খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পেছালে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বৈশ্বিক প্রস্তুতি জোরদার হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পেছালে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বৈশ্বিক প্রস্তুতি জোরদার হবে

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের ওষুধ শিল্প নতুন গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে খাতটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সম্পর্কিত মেধাস্বত্ব অধিকার চুক্তির (ট্রিপস) আওতায় পাওয়া বিশেষ সুবিধার কারণে স্থানীয় উৎপাদনকারীরা পেটেন্টকৃত ওষুধের সাশ্রয়ী জেনেরিক সংস্করণ তৈরি করতে পারায় এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। তবে সরকার এ সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত এই সময় মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, সময় বাড়ানো হলে ওষুধ শিল্প ট্রিপস সুবিধা প্রত্যাহারের পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে ধীরে ধীরে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে বাজারে সাশ্রয়ী ওষুধের সরবরাহও বজায় থাকবে।

এই রূপান্তরকালীন সময়ে কোম্পানিগুলো উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত করতে পারবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএস এফডিএ), ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস (হু-জিএমপি)-এর মতো কঠোর বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে পারলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। এই অতিরিক্ত তিন বছর প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগত মান নিশ্চিতকরণ শক্তিশালী করতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেতে এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বাজারগুলোতে প্রবেশাধিকার বাড়াতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে দেশের মোট ওষুধ চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা হয়। এ ছাড়া ১৫০টির বেশি দেশে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও নীতিসহায়তা থাকলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)-এর নেতারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ধাপে ধাপে উত্তরণ প্রক্রিয়া শিল্পের প্রবৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য- উভয় স্বার্থই রক্ষা করবে।

এক সাক্ষাৎকারে বিএপিআই ও এপিআইআইপিএসএল-এর সিইও মেজর জেনারেল (অব.) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত এই সময় কোম্পানিগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বায়োটেকনোলজি, অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) উৎপাদন এবং ক্লিনিক্যাল গবেষণা অবকাঠামোর বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, এ সময়সীমা বাড়ানো এপিআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এগিয়ে নিতে অত্যন্ত জরুরি। এতে কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা ও উন্নয়নে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, জেনেরিক-নির্ভর মডেল থেকে উদ্ভাবন ও উচ্চমূল্যের পণ্যনির্ভর মডেলে যেতে এ সেতুবন্ধন অপরিহার্য।

তারা বলেন, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বড় মাইলফলক হলেও ওষুধ শিল্পের সাফল্য ধরে রাখতে সুশৃঙ্খল রূপান্তর জরুরি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত তিন বছরের স্থগিতাদেশ একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এটি শিল্পকে স্থিতিশীলতা গড়তে, উদ্ভাবন বাড়াতে এবং বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সুযোগ দেবে।

তিনি বলেন, সরকার, শিল্পখাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প এলডিসি-পরবর্তী উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংযুক্তির সুযোগে পরিণত করতে পারবে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রমাণ। তবে সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘এই স্থগিতাদেশ কোনো পিছুটান নয়, বরং টেকসই অগ্রগতির পথে একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ। স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের সমন্বয় করতে পারলে বাংলাদেশ এ উত্তরণকে সুযোগে পরিণত করতে পারবে। তখন দেশ শুধু উত্তীর্ণ অর্থনীতি নয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক ও সহনশীল অর্থনীতি হিসেবেও আবির্ভূত হবে।’

‘এলডিসি উত্তরণ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ পেটেন্ট অধিকার, পেটেন্ট ফি পরিশোধ, মূল্য সংযোজন শর্ত এবং নন-জেনেরিক ওষুধের বাড়তি উৎপাদন ব্যয়সহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

এ ছাড়া সম্ভাবনাময় রপ্তানি বাজারে প্রবেশ আরও কঠিন হবে, যদি পণ্যের মান নিশ্চিত করা না যায় এবং এপিআই ও গবেষণায় বিনিয়োগ না বাড়ে। দেশীয় বাজারেও পেটেন্ট ফি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ওষুধের দাম বাড়তে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত বিকাশমান ওষুধ শিল্পে সহজ উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানি গন্তব্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিসহায়তা দিতে হবে।

সব ধরনের ইউটিলিটিসহ এপিআই পার্ক পুরোপুরি চালু হলে এটি বড় ধরনের মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হবে। একইসঙ্গে এপিআই, মলিকিউল উৎপাদন, গবেষণা ও বায়ো-ইকুইভ্যালেন্স পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

উত্তরণের আগে দেশীয় শিল্পে উদ্ভাবিত বা সুপরিচিত মলিকিউলগুলোকে পাবলিক ডোমেইনে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে পরবর্তীতে পেটেন্ট ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব কমে।

এ ছাড়া বায়োসিমিলার ও বায়োটেক পণ্যের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সহজ করতে কন্ট্রাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশনসের (সিআরও) সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে মেধাস্বত্ব আইন, পেটেন্ট আইন, রাসায়নিক সংশ্লেষণ, পেটেন্ট পরীক্ষণ, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ তৈরিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

বায়োইকুইভ্যালেন্স (বিই) টেস্ট ও স্টাডি সেন্টারের জন্য যোগ্য সিআরও গড়ে তোলা এবং প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করাও জরুরি।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ভারতের নিপার ও সিডিআরআই-এর মতো প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং এপিআই খাতে নতুন বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) জন্য নিয়ন্ত্রক শর্ত সহজ করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এসএকে

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার কারাকাসের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ছিল ‘ফোরশক’ বা পূর্বকম্প এবং দ্বিতীয়টি ছিল মূল কম্পন বা ‘মেইনশক’।

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ প্রথমে ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন। পরে তিনি হতাহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাত নামার পর রাজধানী কারাকাসে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালান জরুরি কর্মীরা। স্বজনেরা আটকা পড়া প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধার করা কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

কারাকাসের বাসিন্দা মারিয়া আলেজান্দ্রা বলেন, ‘আমরা যখন নিচে নামলাম, দৃশ্যটা ছিল একটি ভৌতিক সিনেমার মতো। ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে আমাদের বের হতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক তার শিশুসন্তানকে নিয়ে এবং অন্য প্রতিবেশীরা নিচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু আমি শুধু একটি পরিবারকে ওই ভবন থেকে বের হতে দেখেছি।’

ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য, যেখানে রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পের পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডজন ডজন ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছি।’

ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে এবং ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর তৈরি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের নাম রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট অব পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

তারেক রহমানকে লালগালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল।

এ সময় দু’দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। তোপধ্বনি দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক দুটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।

শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।

এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার (২৪ ‍জুন) বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।

বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসএকে

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, সংগঠিত অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে দ্বিতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভাটি দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারের পাঠানো ‘ইউকে লেটার’-এর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, ‘পুলিশ রেফারেল প্রোগ্রাম’, অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্তকরণ এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করছি। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আবদুল কাদের, উপসচিব মিনারা নাজমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন