খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতসহ ২১ প্রস্তাব ইআরএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পাচারকৃত অর্থ ফেরতসহ ২১ প্রস্তাব ইআরএফের

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর নেট সম্প্রসারণ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ২১ দফা প্রাক-বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট দৌলত আক্তার মালা।

প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমানসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ইআরএফের সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

বাজেট প্রস্তাবে ইআরএফ বলেছে, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা জরুরি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সরকারি ব্যয় সংকোচন যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা জোরদার, সরবরাহ চেইনে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে লাভের সীমা নির্ধারণ করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ওপেন মার্কেট সেল কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও ভর্তুকির চাপে সরকারের পরিচালনা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, অথচ উন্নয়ন ব্যয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। তাই পরিচালনা খাতে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করে নতুন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য খাতে মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে উচ্চমানের হাসপাতাল স্থাপন এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর সুপারিশ করেছে ইআরএফ। সংগঠনটি জানায়, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজ খরচে বহন করতে হয়, যা অনেককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা ও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

এছাড়া সরকার ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচির স্পষ্ট রূপরেখা বাজেটে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ইআরএফ বলেছে, কোন খাতে কী ধরনের সংস্কার হবে এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব কী? তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি ও যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসার, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং মিড-লেভেল ম্যানেজমেন্টে দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানো, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রাজস্ব নীতিতে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি শুল্ক কমানোর কথাও বলা হয়।

এসএমই খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সহায়ক আর্থিক ও রাজস্ব নীতি প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

লুটেরাদের ফেরাতে আইন বদল ঝুঁকিতে ব্যাংক খাত
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, ট্রান্সফার প্রাইসিং আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুপারিশ করেছে ইআরএফ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ এবং বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

মেধা ও দক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ক্লাস্টার সিস্টেম চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নে পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে কর নেট সম্প্রসারণ, প্যাকেজ ভ্যাট পুনর্বহাল, কর ছাড়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডাটাবেজের সঙ্গে ব্যাংকিং তথ্য সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণের কর হার কম রাখা, সঞ্চয়ে উৎসাহ প্রদান এবং কর ফেরত সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া বাজেট ঘোষণার সময় পরিবর্তন করে দিনের প্রথম ভাগে আনা, নীতির প্রভাব বিশ্লেষণে গবেষণা জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার কারাকাসের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ‘ফোরশক’ বা পূর্বকম্প এবং দ্বিতীয়টি ছিল মূল কম্পন বা ‘মেইনশক’।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাত নামার পর রাজধানী কারাকাসে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি কর্মীরা। স্বজনেরা আটকা পড়া প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধার করা কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কারাকাসের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নামলাম, দৃশ্যটা ছিল একটি ভৌতিক সিনেমার মতো। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক তার শিশুসন্তানকে নিয়ে এবং অন্য প্রতিবেশীরা নিচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু আমি শুধু একটি পরিবারকে ওই ভবন থেকে বের হতে দেখেছি।’

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য, যেখানে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি।’

ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে এবং ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর তৈরি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন