রাখা হয়নি; বরং কেবল দায় পরিশোধের একটি প্রতিশ্রুতি (অঙ্গীকারনামা) দিয়েই আগের শেয়ার ফেরত পাওয়ার সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিতর্কিত ধারাটি ছাড়া বাকি অংশে আগের অধ্যাদেশের মূল কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রেখেই আইনটি পাস করা হয়েছে। আইনে বাংলাদেশ ব্যাংককে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক সামাল দিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করা, ব্যাংকের মূলধন বাড়ানো, সম্পদ ও দায় অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা, অস্থায়ীভাবে ‘ব্রিজ ব্যাংক’ গঠন করা এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা। এছাড়া, একটি আলাদা রেজোল্যুশন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কোনো ব্যাংক বন্ধ (অবসায়ন) করে দেওয়া এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী— এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো এবং বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।

ব্যাংক একীভূত করার এই উদ্যোগ শুরুর পর থেকেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে, সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকার সেসব বিতর্ককে ছাপিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসে। গত বছরের নভেম্বরে প্রশাসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর আমানত বীমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৮৮, অবৈধ জাল জব্দ

দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। গত সাত দিনে নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নৌ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সাত দিনের অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া ও ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, তিনটি বালুমহাল, তিনটি মাদক, তিনটি চাঁদাবাজি, দুটি ডাকাতি, একটি চুরি এবং চারটি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জব্দ করা অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের পোনা পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

কালের আলো/এসএকে