খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার করতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশকে আগামী দিনের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা কমানো, লজিস্টিক ব্যয় হ্রাস, বন্দর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অলস রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, পুরোনো সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে এগোনো যাবে না। এখন সময় বাস্তবভিত্তিক সংস্কার ও প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এস্পো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে একটি ব্যবসা শুরু করতে উদ্যোক্তাদের প্রায় ২৫ থেকে ২৬ ধরনের অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়, যা ব্যবসা পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজীকরণে কাজ করছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান বিডা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই প্রাথমিকভাবে একটি ‘প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্স’ দেওয়া হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে একটি ডেনিশ কোম্পানি কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় কাজ শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই বাস্তবতায় কোনো “স্টপ-গ্যাপ” বা সাময়িক সমাধানের সুযোগ নেই। টেকসই সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতেই হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বহু বড় শিল্পকারখানা বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারের ওপর বিপুল ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০টি এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অধীনে আরও প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল ভূমি ও সম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে সরকার ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করা। কোথাও আধুনিকায়ন হবে, কোথাও নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, আবার কোথাও রফতানিমুখী উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।

উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি চিনিকল গড়ে এক হাজার বিঘা বা তার বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এসব স্থানে আধুনিক শিল্প পার্ক বা বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয় সৃষ্টি সম্ভব হবে।

প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং শিল্পের বাজার বিশাল এবং বাংলাদেশকে এই খাতে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ছোট করে চিন্তা করলে বড় জায়গায় পৌঁছানো যায় না। সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।’

মন্ত্রী বলেন, সরকার চায় দেশীয় শিল্প বিকশিত হোক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক, বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করুক এবং রফতানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করুক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। অনুষ্ঠানে প্যাকেজিং শিল্প সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রেমিট্যান্সে সুবাতাস, মে মাসের ৬ দিনেই এলো ৭৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, মে মাসের ৬ দিনেই এলো ৭৫ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, চলতি মে মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ মে পর্যন্ত দেশে এসেছে ৩ হাজার ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

কালের আলো/এসএকে

১২ মে থেকে ঈদ পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাত ১০টা পর্যন্ত: দোকান মালিক সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
১২ মে থেকে ঈদ পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাত ১০টা পর্যন্ত: দোকান মালিক সমিতি

আগামী ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

এক ভিডিও বার্তায় হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখতে সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। সরকার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি আমরা যেন অতিরিক্ত আলোকসজ্জ্বা বা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করি, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে গত ৩ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দেয় সরকার। এরপর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ৫ এপ্রিল থেকে একঘণ্টা বাড়িয়ে দোকান বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা করা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২২ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন র‍্যাবের ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পায়।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকলেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং র‍্যাবের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত। চলতি আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে