খুঁজুন
                               
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতারের বেড়া ভয় পায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না। যেখানে আমাদের কথা বলার দরকার, আমরা কথা বলব।’

সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন আর ডর দেখানোর মতো জায়গা নাই।তিনি আরও বলেন, ‘যদি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চান, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না। বাংলাদেশ সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে তো অনেকগুলো মানুষ হত্যা করা হয়। যেগুলো আগে দেখেছি আমরা হাসিনার সময়। ওই নমুনায় আর বর্ডার ইনশাআল্লাহ কোনোদিন আসবে না। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়, এই বাংলাদেশ ওই গোলামির দেশ নয় যে, বসে দেখবে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতে থেকে তাকে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যাতে স্পেস না দেওয়া হয়; আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, ভারতের সরকারের কাছ থেকে তারা তাকে ওই স্পেসটা দেবে না।’

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই। দুই দেশের নেতৃত্বের মানসিকতা হতে হবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।’

তিস্তা ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একই রাজনৈতিক দলের অধীনে এসেছে। এতে আলোচনার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সতর্ক বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, সতর্ক বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতীয় সীমান্তে তারা যদি কাঁটাতারের সীমানা নির্ধারণ করতে চায় তবে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে লবণ চাষীদের জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

হাওড়ায় রাজ্য সচিবালয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যদি কাঁটাতারের সীমানা নির্ধারণ করতে চায় সে বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানি না। সেটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ও সীমান্ত উত্তেজনা সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন হয়েছে। নতুন একটি রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে সেখানে। ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে সরকার পরিবর্তন বা অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত (যেমন কাঁটাতার নির্মাণ) তাদের নিজস্ব বিষয়।

মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে না। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতন ও এর প্রভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোনো পরিস্থিতির সত্যতা বা নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার মতো কোনো তথ্য স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তিনি জনগণকে এ ধরণের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্থানীয় লবণ চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বর্তমানে লবণ চাষীদের উৎপাদন খরচ পর্যালোচনা করছে যাতে তারা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান। দেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ভোজ্য লবণের চাহিদা নিরূপণ করে আমদানির যৌক্তিকতা যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে দেশ লবণ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে এবং চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সপ্তাহজুড়ে কয়েক জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
সপ্তাহজুড়ে কয়েক জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতও হতে পারে এবং উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, উত্তর শ্রীলংকা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

সোমবার (১১ মে)) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়। রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে

বর্ধিত এই পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবনতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিশুদের সুরক্ষায় জান দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার: মানসুরা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
শিশুদের সুরক্ষায় জান দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার: মানসুরা

বর্তমান সরকার দেশব্যাপী শিশুদের সুরক্ষায় জান দিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাবি ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলম।

সোমবার (১১ মে) সরকারি শিশু সদন পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মানসুরা আলম লিখেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন হামে মৃত শিশুর বাবা-মা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে কাঁদছে, কারণ তাদের আদরের সন্তান মারা গেছে। এই যে বাচ্চাগুলোকে দেখছেন, ওরা মারা গেলে কাঁদারও কেউ নেই। ওদের বাবা-মা-পরিবার বলতে সরকার, সরকারি লোকেরা।তারাই শিশু সদন, সরকারি শিশু পরিবারে বড় হওয়া এই শিশুদের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন। তবে কতটা দায়িত্বশীলতার সাথে এতদিন করতে পেরেছেন, সেটাই প্রশ্ন এখন।’

শিশু সদনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের ছবি যুক্ত করে তিনি জানান, ‘গতকালকেই আমি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা মারফত জানতে পারলাম, এই শিশুদের হামের সাথে কিছু স্কিন ডিজিজও দেখা দিচ্ছে। সংক্রামক হাসপাতালে হামের চিকিৎসা চললেও আলাদা করে স্কিন ডিজিজের চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো তদারকি নেই কারো। ওই যে, ওদের তো তাগাদা দেওয়ার মানুষ নেই, কান্নার জন্য বাবা-মা নেই। তাই ডার্মাটোলজিস্টদের উপস্থিতির প্রয়োজনটাও নেই। এই স্কিন ডিজিজ হচ্ছেও শুধু সেইসব বাচ্চাদের, যারা অপুষ্টিতে ভুগছে এবং ইমিউনিটি কম। স্বাভাবিকভাবেই শিশু সদনের বাচ্চারা এই ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।’

মানসুরা আলম জানান, ‘আমি সাথে সাথে সেটি জানালাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার ভাইকে। জিয়া ভাই খুব মনোযোগ দিয়ে পুরো ব্যাপারটা শুনলেন এবং কী কী করতে পারেন সেটাও শুনলেন। এরপরই ICDDRB’র পরিচালককে সেটা অবহিত করলেন। পরিচালকের সাথে আমাকেও সংযুক্ত করিয়ে দিলেন যাতে তথ্য মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পরবর্তীতে পরিচালক আমাকে জানালেন তারা দ্রুত ডার্মাটোলজিস্টদের পরামর্শ ও যথাযথ টেস্টের মাধ্যমে বাচ্চাদের এই সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন।’

সরকার শিশুদের নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘শিশুদের সুরক্ষায় এই সরকার জান দিয়ে কাজ করছেন। কতটা সিরিয়াসনেসের সাথে সংশ্লিষ্টরা কাজটা করছেন সেটা আমি বুঝলাম কালকে। সরকারের উচ্চমহলের মানুষেরা হাম সংক্রান্ত ছোট ছোট তথ্য নিয়েও আলাদা করে মিটিং করছেন। সংক্রামক হাসপাতালের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।’

চলমান হাম নিয়ে মানসুরা লিখেছেন, ‘ক্রাইসিস একটা হয়েছে। যার অবহেলাতেই হোক না কেন, সরকার সেটা নিয়ে বসে নেই। সরকার নিজের কাজটা করছে সেটি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, এই দেশের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করার জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের বড় বড় হুংকার আর হায় হায় দেখি। তাদেরকে কাজ করার আহব্বান জানাই। সংক্রামক হাসপাতালগুলোতে পরিস্থিতি দেখে আসার আহব্বান জানাই। কারো যদি কোনো অবহেলা থাকে, তাহলে সেটা নিয়ে যেন কথা বলেন খুঁটিনাটি ধরে। সরকার যদি সে সমস্যার সমাধানে দায়িত্বশীল না হয়, তখন হুংকার দেন। আগে শিশুদের রক্ষায় মনোযোগী হোন। আমাদের রাজনীতিই মানুষকে কেন্দ্র করে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ