খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

এবারের ঈদযাত্রায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
এবারের ঈদযাত্রায় বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই: সড়কমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং বড় কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই।

তিনি বলেছেন, কিছু ট্রেন সামান্য বিলম্বিত হলেও সার্বিকভাবে রেল যোগাযোগ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ায় এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার (২৪ মে) ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রেলমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সকাল থেকে তিনটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করেছিল। ট্রেন লাইনের ওপর প্রচুর খড় শুকানোর জন্য ছড়িয়ে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে সেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে দুটি বা তিনটি ট্রেন ২০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হতে পারে। তবে বাকি ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলাচল করছে।

মন্ত্রী বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা এখনও সীমিত। বর্তমানে প্রতিদিন আন্তনগর ট্রেনে প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়।

ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে আরও প্রায় চার হাজার যাত্রী ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু ট্রেনে যাতায়াত করতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখ হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় ট্রেন, রেললাইন, লোকোমোটিভ ও কোচের সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। তবে যেসব স্থানে দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে ঈদের আগেই বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, অনেক এলাকায় রেললাইনের ওপর ধানের খড় শুকাতে দেওয়া হয়। সেগুলো সরাতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয়, এমনকি রেলকর্মীদের মারধরের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া দেশের সব স্টেশন এখনও পুরোপুরি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আনা সম্ভব হয়নি। তবুও সীমিত সক্ষমতা নিয়েই যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রেলওয়ে।

তিনি আরও বলেন, আগে রেলের পরিবেশ অনেক জরাজীর্ণ ছিল। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যাত্রীরাও সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। টিকিট বিক্রিতেও অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সুযোগ হয়নি। অনলাইনে আগে আবেদন করা যাত্রীরাই টিকিট পেয়েছেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রশিদ হাবিব, মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।

শনিবার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক।

তিনি বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের এলাকার পাঁচজন প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশের যে কোনো স্থানে হাইকোর্টের অধিবেশন বসাতে পারেন প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
দেশের যে কোনো স্থানে হাইকোর্টের অধিবেশন বসাতে পারেন প্রধান বিচারপতি: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য বিভাগে হাইকোর্টের কোনো স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই, কারণ এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি। তবে প্রধান বিচারপতি চাইলে এবং প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে ঢাকার বাইরে দেশের যে কোনো স্থানে হাইকোর্টের সাময়িক অধিবেশন বসাতে পারেন।

রোববার (২১ জুন) সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন।

সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের বিভাগওয়ারী হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না, থাকলে তা কবে বাস্তবায়িত হবে এবং না থাকলে তার কারণ কী।

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আসন সম্পর্কে সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে কেবল রাজধানীতেই। তবে দেশের মানুষের বিচারিক প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি ঢাকার বাইরে যে কোনো জায়গায় হাইকোর্টের অধিবেশন বসানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার আইনি বিতর্কটি ঐতিহাসিক ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগে এরই মধ্যে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। ওই রায়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাংবিধানিক নিয়মের পরিপন্থি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ

ময়মনসিংহে আওয়ামী অপতৎপরতা ও মাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। এ সময় মিছিলটি নগরীর জিলা স্কুল মোড়, নতুন বাজার এবং গাঙ্গিনাপাড় মোড় ঘুরে স্টেশন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল পূর্বসমাবেশে এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, আমরা মাদক, সন্ত্রাস ও চাদাবাজ মুক্ত সমাজ গঠন করতে চাই। কিন্তু ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আওয়ামী লীগ দৌঁড় মিছিল করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবেলায় বিএনপি রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

এ সময় তারেক রহমানের মানবিক কর্মকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে ওয়াহাব আকন্দ আরো বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নেতৃত্বের গুণাবলী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তাঁর নেতৃত্বে বতর্মান সরকারে প্রতিটি পদক্ষেপ সর্বমহলে হয়ে উঠেছে প্রশংসনী| এজন্য ষড়যন্ত্রকারী মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।’

সমাবেশে মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহমেদ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহম্মেদ ভুলু, এম.এ হান্নান খান, এনামুল হক আকন্দ লিটন, কায়কোবাদ মামুন, সৈয়দ শরীফ, রতন আকন্দ, খন্দাকার মাসুদ, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগিতা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কালের আলো/এম/এএইচ