খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী 

Oplus_131072

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, র‌্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।

তারেক রহমান বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে প্রবেশ করতে হলে  আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।

শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়। অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।

বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে তাকে আর বেকার থাকতে হবে না।

তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরির জন্য অপেক্ষা না করে  নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’, সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলপর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ লেখক ‘গুডউইন’ যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ‘বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট’ হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।

তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই। বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া ‘ফেসবুক’ নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম ‘আলিবাবা’র কোনো ‘মজুদ পণ্য’ নেই।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার ‘এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।’ অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত: এক একটি ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।

শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি, ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবন’ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে  যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা’ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।’

মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। ‘

ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।’

তিনি বলেন, জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করব।

তিনি বলেন, তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এসএকে

রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

ভাতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল বাতিল ও বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়।

রোববার সকাল  সোয়া ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ’-এর ব্যানারে কর্মবিরতি শুরু করেন ২২০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় তারা এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল (ইন্টার্নশিপ) বাতিল করা এবং বিসিএস চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া তাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

এদিকে কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ধরনের সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম’। এরপর থেকেই চূড়ান্ত আন্দোলনে নামেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

আদ্-দ্বীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির, বললেন ‘আমি মধ্যস্থতাকারী’!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
আদ্-দ্বীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির, বললেন ‘আমি মধ্যস্থতাকারী’!

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে মর্মে কর্তৃপক্ষকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো মন্ত্রণালয়কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আজ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিশির মনির নিজেকে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যকার একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আজীবন তাদের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের কোনো সদস্য বাবা, মা, ভাই, বোন কিংবা সন্তান যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তারা ওষুধ ছাড়া সব রোগের জন্য বিনামূল্যে এখানে চিকিৎসা পাবেন।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদ্-দ্বীন পরিচালিত যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।

তবে আদ্-দ্বীন পরিচালিত মেডিকেল কলেজ বা অধিক ব্যয়বহুল পেশাগত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিশেষ বৃত্তি, উল্লেখযোগ্য টিউশন ফি মওকুফ অথবা আর্থিক সহায়তার বিষয়টি সহানুভূতির ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের উপযুক্ত কোনো সদস্য আগ্রহী হলে হাসপাতালের যোগ্যতাসম্পন্ন পদে চাকরির সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ও সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং কারণ দর্শানো প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তার জবাব আগামীকাল (রোববার) বিকেল ৫টার মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

তবে নোটিশে ‘জবাব সন্তোষজনক না হলে কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না’ বলা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে হবে। তার মতে, এ ধরনের নোটিশ সম্পূর্ণ ‘আন ল ফুল’ তথা বেআইনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের সারমর্ম নিয়ে শিশির মনির বলেন, শিশুদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে অক্সিজেনের মাত্রা কত ছিল এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত ছিল, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রতিবেদনে নেই। একইভাবে কতটুকু অক্সিজেন থাকলে শিশুদের মৃত্যু ঘটত না, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত্যুর ঘটনা, গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তা এবং বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শিশির মনির প্রথমে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিকদের চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও এক ভুক্তভোগী পরিবারকে কথা বলার সুযোগ দেন।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে বিবেচনায় নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। এছাড়া ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন পরিবেশকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ সময় মারা যাওয়া এক শিশুর বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা চাই প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক। তবে হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হোক, তা আমরা চাই না। এর আগেও আমার দুই সন্তানের জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছে এবং তারা সুস্থ ছিল। আমাদের সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এজন্য আমরা মামলা চালিয়ে যাব।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সম্ভবত ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। প্রয়োজনীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়।

প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনের আওতায় যতটা কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটাই হব। এবার আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ৪৩৮

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে গত ১৫ দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং এক হাজার ৩৪০ জন আহত হয়েছেন। এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদকে কেন্দ্র করে সারাদেশে মোট ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং এক হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। এ ছাড়া নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই কেবল ঈদকেন্দ্রিক স্বল্পমেয়াদি তৎপরতা নয়, মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। গণপরিবহন ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, মহাসড়ক থেকে ধীরে ধীরে ছোট যানবাহন অপসারণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন উচ্ছেদের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্টার’ সড়ক নিরাপত্তা করিডোর গড়ে তোলার দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কিছু পরিবহন মালিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন প্রয়োজনীয় মেরামত ছাড়াই সড়কে নামিয়েছেন। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদ, খাল বা রাস্তার পাশে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবারের ঈদে তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

সংগঠনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালকের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পরিচালিত হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরার শেষ দিন ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও এক হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং এক হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন। সেই হিসাবে এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ সময়ে নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং চারজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক সড়ক ও মহানগর এলাকায়, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার পেছনে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, সড়ক চিহ্ন ও মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, উল্টো পথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বিরামহীন ড্রাইভিং এবং বৃষ্টিজনিত সড়ক ক্ষতিকে দায়ী করেছে।

এসব সমস্যা সমাধানে সংগঠনটি ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু, চালকদের প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, রোড সাইন ও মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ, নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ফিটনেস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ এবং পরিবহন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধের সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাস, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দফতর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু এবং মনজুর হোসেন ইসা।

কালের আলো/এসআর/এএএন