খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আইপিওর অর্থে পুনঃতফসিল করা ঋণ পরিশোধের সুযোগ চায় অংশীজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
আইপিওর অর্থে পুনঃতফসিল করা ঋণ পরিশোধের সুযোগ চায় অংশীজনরা

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পুনঃতফসিল করা ঋণ (যা নিয়মিত রয়েছে) পরিশোধের সুযোগ দিতে দাবি জানিয়েছেন শেয়ারবাজারে বিভিন্ন অংশীজনরা। একইসঙ্গে আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিএসইসি মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত ইস্যুকারীর ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগের জন্য আইপিও’র অর্থ ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা শীর্ষক এক বৈঠকে অংশীজনরা এই দাবি জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। এসময় বিএসইসি কমিশনার মোহসিন চৌধুরী, আলী আকবর, মো. সাইফুদ্দিন এবং পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানসমূহের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের অধীনে আইপিও আবেদন, লিস্টিং এবং আইপিও’র অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় অংশীজনদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সভায় পুনঃতফসিল করা ঋণ যা নিয়মিত রয়েছে, সেটিকেও আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সভায় বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পুঁজিবাজারের সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ আরও অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজারের আইপিও’র অর্থ ব্যবহারে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা নেই। যেমনটা আমাদের পুঁজিবাজারে রয়েছে। এক্ষেত্রে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনা করে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, যে উদ্দেশ্যে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার করা হবে তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা এবং সত্যিকার অর্থে কোম্পানি বা প্রজেক্টের জন্য লাভজনক হচ্ছে কিনা তা বিবেচনায় আনা উচিত। দেশের অনেক বৃহৎ ও স্বনামধন্য গ্রুপেরও অনেক উচ্চাভিলাসী প্রজেক্ট রয়েছে; শুধু গ্রুপের সুনাম বিবেচনায় নিয়ে এমন উচ্চাভিলাসী প্রজেক্টের ঋণ পরিশোধে আইপিও’র অর্থ ব্যবহার যথাযথ হবে না।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস্ (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, গ্লোবাল মার্কেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী ও উন্নত ক্যাপিটাল মার্কেট (পুঁজিবাজার) সত্যিই কার্যকর সমাধান। তিনি বাংলাদেশেও পুঁজিবাজারের যথাযথ উন্নয়ন ও বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, উৎপাদনশীল বা সম্প্রসারণের কাজের জন্য নেওয়া ঋণকে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধ করে ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং করার সুযোগ থাকা উচিত। দেশের অর্থনীতি এবং নানা সংকট বিবেচনায় দুই এর অধিক বার পুনঃতফসিল করা নয় এমন ঋণকেও বিভিন্ন ‘কন্ট্রোল মেকানিজম’ বহাল রেখে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ভালো কোম্পানিও বৈশ্বিক নানা সংকট ও সমস্যার কারণে লসে থাকতে পারে এবং তারও পুনঃতফসিল করা ঋণ থাকতে পারে। কিন্তু সংকটের সময় তার এধরনের ঋণগুলোকে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে পারা উচিত। শুধুমাত্র আইডিয়াল সিচুয়েশন বিবেচনায় কঠোর নীতি অনুসরণ করলেই হবে না; পরিস্থিতি বিবেচনায় নমনীয়ও হওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় পুনঃতফসিল করা ঋণকেও আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির জন্য বেনিফিশিয়াল হলে আইপিও মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে শুধু ডিসক্লোজার বা কমপ্লায়েন্স বেজড না থেকে যাচাই-বাছাই করে কাজ করতে হবে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান, দেশে শর্ট টার্ম ডিপোজিট দিয়ে লং টার্মের অর্থায়ন করা হচ্ছে। এটি নিরুৎসাহিত করে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে পলিসি ও রুলস এ সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

এছাড়া সভায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ইফতেখার আলম, সেক্রেটারি জেনারেল সুমিত পোদ্দার, ট্রেজারার সৈয়দ রাশেদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিনুল হক, ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাফিজ আল তারেক, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেল হক একং বিএসইসির নির্বাহী পরিচালকরা, পরিচালকরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার কারাকাসের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ‘ফোরশক’ বা পূর্বকম্প এবং দ্বিতীয়টি ছিল মূল কম্পন বা ‘মেইনশক’।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাত নামার পর রাজধানী কারাকাসে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি কর্মীরা। স্বজনেরা আটকা পড়া প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধার করা কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কারাকাসের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নামলাম, দৃশ্যটা ছিল একটি ভৌতিক সিনেমার মতো। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক তার শিশুসন্তানকে নিয়ে এবং অন্য প্রতিবেশীরা নিচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু আমি শুধু একটি পরিবারকে ওই ভবন থেকে বের হতে দেখেছি।’

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য, যেখানে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি।’

ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে এবং ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর তৈরি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন