খুঁজুন
                               
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

লিফলেটে ‘জুলাই সনদ’ নেই, জামায়াতের অবস্থান আধা প্রেম আধা প্রতারণা : সংসদকে আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
লিফলেটে ‘জুলাই সনদ’ নেই, জামায়াতের অবস্থান আধা প্রেম আধা প্রতারণা : সংসদকে আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লিফলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ সংক্রান্ত সুপারিশের কোনো উল্লেখ নেই। একইসঙ্গে গণভোট ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানকে তিনি ‘আধা প্রেম ও আধা প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২৬’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বিরোধিতা করেনি জামায়াতে ইসলামী।

তিনি বলেন, এই আইনের সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরের (মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার) বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এনসিপিও এই আইনে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানিয়েছে। আইনের এই প্রয়োগ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এটিই প্রতিষ্ঠিত হলো যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিল এবং কারা খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আইনমন্ত্রী বলেন, আজ যারা এই সংসদে উপস্থিত হয়েছি, মাত্র দুই বছর আগেও আমরা নির্যাতিতের পক্ষে ছিলাম। তখন বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত ছিল, একদিকে ছিল গুটিকয়েক লুটেরা ও খুনি ফ্যাসিস্ট এবং অন্যদিকে ছিলাম আমরা সাধারণ জনগণ। এই লড়াইয়ে আপনারা এবং আমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চায়, যা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি ৯০ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ফরাসি বিপ্লব বা আরব বসন্তের মতো বড় গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে জাতীয় সমঝোতা হয়, তার ভিত্তি হওয়া উচিত সেই বিপ্লবের চেতনা। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ১১ দলীয় জোটের দেওয়া লিফলেটে সংস্কারের কথা থাকলেও সেখানে ‘জুলাই সনদ’-এর কোনো উল্লেখ নেই। ৩৩টি রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত এই সনদ থেকে বিচ্যুত হয়ে তারা এখন গণভোটের কথা বলছে, যা সংবিধান ও আইনের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

আইনমন্ত্রী বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে বলেন, তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না। তবে বাকি বিষয়টিকে তিনি ‘আধা প্রেম ও আধা প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, বিএনপি এটি করতে চায় বলে যে প্রচার করছে তা ‘আধা প্রেম’, যা মূলত জুলাই সনদের অংশ। আর ‘আধা প্রতারণা’ হলো, বিষয়টি জুলাই সনদে থাকলেও এটি আদতে বিএনপির জন্য প্রাসঙ্গিক নয়; বরং তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কারণেই এটি প্রযোজ্য হবে।

জামায়াতের সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, নির্বাচনের মাঠে মা-বোনদের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে শুনেছি কেউ কেউ নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছেন। আমি নিজেই এর সাক্ষী।

স্পিকারের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি এসব দাবি ভুয়া হয়ে থাকে, তবে তাদের ধন্যবাদ। এর মাধ্যমে জাতি বুঝতে পারছে, যারা এক সময় বলেছিলেন ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতের টিকিট পাওয়া যাবে’, তারা আজ স্বীকার করে নিচ্ছেন যে তারা বেহেশতের টিকিটের ধারক নন।

কালের আলো/এসএকে

স্বজনদের মায়া ছেড়ে ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
স্বজনদের মায়া ছেড়ে ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা

শেষ হচ্ছে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি। প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়ে এবার কর্মস্থলে ফেরার পালা। তাই স্বজনদের মায়া ছেড়ে ধীরে ধীরে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ।

যদিও এখনো ফিরতি যাত্রায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। রোববার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশন, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তবে ফিরতি যাত্রায় এখনো চাপ কম। অনেক পরিবারই গ্রামের বাড়িতে থেকে গেছে।

যাদের অফিস-আদালত খুলছে, জরুরি কাজ রয়েছে কিংবা কর্মস্থলে দ্রুত যোগ দেওয়া প্রয়োজন, মূলত তারাই আগে ঢাকায় ফিরছেন। ফলে রাজধানীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করলেও এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কর্মচাঞ্চল্য।

ঢাকায় ফেরা এক চাকরিজীবী বলেন, ‘কাল থেকে অফিস খোলা। তাই ঈদ আনন্দ শেষে স্বজনদের মায়া ছেড়ে চলে এলাম।’ এদিকে, আজও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। কমলাপুরে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেরার চেয়ে ছাড়ার সংখ্যাই বেশি।

অন্যদিকে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকেই পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঘাটে ভিড়ছে যাত্রীবোঝাই লঞ্চ। এসব লঞ্চে আসছেন আসছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। এবার ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় ঘাট এলাকায় তেমন কোনো ভোগান্তি বা দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। অনেকে আবার স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন। যাত্রীরা জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের তেমন বড় কোনো অভিযোগ না থাকলেও, গণপরিবহনে কিছুটা বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রা বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে অফিস-আদালত পুরোদমে শুরু হওয়ায় বিকেলের দিকে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধের প্রভাবে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি চাপ মার্কিনিদের কাঁধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধের প্রভাবে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বাড়তি চাপ মার্কিনিদের কাঁধে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ওপর। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে দেশটির ভোক্তাদের মোট অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।

মুডিজ অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী কাতারভিত্তিক সংবাদমাদ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানিসংশ্লিষ্ট খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারে গড়ে ৪৪৭ দশমিক ১৯ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি এবং বিমানভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে মার্কিন ভোক্তাদের সম্মিলিত অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদেরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

মুডিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেন, ‘যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে আর্থিক চাপে থাকা ভোক্তারা ব্যয় কমাতে বাধ্য হবেন। এতে ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে।’

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানির বর্তমান মূল্যস্তর অব্যাহত থাকলে যুদ্ধ শুরুর এক বছর পূর্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যা জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (৩০ মে) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

পাশাপাশি সরকার এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর ফলে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের আসা-যাওয়া এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য সেবাকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও নানা ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশ থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে তারা নিজেদের অপমানিত বোধ করে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। পরে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মীদের শান্ত করার উদ্যোগ নেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে। এরপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে কোনো গণমাধ্যমকর্মী কষ্ট পেয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি