খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঈদের পরদিন রাজধানীতে চড়া সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
ঈদের পরদিন রাজধানীতে চড়া সবজির দাম

Oplus_131072

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছু টির প্রভাবে ঢাকার কাঁচাবা জারের চিত্র বদলে গেছে। বা জারগুলোতে সবজির সরবরাহ কম থাকাই এর প্রভাব পড়েছে দামে। ঈ দের আগের তুলনায় অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, বনশ্রী এলাকার বা জার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

মহল্লার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়তেও সবজির সরবরাহ কম এবং দাম বেশি।

তারা বলছেন, ঢাকায় শুক্রবার সব থেকে বেশি সবজি বিক্রি হয়। কিন্তু ঈ দের পরের দিন হওয়ায় আজ আড়তে খুব কম মাল এসেছে। আড়তের সব ব্যবসায়ীও নেই। মাল কম আসায় পাইকারিতে বিভিন্ন সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই খুচরাতেও দাম বাড়তি।

বা জারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, যা ঈ দের আগে ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা ঈ দের আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

একইভাবে করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা ঈ দের আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা ছিল। কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা, যা ঈ দের আগে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল। ঈ দের আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

দাম বাড়ার এই তালিকায় রয়েছে কাঁচা মরিচ ও শসাও। ঈ দের আগে ২০ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরার সবজি বিক্রেতা কায়সার বলেন, ঈ দের কারণে অনেক আড়ত বন্ধ। গ্রাম থেকে সবজিবাহী ট্রাকও অনেক কম এসেছে। এ কারণে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। আড়তে অল্প সবজি এসেছে। তাই সবজির দাম একটু বেশি। দু-একদিন পর আবার স্বাভাবিক হবে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ঈ দ গেছে, আজ শুক্রবার না হলে আমিও দোকান খুলতাম না। ঢাকার বেশিরভাগ মানুষ শুক্রবার বা জার করে। তাই ঈ দের পরের দিন হলেও কিছু বিক্রি হবে, এই আশায় সবজি নিয়ে এসেছি।

ভ্যানে সবজি বিক্রি করা টিটু মিয়া বলেন, আড়তে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে খুচরাতেও আজ সবজির দাম একটু বেশি। ঈ দের আগের তুলনায় প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকার মতো বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমি ৭ বছর ধরে ঢাকায় ব্যবসা করছি। কো রবানির ঈ দের পর কয়েকদিন সবজি বিক্রি খুব কম হয়। আজ যেহেতু শুক্রবার, তাই কিছু বিক্রি হবে বলে আশা করছি। এ জন্য অল্প কিছু মাল নিয়ে এসেছি। আড়তেও মাল কম এসেছে।

রামপুরা বা জারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হোসেন বলেন, ঈ দের পর বা জারে এসেছি। দেখি সবকিছুর দাম বাড়তি। কো রবানির পরও তো সংসার চালাতে হয়। শুধু মাং স দিয়ে তো আর ভাত খাওয়া যায় না। তাই কিছু সবজি কিনতে আসলাম।

মালিবাগ হাজীপাড়া বৌবা জারে গিয়ে দেখা যায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী দোকান খোলেননি। অল্প কয়েকজন সবজি নিয়ে বসে আছেন। একই অবস্থা দেখা যায় খিলগাঁও তালতলায়।

খিলগাঁও তালতলা থেকে টমেটোসহ কিছু সবজি কেনা কামাল মোশাররফ বলেন, ঈ দের আগে এক কেজি পাকা টমেটো কিনেছিলাম ৮০ টাকা দিয়ে। আজ সেই টমেটোর দাম ১২০ টাকা রেখেছে। ঈ দের আগে ঢ্যাঁড়স কিনেছিলাম ৬০ টাকা কেজি, আজ ৮০ টাকা কেজি কিনতে হলো। এভাবে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, কো রবানি দিয়েছি। বাসায় মাং সের কয়েক পদ রা ন্না হয়েছে। কিন্তু শুধু মাং স দিয়ে কতোবার খাওয়া যায়। একটু সবজি না খেলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বো। তাই কিছু সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

সবজি বিক্রেতা মো. বকুল বলেন, ঈ দের পর সবজির দাম একটু বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হয়েছে। এতে সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। সেই হিসেবে ঈ দের পরের দিন সবজির দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে।

তিনি বলেন, এখন সবজির চাহিদা তুলনামূলক কম। ঈ দের জন্য ঢাকার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে রয়েছেন। ঢাকায় যারা আছেন, সবার বাসায় মাং স আছে। আরও কয়েকদিন সবজির চাহিদা কম থাকবে। সবজির চাহিদা বাড়লে আমার ধারণা দাম আরও বেড়ে যাবে।

কালের আলো/এসএকে

রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
রাত ১টার মধ্যে ১৩ অঞ্চলে তাণ্ডব চালাবে কালবৈশাখী ঝড়

দেশের ১৩ অঞ্চলে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ২টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ঢাকা, ফরিদপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি অথবা কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আকস্মিক দমকা হাওয়া ও বজ্রঝড়ের কারণে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বগুড়ায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

বগুড়ার কাহালুতে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারোমাইল এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের তিন আরোহী নিহত হন। খবর পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করেন।

কাহালু ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর সবুজ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সেখানে তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বীরকেদার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন বলেন, দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা গেছেন।

কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও নিহতদের পরিচয় জানা সম্ভব হবে। নাম-পরিচয় পাওয়া গেলে পড়ে জানানো হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত

দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে রামিসার বাবা নিজেও অত্যন্ত আশ্বস্ত এবং কৃতজ্ঞ। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে রামিসা দর্শন হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। যেদিন প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনমন্ত্রী রামিজ স্যার বাসায় গেলেন। সেদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘিরে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়া হলো। এই স্লোগানটি কারা দিলেন। সাধারণ জনগণ । মোটেও না। বরং প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইন মন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় যাওয়ায় সাধারণ মানুষ খুবই সন্তুষ্ট এবং প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের মানবিক আচরণে পুরা দেশের মানুষ অত্যন্ত আশ্বস্ত বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। যখন আইনমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী একযোগে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। আসামীকে নজিরবিহীন দ্রুততম সময় গ্রেফতার করা হয়েছে। তখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোক বিশেষ করে নাটক সিনেমার কিছু লোক এবং পতিত প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর লোকজন বিষয়টিকে ঘিরে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে।

বিষয়টা যেন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি জেগে উঠেছে। রামই শহর তারপর সম্ভবত বাংলাদেশে আমি প্রথম সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি। এ নিয়ে আমি একাধিক আর্টিকেল লিখেছি। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আর্টিকেল শেয়ার করেছি। পরে যখন প্রধানমন্ত্রী রামেশ্বর বাসায় ছুটে গেলেন সেটা নিয়ে আমি আর্টিকেল লিখেছি। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে রামিশা ধর্ষণ ও হত্যার পর যারা চুপচাপ বসে ছিলেন কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি। প্রধানমন্ত্রী রামিশার বাসায় যাওয়ার পর তারা হঠাৎ করে মানবতাবাদী হয়ে উঠলেন তারা সোচ্চার হয়ে উঠলেন তারা রাস্তায় নামলেন। কারণটা কি?

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটা আমার মুখের কথা নয়। সরকারি পরিসংখ্যান দেখলেই সেটা বোঝা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে সেই তুলনা চোখে পড়ছে না। বরং সত্যনির্বাচিত সরকারি জানো ধর্ষণ এবং নারীর নির্যাতনে সহায়তা করছে এরকম একটা আবহাওয়া তৈরি চেষ্টা চলছে। হ্যাঁ এটা স্বীকার করতেই হবে যে যে কোন সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সেটা ধর্ষণ হোক কিংবা অন্য কোন অপরাধ। কিন্তু আমাকে এটাও স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার যে ষড়যন্ত্র সেটার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো একটি পতিত শক্তি এই সরকারকে স্বস্তিতে পাঁচ বছর দেশ চালাতে দেবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই। ফলে তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করবে গুজব ছড়াবে। তারা যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পাচার করেছে। সেই পাচারকৃত অর্থের সামান্য একটি অংশ খরচ করলেও এই সরকারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে। কারণ অর্থের একটা বিশাল শক্তি আছে। এবং এই শক্তি পৃথিবীর সব সমাজেই ক্রিয়াশীল হয়। এখানে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউনিসেফ একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।

যেখানে তারা গভীর উদ্বেগ ও খুব প্রকাশ করেছে। অথচ শেখ হাসিনার আমলে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে ঘটনা ঘটলেও। ইউনিসেফ কিংবা জাতিসংঘ কিংবা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে এতটা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায়নি।

একদিকে অর্থনৈতিক সংকট একদিকে হামের মত একটি প্রায় নিয়ন্ত্রিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রাত দিন পরিশ্রম করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে জঞ্জাল পূর্ববর্তী সরকার সৃষ্টি করে গেছে তা এখন মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিএনপি সরকারকে।

এরকম একটি প্রেক্ষাপটে সরকার যখন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে চাইছে তখন সেই প্রতিক্রিয়াশীল পতিত শক্তি যেকোন মূল্যে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।

এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ডক্টর ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি প্লট সাজিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যিনি শান্তিতে নোবেল জয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস সারা বিশ্ব যাকে এক নামে চেনেন। জাতিসংঘ ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা পৃথিবীর নামকরা সকল সংস্থা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখেন। তো সেই ব্যক্তিটি যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন তিনি মিউনিসিপ এর কথা কেন শুনলেন না। অর্থাৎ হামে টিকা ক্রয়ের ব্যাপারে ইউনিসেফ একবার দুইবার নয় অনেকবার চিঠি দিয়েছেন সতর্ক করেছেন। ডঃ মোঃ ইউনূস কিংবা তার সরকার সেটা কেন আমলে নেননি। এটা কি শুধুই অবহেলা নাকি পরিকল্পিত কোন ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ বিএনপি সরকার যাতে কোনোভাবে সফল হতে না পারে সেই ব্যবস্থাই পাকাপোক্ত করে গেছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনু সরকার। এবং ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস এর প্রত্যক্ষ মদদে গঠিত এনসিপি এবং তাদের নেতাকর্মীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বক্তৃতা বিবৃতি তাদের সামগ্রিক কর্মকান্ড টিকে তাকালে এ বিষয়টি খুবই পরিষ্কার যে এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সুপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।

সবচেয়ে বড় কথা হল এনসিপির নেতারা যারা কদিন আগেও ডাল ভাত খাওয়ার জন্য হিমশিম খেতে হয়েছে ক্যাম্পাসে তারা এখন ৮২ জীবন যাপন করছেন। প্রায় সবাই কোটিপতি বনে গেছেন। কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজনৈতিক দল পরিচালনা করছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো বিএনপি আওয়ামী লীগ জন্মের পর অনেক বছর সময় লেগেছে একটি ভাল অফিস মেইনটেইন করতে। অর্থাৎ একটি অফিসের ভাড়া খরচ বহন করার তাদের মত বড় দলের পক্ষেও অত সহজ ছিল না। কিন্তু এমসিপি ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক দলের যে কার্যালয় বাংলা মটরে। সেটার যে চাকচিক্য সেটার যে ভাড়ার পরিমাণ। লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়ার টাকা তারা কোথা থেকে পান। তাদের এই টাকার খনি আলাদিনের চেরাগ তারা কোথায় পেলেন। আগে জাতিকে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। শুধু মুখে সুন্দর সুন্দর কথা বললেই তো চলবে না। মানুষ এখন আর বোকা নয় মানুষ সবকিছু দেখে শুনে এবং বুঝে।

এনসিপি কার্যত বিপথগামী একটি দল। তারা সেই পরাজিত পতিত শক্তির সঙ্গে গোপনে আঘাত করে বিএনপি’র বিরুদ্ধে এক যুগে ষড়যন্ত্র করছে। এবং ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সম্পাদক, আমার দিন।