খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে যেসব আলোচনা হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে যেসব আলোচনা হলো

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) মতিঝিলস্থ শিল্প মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ সময় প্রথাগত উন্নয়ন সহায়তা থেকে সরে এসে কৌশলগত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

আলোচনায় কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক শিল্প উন্নয়ন এবং টেকসই মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে কোল্ড চেইন লজিস্টিকস, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য নদীভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে ডাচ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, তার দেশ সরাসরি সহায়তার পরিবর্তে অংশীদারিত্বমূলক বিনিয়োগ ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতায় আগ্রহী। বিশেষ করে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, বন্দর আধুনিকীকরণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, ডাচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী।

তবে এর জন্য শক্তিশালী মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের সম্মুখীন লজিস্টিক ও আইনি প্রতিবন্ধকতা, বিশেষ করে বাজারে প্রবেশাধিকার, মেধাস্বত্ব অধিকার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের দক্ষতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি টেকসই কৃষি উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং জলবায়ু সহনশীল সমাধান ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গেও মতবিনিময় হয়। এ সময় বাংলাদেশ পক্ষ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের স্বার্থে উত্তরণ-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য তিন বছর সময় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।

রাষ্ট্রদূত জানান, কৃষি, সামুদ্রিক খাত ও বাণিজ্য উন্নয়নে নেদারল্যান্ডস থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

হজে গিয়ে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
হজে গিয়ে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। রোববার (৩০ মে) রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজী বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। একই সময়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ মৃত্যু হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ২৬ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়।

বুলেটিন অনুযায়ী, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ (এনডিসি)-এর সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, আবাসন ও চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে প্রশাসনিক দলের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হজ বুলেটিনে বলা হয়, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজী নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

দেশে ফেরা ৬ হাজার ১৭৫ হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন।

ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১ হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩ হাজার ৩০০ জন হাজী পরিবহন করেছে।

এ পর্যন্ত মোট ১৫টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। মক্কায় ২৭ জন এবং মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে মোট ১৭৬ জন হাজি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। বর্তমানে ২৬ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এবার বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী পাচ্ছেন জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী পাচ্ছেন জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’

বিশ্বশান্তি রক্ষায় নি​জেদের জীবন উৎসর্গ করে অনন্য নজির স্থাপনকারী বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করছে জাতিসংঘ।

চলতি বছরের ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’  উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে শান্তিরক্ষীদের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক তুলে দেবেন সংগঠনটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এ বছর বিশ্বজুড়ে আত্মত্যাগকারী মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। সম্মাননা পেতে যাওয়া এই শান্তিরক্ষীদের মধ্যে ৫৯ জনই গত বছর কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের এই ৬ জন কৃতি সন্তান রয়েছেন।

মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পেতে যাওয়া বাংলাদেশের সেই ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী হলেন— প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মন্ডল। এই বীর সেনানীরা আব্বেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেখানে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় নিহত হন।

কালের আলো/এসএকে

স্বজনদের মায়া ছেড়ে ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
স্বজনদের মায়া ছেড়ে ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা

শেষ হচ্ছে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি। প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়ে এবার কর্মস্থলে ফেরার পালা। তাই স্বজনদের মায়া ছেড়ে ধীরে ধীরে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ।

যদিও এখনো ফিরতি যাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। রোববার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তবে ফিরতি যাত্রায় এখনো চাপ কম। অনেক পরিবারই গ্রামের বাড়িতে থেকে গেছে।

যাদের অফিস-আদালত খুলছে, জরুরি কাজ রয়েছে কিংবা কর্মস্থলে দ্রুত যোগ দেওয়া প্রয়োজন, মূলত তারাই আগে ঢাকায় ফিরছেন। ফলে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কর্মচাঞ্চল্য।

ঢাকায় ফেরা এক চাকরিজীবী বলেন, ‘কাল থেকে অফিস খোলা। তাই ঈদ আনন্দ শেষে স্বজনদের মায়া ছেড়ে চলে এলাম।’ এদিকে, আজও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। কমলাপুরে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেরার চেয়ে ছাড়ার সংখ্যাই বেশি।

অন্যদিকে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ। এসব লঞ্চে আসছেন আসছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। এবার ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ঘাট এলাকায় তেমন কোনো ভোগান্তি বা দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। অনেকে আবার স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন। যাত্রীরা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের তেমন বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও, গণপরিবহনে কিছুটা বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রা বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে অফিস-আদালত পুরোদমে শুরু হওয়ায় বিকেলের দিকে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ