খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আধুনিক কারিকুলাম ছাড়া টেক্সটাইল শিক্ষায় অগ্রগতি অসম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
আধুনিক কারিকুলাম ছাড়া টেক্সটাইল শিক্ষায় অগ্রগতি অসম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

বস্ত্র আধুনিক কারিকুলাম ছাড়া টেক্সটাইল শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, শিল্পখাতের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেক্সটাইল শিক্ষার পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে ‘কর্মসংস্থানে টেকসই উত্তরণ: টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পথচলা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসই করতে হলে শিল্পখাতকে প্রতিযোগিতাসক্ষম ও আধুনিক করতে হবে। শিল্প যদি সংকটে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানও টেকসই হবে না।

তিনি বলেন, সরকার নতুন করে সরকারি মালিকানায় কোনো মিল স্থাপন বা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে না। ব্যবসা পরিচালনা করবে ব্যক্তিখাত, আর সরকার নীতিসহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে।

বিদ্যমান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর কারিকুলাম সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়নে বিটিএমএ ও সক্ষম বেসরকারি মিলগুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষকের ঘাটতি কমবে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয়, কস্ট অব ফান্ড এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বর্তমানে টেক্সটাইল খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি ম্যানমেইড ফাইবার, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং ভ্যালু চেইনে উন্নয়নের মাধ্যমে খাতটিকে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আব্বাসউদ্দীন শায়ক। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন কাজী মাসুম রাশেদ এবং শওকত আজীজ রাসেল।

এছাড়া বক্তব্য দেন ড. আব্দুস শহীদ, গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী রনি গাজী এবং সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. কবির।

সেমিনারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার প্রধান, বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং টেক্সটাইল খাতের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

ত্যাগ, আত্মসমর্পণ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের বার্তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ।

ঈদের নামাজ আদায়, পশু কোরবানি এবং আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

ঈদ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

পৃথক বাণীতে তারা দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদুল আজহার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি চলছে। ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ।

সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠেয় এ জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।

প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বায়তুল মোকাররমে আরও চারটি জামাত হবে সকাল ৭টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল ৭টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হল মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

আজকে থাকবে কেমন আবহাওয়া?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আজকে থাকবে কেমন আবহাওয়া?

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিমদের অন্যতম বড় এ উৎসবের প্রধান খুশির উপলক্ষ্য পশু কোরবানি। কিন্তু প্রকৃতির একটু বৈরীভাব সে খুশিতে জল ঢেলে দিতে পারে। তাই আগেভাগেই জেনে রাখা ভালো, ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া।

শঙ্কার বিষয় হলো, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদ উৎসবে বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজ করছে। এর প্রভাবেই মূলত ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির এই প্রবণতা দেখা যাবে।

বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদের দিনে তাপমাত্রার বিষয়ে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এর আগে সোম (২৫ মে) এবং মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী এবং ঈদ উৎসব পালনে শহর ছাড়া কর্মজীবী মানুষেরা। বুধবার (২৭ মে) সকালেও বৃষ্টি হয়েছে।

ফলে প্রকৃতির এই বৈরিতা যদি অব্যাহত থাকে, আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবারও (২৮ মে) যদি ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়, তবে তা ঈদের জামাত এবং পশু কোরবানির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তাই আগেভাবেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে জেনে সারাদেশে ঈদের জামাত ও পশু কোরবানির জন্য সেই মতো যুতসই ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন আবহাওয়া বিশারদরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিশ্বজুড়ে ঈদের আনন্দ, ভারতে মুসলিমদের মনে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে ঈদের আনন্দ, ভারতে মুসলিমদের মনে আতঙ্ক

সারা বিশ্বে এখন ঈদুল আজহার আনন্দ। সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে বুধবার (২৭ মে) পালিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম বড় এই উৎসব। রাত পোহালে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশেও ঈদ। সারাদেশ ভাসবে আনন্দে। কিন্তু আনন্দের বদলে ভারতের মুসলিমদের মনে এখন শুধুই আতঙ্ক।

বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশটির অধিকাংশ রাজ্যে পালিত হওয়ার কথা এই ধর্মীয় উৎসব।

তবে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় নামাজের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। গত ঈদে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেতে হয়েছিল তাদের। ফলে এবারের ঈদকে সামনে রেখে আতঙ্কে দেশটির মুসলিমরা।

আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার মালিয়ানা গ্রামের একটি ছোট মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক চলছে। তবে সেখানে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগই বেশি স্পষ্ট। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কোরবানির পশু বা দান নয়; বরং রাস্তা, ব্যারিকেড, পুলিশি অনুমতি এবং কোথায় ও কীভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে— সেই প্রশ্ন।

দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মুসল্লিদের সতর্ক করে দিচ্ছেন— মসজিদের গেটের বাইরে জড়ো না হতে, ভিড় হলে পরবর্তী জামাতের জন্য অপেক্ষা করতে, কোনো ধরনের বিতর্কে না জড়াতে এবং উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া না জানাতে।

উপস্থিত মুসল্লিদের কেউ কেউ মোবাইলে স্থানীয় পুলিশের পরামর্শসংবলিত বার্তা দেখছিলেন। সেখানে প্রকাশ্যে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকে আবার উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন।

মালিয়ানা গ্রাম মুসলিমদের জন্য এক বেদনাদায়ক স্মৃতির জায়গা। ১৯৮৭ সালের মে মাসে সেখানে হিন্দু জনতা ও প্রাদেশিক আর্মড কনস্ট্যাবুলারির সদস্যদের হাতে ৭২ মুসলিম নিহত হন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালে প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের খালাস দেয় আদালত। তবে এবারের উদ্বেগ সেই পুরনো ঘটনার কারণে নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের নামাজকে ঘিরে বাড়তে থাকা বিধিনিষেধের কারণে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন প্রকাশ্যে মুসলিমদের নামাজের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, রাস্তা বা খোলা জায়গায় নামাজের কারণে যানজট ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় রাস্তা, পার্ক বা খালি জমিতে নামাজ আদায় বন্ধ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা স্থানে নামাজের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন মুসলিমদের দেওয়া অনুমতিও বাতিল করেছে।

সম্প্রতি বিজেপির ঘনিষ্ঠ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সারাদেশে রাস্তার ওপর নামাজ নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। সংগঠনটির অভিযোগ, এটি মুসলিমদের ‘শক্তি প্রদর্শনের’ অংশ।

তবে মুসলিমদের বক্তব্য, বাস্তবতা ভিন্ন। জনবহুল এলাকায় অধিকাংশ মসজিদ বা ঈদগাহে একসঙ্গে সব মুসল্লির জায়গা হয় না। ফলে ঈদ বা জুমার সময় সাময়িকভাবে রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মুসলিম বাস করেন। ২০১৭ সাল থেকে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যোগী আদিত্যনাথ, যিনি মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তাঁর সরকারের আমলে রাস্তা ও খোলা জায়গায় মুসলিমদের নামাজ আদায়ের ওপর কঠোরতা বেড়েছে।

গত ১৮ মে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, মুসলিমদের ‘শিফটে’ ঈদের নামাজ আদায় করা উচিত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নিলে ভালো, না মানলে অন্য পদ্ধতি নেওয়া হবে।’ এই ‘অন্য পদ্ধতি’ কী হতে পারে, সে বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মিরাটের এক মুসলিম বাসিন্দা জানান, গত বছর খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ভাঙার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট যাচাই আটকে দেওয়ার অভিযোগও ছিল। এসব কারণে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।

আলিগড় জেলার দোকানদার আরিফ মালিক বলেন, গত ঈদে তাদের এলাকার মুসল্লিরা কয়েক মিনিটের জন্য খোলা মাঠে নামাজ পড়লেও পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এবার পরিবারগুলো মানুষকে ভিড় এড়িয়ে চলতে বলছে।

উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন মসজিদ কমিটিগুলো ঈদের আয়োজন নতুনভাবে সাজাচ্ছে। কোথাও জামাত ছোট করা হচ্ছে, কোথাও মুসল্লিদের ছোট ছোট দলে আসতে বলা হচ্ছে। নামাজ শেষে দ্রুত সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ সাময়িকভাবেও রাস্তার ওপর চলে না যান।

মিরাটের মসজিদ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আরিফ বলেন, এখন মানুষের উদ্বেগ শুধু নামাজ কোথায় হবে তা নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে প্রকাশ্যে একত্র হওয়াকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। এখন মানুষকে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কোথায় জায়নামাজ বিছাবে, কীভাবে চলাফেরা করবে।

মিরাটের এক ব্যবসায়ী আরশাদ বলেন, আগে ঈদের সকাল আনন্দের ছিল। এখন আগের রাত থেকেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। মানুষ ভাবতে থাকে পুলিশ আসবে কি না, কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে কি না।

এই পরিস্থিতির মানসিক প্রভাবও বাড়ছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোমান খান বলেন, অনেকে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন। শারীরিকভাবে কিছু না ঘটলেও ভিডিও ধারণ, অনলাইনে টার্গেট করা বা মিথ্যা অভিযোগের ভয় কাজ করে। অনেক পরিবার তরুণদের মসজিদের বাইরে দাঁড়াতেও নিরুৎসাহিত করছে।

পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার এক ইমাম বলেন, ঈদের প্রস্তুতির চেয়ে এখন বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে বিধিনিষেধ এড়ানোর কৌশল নিয়ে। তার ভাষায়, ‘বিতর্ক এড়ানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।’

লখনউর আরেক ইমাম বলেন, জায়গার অভাবে নামাজের সময় অল্প সময়ের জন্য রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা হতো, কিন্তু আগে এটি বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখা হয়নি। এখন এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন মুসলিমরা ইচ্ছাকৃতভাবে জনপরিসর দখল করতে চাইছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মসজিদের বাইরের ময়দানে ঈদের জামাত। এখন আর এভাবে দিল্লিতে বাইরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয় না হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

এই উদ্বেগ শুধু উত্তর প্রদেশে সীমাবদ্ধ নয়। দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিজেপিশাসিত অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরনো দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এখন ঈদ এলেই নতুন নিয়ম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মানুষ শুধু শান্তিতে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরতে চায়। কিন্তু এখন প্রত্যেক ঈদের সঙ্গে নতুন কোনো বিধিনিষেধের আশঙ্কা জড়িয়ে থাকে।

তবু ঈদের প্রস্তুতি থেমে নেই। রাত পর্যন্ত বাজারে ভিড়, দর্জিদের ব্যস্ততা, শিশুদের নতুন জুতা ও মিষ্টির আবদার— সবই চলছে আগের মতো। মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকেরা কার্পেট পরিষ্কার করছেন, মুসল্লিদের জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু উৎসবের সেই পরিচিত পরিবেশের নিচে চাপা উদ্বেগ স্পষ্ট।

কোরবানিকেও এবার বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পশুর রক্ত বা বর্জ্য যেন রাস্তায় বা ড্রেনে না যায়, তা নিয়ে কড়া সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও রয়েছে।

একই সময়ে টেলিভিশন বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ধর্মীয় চর্চাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক প্রচার বাড়ছে। হিজাব, হালাল খাবার, আজানের লাউডস্পিকার— বিভিন্ন বিষয় ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্ক মুসলিমদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে ঈদের জামাতের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে ভারতীয় পুলিশ। নয়ডার সফটওয়্যার প্রকৌশলী ফাইজান আলি বলেন, ধীরে ধীরে এমন অনুভূতি তৈরি হয় যেন পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ। এমনকি নামাজ পড়ার আগেও এখন মানুষ দুবার ভাবছে।

ধর্ম ও জনপরিসর নিয়ে কাজ করা গবেষক নাদিম খান বলেন, একটি সম্প্রদায় যদি তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষে প্রকাশ্যে একত্র হতে ভয় পায়, তাহলে তা বোঝায় জনপরিসর কার জন্য এবং কে সেখানে নিজের উপস্থিতি বৈধ মনে করবে— সেই প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।

ভারত সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জনশৃঙ্খলা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য। তবে সমালোচকরা বলছেন, একই সময়ে বড় হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও উৎসবের জন্য প্রশাসনিক সহায়তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে মুসলিমদের মধ্যে আইন প্রয়োগে বৈষম্যের ধারণা আরও জোরালো হচ্ছে।

দিল্লির এক আইনজীবী বলেন, সংবিধান জনশৃঙ্খলার শর্তে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু যদি একটি সম্প্রদায় ধারাবাহিকভাবে কঠোর নজরদারির মুখে পড়ে, আর অন্যরা প্রশাসনিক সহায়তা পায়, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠবেই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ