খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস: ‘লুটপাটকারীদের’ মালিকানায় ফেরার সুযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস: ‘লুটপাটকারীদের’ মালিকানায় ফেরার সুযোগ!

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ’ এখন সংসদে পাস হয়ে স্থায়ী আইনে পরিণত হয়েছে। তবে, এই আইনে নতুন একটি ধারা যুক্ত হওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

নতুন এই বিধান অনুযায়ী, একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক শেয়ারহোল্ডার বা মালিকরা চাইলে আবারও সেই ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ পাবেন। এতে সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, যাদের অনিয়ম আর লুটপাটের কারণে একসময় ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিল, এই আইনের ফলে সেই বিতর্কিত মালিকরাই আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আসার আইনি পথ পেয়ে গেলেন।

সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হলো, মালিকানা ফিরে পেতে সাবেক মালিকদের পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের সংকট কাটাতে যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, তার মাত্র ৭.৫ শতাংশ জমা দিয়েই তারা পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শিথিল শর্তের ফলে নামমাত্র অর্থ খরচ করেই পুরোনো অনিয়মকারীদের জন্য ব্যাংকের দরজা আবারও উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

পাস হওয়া নতুন বিলের ১৮ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার ধারক অথবা শেয়ার ধারকেরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজোল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবেন। তবে, শেয়ার পুনরায় ধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

যেসব অঙ্গীকার করতে হবে তার মধ্যে আছে— ক. রেজোল্যুশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনায় ইচ্ছা প্রকাশ। খ. বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন জোগান ও বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। গ. সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধা সরকারি উৎস থেকে দেওয়া ঋণ, ঋণের সুদ অথবা মুনাফা, ইকুইটি, গ্যারান্টি, সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া। ঘ. একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি ও দায়সমূহ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা। ঙ. সরকারের সব কর এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ও অন্যান্য আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা।

এই ধারার উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুরের তিন মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনরায় ধারণ বা ধারণের বাস্তবিক দখল হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশের পে-অর্ডার দিতে হবে।

উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দেবে।

অধ্যাদেশের মূল কাঠামোর বেশিরভাগ অংশই কোনো পরিবর্তন ছাড়াই নতুন বিলে পাস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোল্যুশন কর্তৃত্ব, প্রশাসক নিয়োগ, মূলধন বৃদ্ধি, তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ ও দায় হস্তান্তর, ব্রিজ ব্যাংক, সরকারি সহায়তা, রেজোল্যুশন তহবিল, অবসায়ন ও দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই আইনের কারণে আগের মালিকেরা খুব সহজেই আবার ব্যাংকের মালিক হতে পারবেন। কারণ, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক যে মোট টাকা দিয়েছে, তার মাত্র ৭.৫ শতাংশ জমা দিলেই তারা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। আর আমাদের দেশে একবার কেউ মালিকানা পেলে পরে তাকে সরানো কঠিন হয়।

শুরুর দিকে বিরোধী দল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনটি পাসে রাজি ছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি ভালোভাবে দেখার জন্য একটি কমিটি করা হয়। গত ১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছিলেন।

আগের অধ্যাদেশে ৯৮টি ধারা ছিল, যা কমিয়ে ৭৪টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কম গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি ধারা বাদ দিয়ে পরে আলাদা নিয়মে রাখার কথা বলা হয়, যাতে আইনটি সহজ হয়। এছাড়া, কিছু ভুল-ত্রুটি ঠিক করে সংশোধিত খসড়া সরকারকে দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, সবচেয়ে বিতর্কিত ১৮ (ক) ধারাটি আগে ছিল না; সংসদে তোলার আগেই এটি নতুন করে যোগ করা হয়েছে।

কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, কমিটি গঠনের পর থেকে একটি পক্ষ এই ধরনের ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়। তবে, অধিকাংশ সদস্য এতে আপত্তি জানান, তাই চূড়ান্ত খসড়ায় এটি রাখা হয়নি। কিন্তু বিল পাসের ঠিক আগে, ৯ এপ্রিল রাতে এই ধারা যুক্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারে। পরের দিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়কে এটি না করার অনুরোধ জানায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, যদি নতুন এই ধারাটি যোগ করতেই হতো, তবে সেখানে আরও কঠোর শর্ত থাকা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যাদের কারণে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়েছে, তাদের মালিকানায় ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ রাখার প্রস্তাব ছিল তাদের। পাশাপাশি মালিকানা ফিরে পাওয়ার আগে আমানতকারীর টাকা, সরকারি সহায়তা এবং অন্যান্য সব দেনা পুরোপুরি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কঠোর শর্তগুলো রাখা হয়নি; বরং কেবল দায় পরিশোধের একটি প্রতিশ্রুতি (অঙ্গীকারনামা) দিয়েই আগের শেয়ার ফেরত পাওয়ার সুযোগ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিতর্কিত ধারাটি ছাড়া বাকি অংশে আগের অধ্যাদেশের মূল কাঠামো প্রায় অপরিবর্তিত রেখেই আইনটি পাস করা হয়েছে। আইনে বাংলাদেশ ব্যাংককে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক সামাল দিতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করা, ব্যাংকের মূলধন বাড়ানো, সম্পদ ও দায় অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা, অস্থায়ীভাবে ‘ব্রিজ ব্যাংক’ গঠন করা এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা। এছাড়া, একটি আলাদা রেজোল্যুশন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কোনো ব্যাংক বন্ধ (অবসায়ন) করে দেওয়া এবং এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী— এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো এবং বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।

ব্যাংক একীভূত করার এই উদ্যোগ শুরুর পর থেকেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে, সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকার সেসব বিতর্ককে ছাপিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নিয়ে আসে। গত বছরের নভেম্বরে প্রশাসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হবে। এছাড়া, প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর আমানত বীমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

বেনজীর গ্রেফতার, পরীমনি কেন আনন্দিত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
বেনজীর গ্রেফতার, পরীমনি কেন আনন্দিত

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী পরীমনিও।

রোববার (১৪ জুন) পরীমনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের খবর সংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে মাত্র একটি শব্দ লিখেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টের ক্যাপশনে পরীমনি লিখেছেন, ‘মজা।’ এমন খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

কেন? ধারণা করা হচ্ছে বোটক্লাব সম্পৃক্ত মামলায় বেনজীর আহমেদের যোগ রয়েছে। সাবেক এই পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে প্রায় এক দশক অবৈধভাবে ক্লাবের সভাপতির পদ দখল করে ৩২ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরীমনির নামে মামলা ও তার কারাবাসের পেছনেও তার হাত রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

তবে বোটক্লাবের তৎকালীন সভাপতি নাসির মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, সাবেক আইজিপি ও ঢাকা বোটক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদের সঙ্গে অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই সময় তিনি জানান, বেনজীর অবৈধভাবে বিনাভোটে বোটক্লাবের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপনসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে। এর আগে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন আদালত।

তবে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কিংবা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উনি বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, এই ধরনের হীন বক্তব্য অমার্জনীয় অপরাধ : সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
উনি বর্ণবাদী আচরণ করেছেন, এই ধরনের হীন বক্তব্য অমার্জনীয় অপরাধ : সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ এবং নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ অধিবেশন। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া এমন বক্তব্যকে অমার্জনীয় অপরাধ ও বর্ণবাদী আচরণ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তবে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও নিয়মকানুন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় মনিরুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন বিরোধীদলীয় হুইপ। স্পিকারের কাছে দুই মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, মনিরুল হক চৌধুরী বিভিন্ন সময় সংসদে সূক্ষ্ম রসবোধ ও ইতিহাস চেতনা নিয়ে বক্তব্য দিলেও আজকের বক্তব্যে তিনি সমস্ত সংসদীয় রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি প্রথমত বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত ইতিহাসের দোহাই দিয়ে কটাক্ষ করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, তিনি বিরোধী দলের নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কথা বলে তাদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ করেছেন। এই ধরনের বক্তব্যকে হীন মানসিকতা ও বর্ণবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সদস্য যেন পবিত্র সংসদে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের সেই বিতর্কিত ও সংসদীয় রীতিনীতি বহির্ভূত অংশটুকু ইতোমধ্যে এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্পিকার সংসদে উপস্থিত সব সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে একটি রুলিং জারি করে বলেন, সংসদে বসে কেউ কারো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না এবং সবাইকে সংসদের মর্যাদা ও নিজস্ব ডিগনিটি বজায় রাখতে হবে। এরপর স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীকে ৩০২ ধারায় একটি নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তা বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

ঠিক এই সময়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এবং পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি স্পিকারের কাছে দুই মিনিট সময় চেয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তি দেখান, সংসদে পক্ষ-বিপক্ষে অনেক সময় হাসি-ঠাট্টা ও রসাত্মক আলোচনা হয়েই থাকে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি গত পরশুদিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দেওয়া বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে যদি এক্সপাঞ্জ করার মতো কিছু না ঘটে, তবে মনিরুল হক চৌধুরীর এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি দাবি করেন, মনিরুল হক চৌধুরী নির্দিষ্ট করে কাউকে আঘাত করে কোনো কথা বলেননি।

এসময় স্পিকার সরাসরি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, সংসদের সভাপতি বা স্পিকারের আসন থেকে যখন একবার এক্সপাঞ্জ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তখন সেটা নিয়ে নতুন করে জাস্টিফাই করার কোনো সুযোগ নেই। স্পিকার তাকে অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলতে অথবা নিজের আসনে বসে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি স্পিকারের কাছে এক মিনিট সময় চেয়ে কথা বলেন। চিফ হুইপ যুক্তি দেন, সংসদে প্রতিটি সদস্যের নিজস্ব অধিকার রয়েছে। ২৭৪ বিধি অনুযায়ী কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা নাম উল্লেখ করে কথা বলা হলে, তার ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দেওয়ার অধিকার থাকে। যেহেতু মনিরুল হক চৌধুরীর নাম জড়িয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই চিফ হুইপ স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান যেন মনিরুল হক চৌধুরীকে তার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য মাইক দেওয়া হোক।

চিফ হুইপের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং জানান যে তিনি যথাসময়ে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেবেন। এরপর স্পিকার সংসদ সদস্যদের এই বিতর্কিত বিষয়টি বন্ধ করে মূল বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

কালের আলো/এসএকে

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

ময়মনসিংহে হাসপাতালে সাদিয়া আফরিন সামি (২৫) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। ঘটনার পর থেকে স্বামী মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এই ঘটনা ঘটে। সাদিয়া আফরিন সামি সদর উপজেলার বোরর চর ইউনিয়নের বাড়তিপাড়া এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী।

মাদিয়া আফরিন সামির দুলাভাই সাগর বলেন, গতকাল রাত ৯টার দিকে মেহেদী হাসানের ভাই আমাকে ফোন করে জানায়, আপনার শ্যালিকা স্ট্রোক করছে। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ কথা বলেই সে ফোন কেটে দেয়। পরে আমরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে সাদিয়া আফরিন সামির মরদেহ দেখতে পারি।

তবে, তার স্বামী মেহেদী হাসান ও তার পরিবারের লোকজন কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা সাদিয়া আফরিন সামির মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালে মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে পুলিশ মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।

তিনি আরও বলেন, আনুমামিক ৬ বছর আগে মেহেদীর সাথে পারিবারিকভাবে সাদিয়া আফরিন সামির বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেহেদী প্রায় আমার শ্যালিকাকে বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলতেন। এসব নিয়ে তাদের পরিবারে কলহ লেগেই থাকত। টাকার জন্য আমার শ্যালিকাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ওই নারী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। শরীরে কোন আঘাতের চিন্ত নেই। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি